জামিন না দিয়ে ডা. মিলিকে চার সপ্তাহের মধ্যে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
Published : 05 Jul 2023, 04:16 PM
কুমিল্লার গৃহবধূ মাহবুবা রহমান আঁখি এবং তার নবজাতক সন্তানের মৃত্যুর মামলায় ঢাকার সেন্ট্রাল হাসপাতালের চিকিৎসক মাকসুদা ফরিদা আক্তার মিলিকে চার সপ্তাহের মধ্যে ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়েছে হাই কোর্ট।
ডা. মিলির আগাম জামিনের আবেদনের ওপর শুনানি করে বিচারপতি মো. জাকির হোসেন ও বিচারপতি বিশ্বজিৎ দেবনাথের বেঞ্চ বুধবার এই আদেশ দেন।
জামিন না দিয়ে ডা. মিলিকে চার সপ্তাহের মধ্যে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে আদেশে। এই চার সপ্তাহের মধ্যে যেন তাকে গ্রেপ্তার বা হয়রানি করা না হয়, সেই নির্দেশনাও দিয়েছে হাই কোর্ট।
আদালতে ডা. মিলির পক্ষে ছিলেন আইনজীবী ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন। আর রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সুজিত চ্যাটার্জি বাপ্পী।
আঁখির স্বামী ইয়াকুব আলী যে মামলা করেছিলেন, ডা. মিলিকেও সেখানে আসামি করা হয়েছে।
কী ঘটেছিল
অস্ত্রোপচার ছাড়া সন্তান জন্ম দিতে নিজের ইচ্ছের কথা স্বামীকে জানিয়েছিলেন কুমিল্লার তিতাস উপজেলার আঁখি। সেজন্য গর্ভে সন্তান আসার পর থেকে ঢাকার সেন্ট্রাল হাসপাতালের প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ সংযুক্তা সাহার চিকিৎসা নেন তিনি।
প্রসবব্যথা উঠলে গত ৯ জুন মধ্যরাতে কুমিল্লা থেকে সেন্ট্রাল হাসপাতালে আঁখিকে নিয়ে আসেন তার পরিবার। আঁখির স্বামী ইয়াকুব আলীর ভাষ্য, প্রসূতিকে ভর্তির সময় চিকিৎসক সংযুক্তা হাসপাতালেই আছেন বলা হলেও আসলে তিনি ছিলেন না।
সেই রাতে ওই চিকিৎসকের সহকারীরা প্রথমে স্বাভাবিকভাবে বাচ্চা প্রসবের চেষ্টা করেন। সে সময় জটিলতা তৈরি হলে অস্ত্রোপচার করা হয়। অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে জন্ম নেওয়া শিশুটি ওইদিনই মারা যায়।
সঙ্কটাপন্ন অবস্থায় আঁখিকে রাজধানীর ল্যাবএইড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ জুন তার মৃত্যু হয়।
ওই ঘটনায় সেন্ট্রাল হাসপাতালে সব ধরনের অস্ত্রোপচার বন্ধ করে দেওয়া হয়। হাসপাতালের চিকিৎসকদের অনলাইনে কোনো ধরনের প্রচারে দেওয়া হয় নিষেধাজ্ঞা।
গাইনি ও প্রসূতি বিভাগের চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. সংযুক্তা সাহা ওই হাসপাতালে আপাতত কোনো বিশেষজ্ঞ সেবা দিতে পারবেন না বলে নির্দেশনা দেয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
এর মধ্যেই চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ এনে ধানমণ্ডি থানায় মামলা করেন আঁখির স্বামী মুহাম্মদ ইয়াকুব আলী। ডা. সংযুক্তা সাহার দুই সহযোগী চিকিৎসক শাহজাদী মুস্তার্শিদা সুলতানা ও মুনা সাহাকে ওই মামলায় গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠায় পুলিশ।
ডা. সংযুক্তা সাহার পাশাপাশি ডা. মিলি এবং চিকিৎসা সহকারী জমির, এহসান ও হাসপাতালের ব্যবস্থাপক পারভেজের নাম রয়েছে আসামির তালিকায়।
সেন্ট্রাল হাসপাতাল তথ্য গোপন করে এবং ভুল চিকিৎসার মাধ্যমে আঁখি ও তার নবজাতক সন্তানকে ‘হত্যা করেছে’দাবি করে বাংলাদেশ মেডিকেল ও ডেন্টাল কাউন্সিলেও (বিএমডিসি) লিখিত অভিযোগ করেছেন ইয়াকুব আলী।
পুরনো খবর
আগাম জামিনের আবেদন নিয়ে সেন্ট্রালের এক চিকিৎসক হাই কোর্টে
অবহেলায় মৃত্যু: আবার সংযুক্তা সাহার ওপর দায় চাপাল সেন্ট্রাল হাসপাতাল
‘বেঁচে থাকার সাহসটুকু হারিয়ে ফেলেছি’: বিএমডিসিতে আঁখির স্বামীর অভিযোগ
চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রতিকারের ব্যবস্থা কতটা কার্যকর?
সংযুক্তা সাহার নামে রোগী ভর্তি হয়নি: সেন্ট্রাল হাসপাতাল
নবজাতক ও মায়ের মৃত্যুর দায় হাসপাতালের: সংযুক্তা সাহা
বাবার কবরের পাশে সন্তানসহ শায়িত আঁখি
আঁখির মৃত্যু অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে, বলছেন ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক