Published : 17 Jun 2026, 09:05 PM
বিভিন্ন আদালতে বিচারাধীন মামলার কারণে শিক্ষক নিয়োগ, পদোন্নতি এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ অন্যান্য প্রশাসনিক পদে নিয়োগ কার্যক্রম আটকে রয়েছে বলে জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
বুধবার সংসদে ৩০০ বিধিতে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, “চার মাস হতে চলল এই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছি। প্রথম সপ্তাহ থেকেই আদালতপাড়ায় এই মামলার জটিলতা নিরসনের জন্য চেষ্টা করেছি। কিন্তু এখন পর্যন্ত আপিল বিভাগ থেকে কোনো কজলিস্টে এগুলো আসছে না।”
এর আগে পয়েন্ট অব অর্ডারে নোয়াখালী-২ আসনের সদস্য জয়নাল আবদিন ফারুক দেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে প্রধান শিক্ষক সংকটের বিষয়টি উত্থাপন করেন।
তিনি বলেন, “আমার নির্বাচনী এলাকা না, সব সংসদ সদস্যের নির্বাচনী এলাকায় প্রাইমারি স্কুলে হেডমাস্টার নেই। আমার এখানে ১৮০টার উপরে প্রাইমারি স্কুল। দুইটা উপজেলায় প্রাইমারি স্কুলে হেডমাস্টার নেই। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন বিষয়ে বিপুলসংখ্যক মামলা থাকায় নিয়োগ কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। আমরা শিক্ষক চাই।”
জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, “শুধু ৩২ হাজার ৫০০ শিক্ষক নিয়োগ নয়, আরও ২ হাজার ৬০০ এবং ১৭ হাজার শিক্ষক নিয়োগের কার্যক্রমও মামলার কারণে আটকে আছে। সারা বাংলাদেশে শিক্ষকের অভাব, সকলেই বলছে। এটি একটি নয়। এরপর এনটিআরসিতে প্রতিষ্ঠান প্রধান নিয়োগ, কলেজের প্রতিষ্ঠান প্রধান নিয়োগ, সেটিও মামলার জটিলতায় ঝুলে আছে।”
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দপ্তরি কাম নাইটগার্ড নিয়োগও একই কারণে আটকে আছে তথ্য দিয়ে মন্ত্রী বলেন, “শিক্ষা খাতে বর্তমানে হাজার হাজার মামলা বিচারাধীন; যা প্রশাসনিক কার্যক্রমকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করছে। ইতোমধ্যে দেশে আরও প্রায় ৩৩ হাজার প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য হয়েছে। সারা দেশে যারা এখনো হেডমাস্টার হতে পারেননি, তারা রিটায়ারমেন্টে চলে যাচ্ছেন।
“এমন বহু শিক্ষক রয়েছেন, যারা প্রধান শিক্ষক হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেও পদোন্নতি পাচ্ছেন না। মামলার জটিলতার কারণে বিষয়গুলো সমাধান করা যাচ্ছে না।”
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক বদলির বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, “এ সংক্রান্ত দায়িত্ব উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে বিকেন্দ্রীকরণ করা হয়েছে। সরকার নিয়োগ ও পদোন্নতি কার্যক্রম এগিয়ে নিতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে। তবে বিচারাধীন মামলাগুলো নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি অর্জন করা কঠিন হয়ে পড়ছে।”