Published : 21 Mar 2026, 03:25 PM
‘প্রত্যাশিত বাংলাদেশ’ গড়ে তুলতে দেশবাসীর দোয়া ও সমর্থন চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যুমনায় শনিবার ঈদের দিন কুটনীতিকসহ সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়ের পরে সংবাদমাধ্যম কর্মীদের মুখোমুখি হন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের এটাই প্রথম ঈদ উদযাপন। সবাইকে ‘ঈদ মোবারক’ জানিয়ে তিনি বলেন, “এই ঈদে আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের কাছে আমরা রহমত চাই যেন আল্লাহ আমাদেরকে সেই রহমত দেন যাতে করে আমরা বাংলাদেশের মানুষের সেই প্রত্যাশিত বাংলাদেশকে ধীরে ধীরে গড়ে তুলতে পারি।
“আজকের এই ঈদের দিনে দেশবাসীর কাছে আমি দোয়া চাই। একই সাথে দেশবাসীর কাছে আমি অনুরোধ জানাবো যে, আপনাদের সহযোগিতা যদি থাকে ইনশাআল্লাহ আপনাদের এই নির্বাচিত সরকার দেশকে আপনাদের চাওয়া অনুযায়ী দেশ গঠনের কাজে সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে চেষ্টা চালিয়ে যাবে।”

এ সময় একাত্তরের শহীদ ও যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং চব্বিশের অভ্যুত্থানে শহীদ ও গণতন্ত্রের যোদ্ধাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান, নিহতদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন প্রধানমন্ত্রী।
তারেক রহমান বলেন, “আজকের দিনে দলমত নির্বিশেষে সকল মানুষ ইনশাল্লাহ ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন।”
দেশের মাটিতে ঈদ উদযাপন নিয়ে তারেক বলেন, ‘‘বহু বছর পরে আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের ইচ্ছায় বাংলাদেশের মানুষের দোয়ায় আমি এবং আমার পরিবার দেশের মাটিতে দেশের মানুষের সাথে ঈদ পালন করতে সক্ষম হয়েছি তার জন্য আমি প্রথমেই আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের দরবারে শুকরিয়া আদায় করছি ।“

‘নির্বিঘ্নে ঈদ উদযাপন’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমি এই দেশের একজন নাগরিক হিসেবে আল্লাহ রব্বুল আলামীনের কাছে দোয়া করি যেন আল্লাহ আমাদেরকে সেই রহমত দেন, এই ঈদে বাংলাদেশের মানুষ যতটা নির্বিঘ্নে বা যতটা শান্তিতে ঈদ উদযাপন করতে সক্ষম হয়েছে।
“ইনশাআল্লাহ ভবিষ্যতের ঈদগুলোতে যেন আরো বেশি শান্তিপূর্ণভাবে আমরা ঈদ উদযাপন করতে সক্ষম হই দেশের সকল শ্রেণিপেশার মানুষকে সঙ্গে নিয়ে।”
জাতীয় ঈদগাহে ঈদের জামাত শেষে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যুমনায় যান প্রধানমন্ত্রী। সেখা তিনি যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ভারত, সৌদি আরবসহ বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত-হাই কমিশনারদের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

এসময় সরকারপ্রধানের পাশে ছিলেন তার স্ত্রী জুবাইদা রহমান, কন্যা জাইমা রহমান, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির।
পরে প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী, সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ ও হাই কোর্টের বিচারপতিদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
এরপর আসেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনসহ কমিশনারা, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, তিনবাহিনী প্রধান, বিজিবি প্রধান, পুলিশ প্রধানসহ সরকারের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের পালা।
এছাড়া বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও প্রধানমন্ত্রীর সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
এরপর বিভিন্ন শ্রেণিপেশার নাগরিকসহ সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন প্রধানমন্ত্রী। এই সময়েও প্রধানমন্ত্রী সঙ্গে তার স্ত্রী ও মেয়ে উপস্থিত ছিলেন।
এদিন প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ পাওয়ার প্রত্যাশায় মানুষের ঢল নামে যুমনায়। ব্যাপক মানুষের উপস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে নিরাপত্তা কর্মীদের বেশ বেগ পেতে হয়। অতিথিদের জন্য যমুনায় ছিল আপ্যায়নের ব্যবস্থাও।