Published : 12 Dec 2025, 02:36 PM
দেশে প্রথমবারের মত সিনথেটিক মাদক ‘এমডিএমবি’র একটি চালান জব্দ করার কথা জানিয়েছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর।
এমডিএমবি নামের এ ধরনের তরল মাদক মূলত ভেপ বা ই সিগারেটের কার্টিজে মিশিয়ে সেবন করা হয়।
শুক্রবার সকালে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে এমডিএমবি উদ্ধারের খবর দেন সংস্থার মহাপরিচালক হাসান মারুফ।
তিনি বলেন, মালয়েশিয়া থেকে এ মাদক সংগ্রহ করে দেশে এনেছে একটি চক্র। ওই চক্রের হোতাসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তারা হলেন- বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী খন্দকার তৌকিরুল কবির তামিম (২৬), মেহেদী হাসান রাকিব (২৬), বেসরকারি চাকরিজীবী মাসুম মাসফিকুর রহমান ওরফে সাহস (২৭) এবং সম্প্রতি ভারত থেকে পড়াশোনা শেষ করে আসা আশরাফুল ইসলাম (২৫)।
তাদের কাছ থেকে ৩৪০ মিলিলিটার এমডিএমবি, গাঁজার চকলেট (সিবিডি ইনফিউজড) এবং ভেপ ডিভাইস উদ্ধার করার কথা বলছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর।
মহাপরিচালক বলেন, “সম্প্রতি বিশ্বজুড়ে তরুণদের মধ্যে ভেপ বা ই সিগারেটের ব্যবহার উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এসবের মধ্যে তামাক বা নিকোটিন ব্যবহার করা হয়, তাতে আইনগত কোনো বাধা নেই। কিন্তু সম্প্রতি এসবের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের এনপিএস ব্যবহারের প্রবণতা বেড়েছে।
“এই পরিপ্রেক্ষিতে ইন্টারন্যাশনাল নারকোটিক্স কন্ট্রোল বোর্ড (আইএনসিবি) অপারেশন ভ্যাপর ৮ নামে বিশ্বব্যাপী গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ শুরু করেছে। এ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে বাংলাদেশেও এ ধরনের মাদকের বিস্তার রোধে নজরদারিতে নামে মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ঢাকার একটি গোয়েন্দা দল। তাদের তৎপরতায় এমডিএমবি জব্দ করা হয় প্রথমবারের মত।”
এই ধরনের কৃত্রিম রাসায়নিক (সিন্থেটিক) মাদক গাঁজা, আফিম বা কোকেনের মত প্রভাব তৈরি করতে পারে। এগুলোকে বলা হচ্ছে ‘ডিজাইনার ড্রাগ’ যা মানবদেহে ইচ্ছেমত বিভিন্নরকম মাদকের প্রভাব তৈরির জন্য গবেষণাগারে উৎপাদন করা হয়।
অনেক দেশে আইনকে পাশ কাটাতেও এ ধরনের রাসায়নিক মাদকের ব্যবহার বাড়ছে। আইনের বইয়ে মাদক হিসেবে এগুলোর উল্লেখ না থাকায় দেশে দেশে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী এগুলোকে চিহ্নিত করছে ‘নিউ সাইকোট্রাপিক সাবস্টেন্স’ বা এনপিএস নামে।
যে এমডিএমবি জব্দ করা হয়েছে, তার কয়েক ফোঁটা ভেপের কার্টিজে ব্যবহার করলেই সাংঘাতিক প্রভাব তৈরি হয় বলে মাদক নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তারা জানাচ্ছেন।
সংবাদ সম্মেলনে মহাপরিচালক বলেন, “অফলাইন ও অনলাইন মার্কেটপ্লেস, সোশ্যাল মিডিয়া এবং ডার্ক ওয়েবে নজরদারি করে খুচরা বিক্রেতা হিসেবে তামিমকে চিহ্নিত করা হয় এবং সোর্স ব্যবহার করে তার কাছে স্যাম্পল অর্ডার করা হয়।
“অর্ডার করা মাদক ডেলিভারির মুহূর্তে গত ১০ ডিসেম্বর মিরপুর পল্লবীতে ২০ মিলি এমডিএমবিসহ প্রথম সরবরাহকারী তামিমকে গ্রেপ্তার করা হয়। তামিমকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ ও তার ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট বিশ্লেষণ করে এই ব্যবসার সাথে সংশ্লিষ্ট মেহেদী হাসান রাকিবের অবস্থান চিহ্নিত করা হয়।”
পরবর্তীতে মিরপুর থেকে ১০ মিলি এমডিএমবিসহ তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। রাকিবের জবানবন্দি ও ডিভাইস বিশ্লেষণ করে দেশের ভেতরে এর সরবরাহকারী চক্রের দুই সদস্য আশরাফ ও সাহসকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ওই দুজনের বাড়ি তল্লাশি করে ৩১০ মিলিলিটার এমডিএমবি এনএসিএ (পাঁচটি কন্টেইনার), গাঁজার চকলেট ও বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করার কথা জানানো হয় সংবাদ সম্মেলনে।
অধিদপ্তর বলছে, মিরপুর সেনপাড়া এলাকার বাসিন্দা আশরাফ জিজ্ঞাসাবাদে ‘স্বীকার করেছেন’, দীর্ঘদিন ধরে তিনি ‘এলিট’ গ্রাহকদের মাঝে এই মাদক সরবরাহ করছিলেন। তিনি মালয়েশিয়া থেকে এটি সংগ্রহ করতেন।