ইরানে থাকা বাংলাদেশিরা এখনও ‘নিরাপদে আছেন’: শামা ওবায়েদ
নিরাপত্তার অভাবে কেউ ফিরতে চাইলে সে ব্যবস্থা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী।
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলার মধ্যে ইরানে থাকা বাংলাদেশিরা নিরাপদে থাকার কথা বলেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ।
নিরাপত্তার অভাবে কেউ ফিরতে চাইলে পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নে তিনি বলেন, “ইরানে আমাদের দুই হাজারের মত বাংলাদেশি আছে, তার মধ্যে বেশ কিছু সংখ্যক শিক্ষার্থী আছে। এখন যা খবর, আজকে পর্যন্ত, তারা নিরাপদে আছে, কোনো অনিরাপদ অবস্থায় তারা নেই।
“এবং আমাদের যে মিশন আছে তেহরানের, তারা কিন্তু তাদের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগে আছে। তো, এখন যদি এমন একটা অবস্থা হয় যে, তাদের একটা লাইফ রিস্ক হচ্ছে বা তাদের নিরাপত্তার কোনো সমস্যা, সেই জায়গায় অবশ্যই, আমাদের মিশন ওখানে কাজ করছে, আমরা তাদেরকে ফিরিয়ে নিয়ে আসব। এই মুহূর্তে যতদূর খবর আমাদের কাছে আছে, তারা নিরাপদে আছে।”
কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত সময়ে যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানিয়ে শামা ওবায়েদ বলেন, “বাংলাদেশ বারবারই বলে আসছে যে, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব যুদ্ধটা বন্ধ হোক।
“এবং যেই অরাজকতা, অস্থিরতা এবং ক্রাইসিস বিরাজ করছে সারা পৃথিবীতে সেটা ডিপ্লোমেসির মাধ্যমে সমাধান হোক। আমরা আশা করতে পারি হবে সেটা।”
মধ্যপ্রাচ্যে থাকা বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তাকে ‘সবচেয়ে গুরুত্ব’ দেওয়ার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “সেই লক্ষ্যে আমাদের মিশনগুলো কিন্তু সপ্তাহে ২৪ ঘণ্টাই কাজ করে যাচ্ছে। আমাদের বাংলাদেশিদের সাথে যোগাযোগ রাখা, তাদের অবস্থা, তারা কোথায় আছেন, নিরাপদ আছে নাকি বা আমাদের সাথে যোগাযোগ করলে আমরা যেন তাৎক্ষণিকভাবে তাদেরকে নিরাপদ জায়গায় নিতে পারি, সেই কাজটাও কিন্তু আমরা করে যাচ্ছি।”
প্রবাসী বাংলাদেশি যারা ফিরতে চাইছেন, তাদেরকে ফেরানার উদ্যোগ নেওয়ার কথা তুলে ধরে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, “যদি কেউ যোগাযোগ করে বা আমাদেরকে যদি বাংলাদেশে রিটার্ন করার ব্যাপারে কোনো আগ্রহ দেখায়, তাৎক্ষণিকভাবে সেই ব্যবস্থাটা আমরা নিচ্ছি।
“যেটার ধারাবাহিকতায় রোজার ঈদের আগের রাতেই আমাদের ১৮৬ জনকে তেহরান থেকে ফেরত আনতে পেরেছি, আইওএমের সহযোগিতায়। সেই জায়গাটা থেকে তো আমরা কাজ করে যাচ্ছি।”
যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেও অনেকের ফেরার সুযোগ না থাকার কথাও বলেন শামা ওবায়েদ।
তিনি বলেন, “যেসব বাংলাদেশি এখন এসব মধ্যপ্রাচ্যের দেশে আছে, তাদের সবার পক্ষে আসা সম্ভব না। যেহেতু তারা বিভিন্ন জায়গায় কাজ করছে, একটা বাধ্যবাধকতার মধ্যে তারা থাকে।
“কিন্তু যারা নিজেদেরকে অনিরাপদ মনে করছে, যারা আসতে চাচ্ছে, তারা যাতে ঠিকমত আসতে পারে বাংলাদেশে, নিরাপত্তার সাথে আসতে পারে, সেটা আমরা দেখছি এবং সেটার জন্য প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় সব কাজ করছে। আমাদের বিমান এবং সিভিল এভিয়েশন কাজ করছে। আমরা চার্টার্ড ফ্লাইটে করে তাদেরকে ফেরত নিয়ে আসব।”
