১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

জয়শঙ্কর এগিয়ে এসে বললেন, আমি আপনাকে চিনতে পেরেছি: পাকিস্তানের স্পিকার

ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে যুদ্ধ শেষে গত মে মাসের পর এটিই দুই দেশের সরকারের নীতি নির্ধারকদের মধ্যে এটিই সর্বোচ্চ পর্যায়ের সাক্ষাৎ।

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 31 Dec 2025, 11:42 PM

Updated : 26 Aug 2026, 05:28 PM

যুদ্ধের পর এই প্রথম ভারত ও পাকিস্তানের সর্বোচ্চ পর্যায়ের নেতাদের দেখা হল ঢাকায়- বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার শেষ যাত্রায়, কুশল বিনিময় করলেন তারা। এসময় কী কথা হয়েছে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে সেই কথপোকথনের একটা বর্ণনা দিয়েছেন পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদের স্পিকার সরদার আয়াজ সাদিক।

চিরবৈরী দুই দেশের নেতাদের দেখা হয় বুধবার ঢাকায় বাংলাদেশে জাতীয় সংসদ ভবনে। সেখানে তারা সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ছেলে তারেক রহমানের সঙ্গে পৃথকভাবে দেখা করে সমাবেদনা জানান।  

পরে সন্ধ্যায় পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের এক্স পাতায় জয়শঙ্করের সঙ্গে সরদার আয়াজের হাত মেলানো ও শুভেচ্ছা বিনিমিয়ের বর্ণনা দেওয়া হয়। পরে সেটি রিপোস্ট করেছেন স্পিকার নিজেই।

এর আগে জাতীয় সংসদ ভবনে তাদের সাক্ষাৎ এবং কুশল বিনিময়ের খবর দিয়েছিল বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর।

পাকিস্তান জাতীয় পরিষদ লিখেছে, বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ পরিদর্শনে বিভিন্ন দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও অতিথিদের উপস্থিতিতে প্রয়াত খালেদা জিয়ার জন্য শোক বইতে সই করেছেন স্পিকার সরদার আয়াজ।

“ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর জাতীয় পরিষদের স্পিকারের দিকে এগিয়ে আসেন এবং করমর্দন করেন। কথপোকথনের সময় জয়শঙ্কর নিজের পরিচয় দেন এবং স্পিকারকে বলেন, তিনি তাকে চিনতে পেরেছেন।”

এক্স পোস্টে বলা হয়, “এটি ২০২৫ সালের মে মাসে পাকিস্তান-ভারত সংঘাতের পর ভারতের দিক থেকে শুরু করা প্রথম কোনো উচ্চ পর্যায়ের উল্লেখযোগ্য মিথষ্ক্রিয়া।

“এই বলা গুরুত্বপূর্ণ যে, অতর্কিত আগ্রাসন ও উত্তেজনা প্রতিরোধে সংলাপ, সংযম এবং সহযোগিতাপূর্ণ পদক্ষেপের কথা পাকিস্তান অব্যাহতভাবে বলে আসছে। যার মধ্যে শান্তি আলোচনা ও পেহেলগামে পাতানো ঘটনার অভিযোগের যৌথ তদন্তের বিষয়ও রয়েছে।”

ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে যুদ্ধ শেষে গত মে মাসের পর এটিই দুই দেশের সরকারের নীতি নির্ধারকদের মধ্যে এটিই সর্বোচ্চ পর্যায়ের সাক্ষাৎ।

চিরবৈরী দুদেশের সরকারি পর্যায়ের ব্যক্তিদের মধ্যে এমন চিত্র সাম্প্রতিক সময়ে বিরল। চলতি বছরের এপ্রিলে কাশ্মীরে সন্ত্রাসী হামলার পর দুদেশের মধ্যে বিরোধ পৌঁছায় চূড়ান্ত মাত্রায়।

আগের দিন মঙ্গলবার ঢাকায় মারা যান বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। তাকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে ভারত ও পাকিস্তানের এই দুই নেতার পাশাপাশি অন্যান্য দেশের নেতারাও ঢাকায় আসেন।

পাকিস্তানের স্পিকারের পাশাপাশি ভুটানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডি এন ধুংগিয়েলের সঙ্গে জয়শঙ্করের কুশল বিনিময়ের দুটি ছবিও প্রকাশ করেছে প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর।

চলতি বছর এপ্রিলের যুদ্ধ শেষে মে মাসের পর চিরবৈরী দেশ দুটোর শীর্ষস্থানীয় এই দুই নেতার সাক্ষাতের ছবি ও কুশল বিনিময়ের খবর উভয় দেশের সংবাদমাধ্যমেও এসেছে।

যুদ্ধের সময় তৈরি হওয়া উত্তাপ এখনও বজায় রয়েছে দুই দেশের মধ্যে। সেই থেকে তাদের শীর্ষস্থানীয় কোনো নেতা বা উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের বৈঠক বা দেখা সাক্ষাৎ হয়নি।

ভারত শাসিত কাশ্মীরের পেহেলগামে ওই সন্ত্রাসী হামলায় ২৬ বেসামরিক নিহত হওয়ার পরই দেশটির সঙ্গে প্রতিবেশী পাকিস্তানের উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।

হামলার জন্য পাকিস্তানকে দায়ী করে ভারত। ইসলামাবাদ কোনো ধরনের সংশ্লিষ্টতা থাকার অভিযোগ অস্বীকার করলেও নয়া দিল্লি জবাব দেওয়ার প্রত্যয় জানায়।

এরই সূত্র ধরে মে মাসে দুই দেশ কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে। চার দিনের এ সংঘর্ষে দুই পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও যুদ্ধবিমান ব্যবহার করে। পরে ডনাল্ড ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতি ঘোষণায় সংঘাত থামে।

এ যুদ্ধবিরতির পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা ইসলামাবাদ স্বীকার করে এলেও নয়া দিল্লি বলছে, কোনো মধ্যস্থতাকারী নয়, বিবদমান দুই পক্ষের সেনাবাহিনীর মধ্যে প্রত্যক্ষ যোগাযোগের পর সংঘাতে বিরতি এসেছে।

ওই সংঘাতের প্রেক্ষাপটে ১৯৬০ সাল থেকে চলে আসা সিন্ধু পানি চুক্তি একতরফাভাবে স্থগিত করে ভারত। আর কখনোই ইসলামাবাদের সঙ্গে এই সিন্ধু পানি চুক্তি পুনর্বহাল না করার কথা জানিয়েছে দেশটি।

ওই সংঘাতের পর দুই প্রতিবেশী দেশের রাজনৈতিক সম্পর্ক তলানিতে যাওয়ার সেই ধাক্কা ক্রিকেট মাঠে এসেও লাগে। সেপ্টেম্বরে এবারের এশিয়া কাপে পাকিস্তানকে তিনবার হারিয়ে ট্রফি জিতে নেয় ভারত।

দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর তিন ম্যাচে পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের সঙ্গে ভারতীয় ক্রিকেটাররা হাত না মেলানো থেকে শুরু করে নানা ঘটনাপ্রবাহে আসরজুড়ে উত্তাপ ছড়ায়।

এরপর এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের (এসিসি) সভাপতি হিসেবে থাকা পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) চেয়ারম্যান মহসিন নাকভির কাছ থেকে ট্রফি ও মেডেল নিতে অস্বীকৃতি জানায় ভারতীয় দল।

শেষ পর্যন্ত ট্রফি ছাড়াই সংযুক্ত আরব আমিরাত ছাড়তে হয় তাদেরকে। যে জটিলতার সমাধান হয়নি এখনও।

এরপর মেয়েদের বিশ্বকাপেও হাত মেলাননি ভারত ও পাকিস্তানের ক্রিকেটাররা। এসিসির রাইজিং স্টার্স এশিয়া কাপেও দেখা যায় একই দৃশ্য।

ডিসেম্বরে অনূর্ধ্ব-১৯ এশিয়া কাপেও টসের সময় করমর্দন করেননি চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দুই দলের অধিনায়ক আয়ুশ মাত্রে ও ফারহান ইউসাফ।

এর মধ্যে ব্যতিক্রম দেখা গেছে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের উদ্বোধনী আসরে। সেখানে ভারত ও পাকিস্তানের খেলোয়াড়রা একে অপরের সঙ্গে করমর্দন করেন।

রাজনৈতিক টানাপোড়েন উপেক্ষা করে ক্রীড়াসুলভ মনোভাব দেখানোর এই দৃশ্য ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী-পাকিস্তানের স্পিকারের দেখাকুশল বিনিময়

তারেকের সঙ্গে দেখা করে ভারতের শোকবার্তা দিলেন জয়শঙ্কর

তারেক রহমানের সঙ্গে দেখা করে শোক জানালেন পাকিস্তানের স্পিকার