গভীর নিম্নচাপটি ঘূর্ণিঝড় হওয়ার পথে, নজর অন্ধ্রের দিকে

ঘূর্ণিঝড়ের রূপ পাওয়ার পর এ ঘূর্ণিবাত্যা মঙ্গলবার দুপুর থেকে সন্ধ্যার মধ্যে ভারতের দক্ষিণ অন্ধ্রপ্রদেশের উপকূল অতিক্রম করতে পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক
Published : 2 Dec 2023, 07:01 PM
Updated : 2 Dec 2023, 07:01 PM

দক্ষিণপশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও আশপাশের এলাকায় অবস্থানরত গভীর নিম্নচাপটি ঘূর্ণিঝড়ের রূপ নিয়ে আগামী মঙ্গলবার ভারতের অন্ধ্র উপকূল অতিক্রম করতে পারে।

এ ঘূর্ণিবায়ুর চক্রের সম্ভাব্য যে গতিপথ, তাতে বাংলাদেশের দিকে আসার শঙ্কা দেখছে না আবহাওয়া অধিদপ্তর।

আবহাওয়াবিদ মো. আবুল কালাম মল্লিক বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “ঘূর্ণিঝড়টি দক্ষিণ অন্ধ্র উপকূল অতিক্রম করতে পারে আগামী মঙ্গলবার দুপুর ১২টা থেকে সন্ধ্যার মধ্যে। তবে এটি আমাদের দিকে আসার কোনো সম্ভাবনা নাই।” 

গত ২৮ নভেম্বর দক্ষিণ আন্দামান সাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হয়, যা ধীরে ধীরে শক্তি সঞ্চয় করে সুস্পষ্ট লঘুচাপ, নিম্নচাপ দশা পেরিয়ে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে।

আরো ঘনীভূত হয়ে শেষ পর্যন্ত ঘূর্ণিঝড়ের রূপ নিলে এর নাম হবে মিগযাউম (Michaung, উচ্চারণ Migjaum), যা মিয়ানমারের দেওয়া নাম।

আরব সাগর ও বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড়ের নাম দেয় বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার সাইক্লোন সংক্রান্ত আঞ্চলিক সংস্থা এসকাপ। এ অঞ্চলের ১৩টি দেশের দেওয়া নামের তালিকা থেকে পর্যায়ক্রমে নতুন ঘূর্ণিঝড়ের নাম ঠিক করা হয়।

আবুল কালাম মল্লিক বলেন, বাংলাদেশের দিকে না এলেও সম্ভাব্য এ ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে আগামী মঙ্গলবার দেশের উপকূলীয় এলাকায় বৃষ্টিপাত হবে।

“খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টিপাত হতে পারে। তবে রাজশাহী ও রংপুরের দিকে বৃষ্টিপাত হওয়ার সম্ভাবনা নেই। সিলেটের দিকে সামান্য হতে পারে।”

আবহাওয়ার বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গভীর নিম্নচাপটি শনিবার সন্ধ্যা ৬টায় চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ১৫৬৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ১৫১০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, মোংলা সমুদ্র বন্দর থেকে ১৪৫০ কিলোমিটার দক্ষিণে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ১৪৪৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণপশ্চিমে অবস্থান করছিল।

ওই সময় গভীর নিম্নচাপ কেন্দ্রের ৪৮ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ৫০ কিলোমিটার যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত বাড়ছিল।

গভীর নিম্নচাপ কেন্দ্রের আশপাশে সাগর উত্তাল থাকায় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরকে ১ নম্বর দূরবর্তী হুঁশিয়ারি সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

সাগর উত্তাল থাকায় উত্তর বঙ্গোপসাগর ও গভীর সাগরে অবস্থানরত সকল মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।

ভারতীয় আবহাওয়া অফিস বলছে, বর্তমান অবস্থান থেকে পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে হতে আরও ঘনীভূত হবে এ গভীর নিম্নচাপ। রোববার সকাল নাগাদ পরিণত হতে পারে ঘূর্ণিঝড়ে। উত্তরপশ্চিম দিকে এগিয়ে পরদিন দুপুর নাগাদ দক্ষিণ অন্ধ্র প্রদেশ ও তামিলনাড়ু উপকূলের উত্তর অংশে পশ্চিমমধ্য বঙ্গোপসাগরে পৌঁছাতে পারে এ ঘূর্ণিবাত্যা। 

তারপর ভারতীয় উপূকল রেখার মোটামুটি সমান্তরালে উত্তরপশ্চিম দিকে এগিয়ে মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে নেল্লোর ও মাচিলিপত্তমের মাঝামাঝি এলাকা দিয়ে দক্ষিণ অন্ধ্র উপকূল অতিক্রম করতে পারে সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড় মিগযাউম।

তখন ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের কাছে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ হতেপারে ঘণ্টায় ৮০-৯০ কিলোমিটার, যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ১০০ কিলোমিটার পর্যন্ত বাড়তে পারে।

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্টি হওয়া সবশেষ ঘূর্ণিঝড় ‘মিধিলি’ গত ১৭ নভেম্বর দুপুরে ঘণ্টায় ৮৮ কিলোমিটার গতির বাতাসের শক্তি নিয়ে খেপুপাড়ার কাছ দিয়ে বাংলাদেশ উপকূলে আঘাত হানে। তাতে গাছপালা ও ফসলের ক্ষতি ছাড়াও মৃত্যু হয় নয়জনের।