ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশ্নে আনার হত্যা ও বেনজীর প্রসঙ্গ, আলোচনা
“জীবন ও সমাজে যা ঘটছে, তা নিয়ে প্রশ্ন করতে হবে এবং বুঝতেও হবে,” বলেন কোর্স শিক্ষক।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি পরীক্ষার প্রশ্নে বাংলাদেশের সমসাময়িক আলোচিত দুটি বিষয় উঠে আসায় আলোচনা চলছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে; প্রশ্নপত্র ফেইসবুকে শেয়ার করে প্রশ্নকারী শিক্ষকের প্রশংসাও করছেন অনেকে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের স্নাতকোত্তরের প্রথম সেমিস্টারে ৫০২ নম্বর কোর্সের মিডটার্ম পরীক্ষা হয় সোমবার। সেখানে এমপি আনোয়ারুল আজীম আনার হত্যা ও পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক বেনজীর আহমেদের দুর্নীতির প্রসঙ্গ তুলে ধরে সমাজবিজ্ঞানীদের তত্ত্বে ব্যাখ্যা করতে বলা হয়।
‘থিওরিস অব সোশ্যাল চেঞ্জ: ফ্রম মর্ডানিটি টু পোস্ট-মর্ডানিটি’ নামের ওই কোর্সটি পড়িয়ে থাকেন, বলেন অধ্যাপক এ আই মাহবুব উদ্দিন আহমেদ।
‘হানি-ট্র্যাপে বাংলাদেশের সংসদ সদস্য, ৫ কোটির বিনিময়ে রক্তাক্ত খুন: পুলিশ’ শিরোনামে আনার হত্যার খবরের কিছু অংশ তুলে দেওয়া হয় প্রশ্নে। এ ঘটনাটিকে মার্কস, ফ্রয়েড, মার্কুস ও হার্ভের তত্ত্বের আলোকে বিশ্লেষণ করতে বলা হয়।
দ্বিতীয় প্রশ্নে ‘বেনজীরের দুর্নীতি: সরকারের মনোভাব, দুদকের সক্রিয়তা কী বার্তা দেয়’ শিরোনামে আরেকটি খবরের কিছু অংশ তুলে দিয়ে মার্ক্স ও হার্ভের তত্ত্ব অনুযায়ী বাংলাদেশে সম্পদ বা পুঁজি আহরণের প্রক্রিয়া বিশ্লেষণ করতে বলা হয়।
পরীক্ষা শেষে ওই প্রশ্নের প্রশংসা করে ফেইসবুকে পোস্ট করেন বিভাগের এক শিক্ষার্থী। এরপর সেটি ছড়িয়ে পড়ে।
বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থীর নূর হোসেন সাজ্জাদ তার ফেইসবুকে আইডিতে লিখেন, “এ আই মাহবুব স্যারের মিডটার্মের এমন প্রশ্ন নতুন কিছু নয়। স্যার সবসময় মিডটার্মে সমসাময়িক বিষয়কে ভিত্তি করে প্রশ্ন করেন এবং শিক্ষার্থীদের চিন্তা-ভাবনার জগতে প্রবলভাবে নাড়া দেন। মুখস্থবিদ্যা পরিহার করে বিশ্লেষণধর্মী লেখায় শিক্ষার্থীদের অভ্যস্ত করেন।
“স্যারের লেকচারগুলোই আমাদেরকে ভাবনার জগতে ঢুকিয়েছে। ঘটনাবহুল সমাজ জীবনের ঘটনাগুলোকে পরখ করে দেখার জন্য ‘নয়া লেন্স’ (তত্ত্ব) দিয়েছে। আর মনটাকে বানিয়েছে অনুসন্ধিৎসু।”
ঝিনাইদহ-৪ আসনের তিনবারের সংসদ সদস্য আনার কালীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি। গত ১১ মে তিনি চিকিৎসার জন্য ভারতে যান। প্রথমে কলকাতার বরাহনগরে তার বন্ধু স্বর্ণ ব্যবসায়ী গোপাল বিশ্বাসের বাড়িতে ওঠেন। কিন্তু সেখান থেকে বেরিয়ে নিখোঁজ হন। এরপর স্থানীয় থানায় জিডি করেন গোপাল বিশ্বাস। তদন্ত শুরু হয় দুই দেশে। ২২ মে সকালে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে খবর আসে, নিউ টাউনের এক বাড়িতে খুন হয়েছেন এমপি আনার।
অপরদিকে সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার পর সাবেক আইজিপি বেনজীরের অবৈধ সম্পদের খোঁজে অনুসন্ধান করছে দুদক। তার ও পরিবারের সদস্যদের সম্পদ জব্দেরও আদেশ দিয়েছে আদালত। অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে দুদক বেনজীরকে ৬ জুন এবং তার স্ত্রী ও সন্তানদের ৯ জুন সংস্থাটির কার্যালয়ে হাজির হয়ে বক্তব্য দিতে বলেছে।
এদিকে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন বলছে, আদালতের আদেশ আসার আগেই বেনজীর ব্যাংক থেকে তার বেশিরভাগ অর্থ তুলে নিয়েছেন। এরপর দেশ ছেড়ে যান। বেনজীর দেশে আছেন কি না, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে অস্পষ্টতা।
সমকালীন এ দুটি বিষয় একাডেমিক পরীক্ষার প্রশ্নে তুলে আনার বিষয়ে জানতে চাইলে অধ্যাপক মাহবুব উদ্দিন আহমেদ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমি সমাজ পরিবর্তনের কোর্স পড়াই। সমাজ পরিবর্তনের কতগুলো থিওরি আছে। নিউলিবারিলিজমে সমাজ পরিবর্তন কীভাবে ঘটে, মানুষকে শোষণ করে সম্পদ কীভাবে আহরণ করে; চোরাকারবারি, ক্ষমতার অপব্যবহার করে সম্পদ আহরণ করে, এই কারণেই আমার প্রশ্নটা করা।”
সময়সাময়িক বিষয় নিয়ে এর আগেও কোর্সের পরীক্ষায় প্রশ্ন করেন মাহবুব উদ্দিন আহমেদ।
তার ভাষ্য, “এবারই যে প্রথম এমন প্রশ্ন করেছি, তা নয়। গত ২০ বছর ধরেই এমন প্রশ্ন করি। পি কে হালদার, পরীমনির ওপরও আমি এ রকম প্রশ্ন করেছি। সমাজ পরিবর্তন হচ্ছে। জীবন ও সমাজে যা ঘটছে, তা নিয়ে প্রশ্ন করতে হবে এবং বুঝতেও হবে।”
পুরনো খবর
