Published : 12 Mar 2026, 12:13 AM
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ অধিবেশনের শুরুতেই তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশটি আইনে পরিণত করার দাবি জানিয়েছে তামাক বিরোধী সংগঠন— অ্যান্টি টোব্যাকো মিডিয়া অ্যালায়েন্স (আত্মা) ও প্রগতির জন্য জ্ঞান (প্রজ্ঞা)।
বুধবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে সংগঠন দুটির পক্ষ থেকে এ দাবি জানানো হয়।
ধুমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) অধ্যাদেশ ২০২৫ গত বছর ডিসেম্বরে অন্তর্বর্তী সরকার জারি করে।
সংবাদ সম্মেলনে জনকণ্ঠের জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক কাওসার রহমান বলেন, নিয়ম অনুযায়ী, সংসদের প্রথম অধিবেশনে উপস্থাপনের ৩০ দিনের মধ্যে পাস না হলে অধ্যাদেশটি কার্যকারিতা হারাবে।
"জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় অধ্যাদেশটি আইন আকারে পাস করা প্রয়োজন।"
ডেইলি টাইমস অব বাংলাদেশের জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক মনির হোসেন লিটন বলেন, "এই অধ্যাদেশ যেন আইনে পরিণত না হয়, সেজন্য তামাক কোম্পানিগুলো তাদের তৎপরতা শুরু করেছে। তারা নানা কূটকৌশল নিয়েছে। এ ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে।"
সংবাদ সম্মেলনে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রজ্ঞার তামাক নিয়ন্ত্রণ বিষয়ক প্রকল্প প্রধান হাসান শাহরিয়ার।
তিনি বলেন, ২০০৩ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন অন টোব্যাকো কন্ট্রোল স্বাক্ষরকারী প্রথম দেশ বাংলাদেশ। আর এর ধারাবাহিকতায় তৎকালীন সরকার ২০০৫ সালে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন প্রণয়ন করে।
"এবারও বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহারে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় তামাক ব্যবহারজনিত অসংক্রামক রোগ (ক্যানসার, স্ট্রোক, হৃদ্রোগ, ফুসফুসের ব্যাধি ) নিয়ন্ত্রণের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে। একই সঙ্গে তামাক ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় আইনি উদ্যোগ ও অন্যান্য কার্যক্রম গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।"
আত্মার কো-কনভেনার নাদিরা কিরণের সঞ্চালনায় সংবাদ সম্মেলনে আরো বক্তব্য রাখেন প্রজ্ঞার নির্বাহী পরিচালক এবিএম জুবায়ের, আত্মার কনভেনর মর্তুজা হায়দার লিটন ও কো-কনভেনর মিজানুর রহমান চৌধুরী।
গত বছর অন্তর্বত্তী সরকারের জারি করা অধ্যাদেশে তরুণ প্রজন্মকে নিকোটিন আসক্তি থেকে রক্ষায় ই-সিগারেট, ভ্যাপ ও হিটেড টোব্যাকো প্রোডাক্ট প্রভৃতির উৎপাদন, আমদানি, বিপণন ও ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়।
একই সঙ্গে নারী ও শিশুসহ অধূমপায়ীদের পরোক্ষ ধূমপানের মারাত্মক ক্ষতি থেকে বাঁচাতে সকল পাবলিক প্লেস ও পাবলিক পরিবহনে ‘ধূমপানের জন্য নির্ধারিত স্থান’ বা ডিএসএ রাখার বিধান কার্যত বাতিলের মাধ্যমে শতভাগ ধূমপানমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা হয়।
পাশাপাশি শিশু-কিশোরদের সুরক্ষায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল ও খেলাধুলার স্থানের ১০০ মিটারের মধ্যে তামাক বিক্রি নিষিদ্ধ করার বিধান যুক্ত করা এবং ধূমপান নিরুৎসাহিত করতে বিক্রয়স্থলে তামাকপণ্য প্রদর্শন নিষিদ্ধসহ তামাকজাত দ্রব্যের বিজ্ঞাপন, প্রচার ও পৃষ্ঠপোষকতার ওপর পূর্ণাঙ্গ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয় অধ্যাদেশে।