Published : 28 Aug 2025, 10:52 AM
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিয়ে প্রশিক্ষণ কর্মসূচি শুরু হচ্ছে।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন শুক্রবার এ প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন।
সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ধাপে ধাপে কেন্দ্রীয় ও মাঠ পর্যায়ে ৯-১০ লাখ লোকবলের এ প্রশিক্ষণ হবে। সেজন্য সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় শত কোটি টাকা।
রোজার আগে ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে। তার আগে ডিসেম্বরের প্রথমার্ধে তফসিল ঘোষণা করবে ইসি।
ভোট প্রস্তুতির সার্বিক অগ্রগতি ও তফসিলের আগের-পরের এক গুচ্ছ কাজের সময়ভিত্তিক কর্মপরিকল্পনাও করা হয়েছে।
এর অংশ হিসেবে আগামী কয়েক মাসে কোর ট্রেইনার ও প্রশিক্ষকদের থেকে শুরু করে ভোটে সম্পৃক্ত সব ধরনের লোকবলকে প্রশিক্ষণের আওতায় আনা হবে।
ইসির নির্বাচনী প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের (ইটিআই) মহাপরিচালক এসএম আসাদুজ্জামান বলেন, আগারগাঁওয়ের ইটিআই ভবনে শুক্রবার থেকে দুই ব্যাচে কোর ট্রেইনারদের প্রশিক্ষণ শুরু হবে।
“এরপর সেপ্টেম্বরের শুরুতে নির্বাচন ব্যবস্থাপনার ওপর প্রশিক্ষকদের প্রশিক্ষণ শুরু হবে। ধাপে ধাপে আগামী কয়েক মাস ধরে কেন্দ্রীয়ভাবে ও মাঠ পর্যায়ে এ কর্মসূচি চলবে।”
গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও), অন্যান্য আইন, নির্বাচন পরিচালনা বিধি, আচরণবিধি, নীতিমালাসহ ভোটের যাবতীয় দিক নির্দেশনা, করণীয় বিষয়গুলো তুলে ধরা হয় প্রশিক্ষণে।
তার আগে নির্বাচনী আইন-বিধি সংস্কার শেষে ইসির নির্বাচনি ম্যানুয়ালও প্রস্তুত হয়ে যাবে।
এই কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে বিদ্যমান আইন ও বিধিমালা অনুযায়ী। সংশোধন হলে সেগুলো নিজ দায়িত্বে রপ্ত করার নির্দেশনা দেওয়া হবে।
আসাদুজ্জামান জানান, রাজনৈতিক দলগুলোর পোলিং এজেন্টদেরও প্রশিক্ষণ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
নির্বাচনি আইন ও বিধিমালা অনুযায়ী দায়িত্ব, কর্তব্য ও করণীয় বিষয়ে সচেতনতা তৈরির জন্য প্রতিটি দলের ৫-১০ করে ‘মাস্টার ট্রেইনার’ তৈরি করা হবে। তারা দলীয় পোলিং এজেন্টদের প্রশিক্ষণ দেবেন।
প্রায় ১১ হাজার রাজনৈতিক কর্মীকে ‘মাস্টার ট্রেইনার’ হিসাবে প্রশিক্ষণ দেওয়া হতে পারে।

নির্বাচন পরিচালনায় সম্পৃক্তদের প্রশিক্ষণ
>> কোর ট্রেইনার: প্রায় ৮০ জন।
>> নির্বাচন ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত প্রশিক্ষকদের প্রশিক্ষণ (টিওটি): ১৫৩৪ জন।
>> উপজেলা/থানা ভিত্তিক টিওটি: ২১০০ জন।
>> নির্বাচন ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত প্রশিক্ষণ: ২২৬ জন।
>> ইলেকটোরাল ইনকোয়ারি কমিটির ব্রিফিং-প্রশিক্ষণ: ৩০০ জন।
>> জুম অ্যাপে নির্বাহী হাকিমদের প্রশিক্ষণ: ৮০০ জন।
>> অনলাইন সাবমিশন সিস্টেম (ওএনএসএস) বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা: ৫৭৫ জন।
>> অনলাইন সাবমিশন সিস্টেম (ওএনএসএস) তৃতীয় শ্রেণীর কর্মচারি: ৫০০ জন।
>> তথ্য প্রযুক্তি বিভাগের মাঠ পর্যায়ের সহকারী প্রোগ্রামারদের প্রশিক্ষণ: ৬৫০ জন।
>> অনলাইন সাবমিশন সিস্টেম (ওএনএসএস): ১৭০০ জন।
>> এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের ব্রিফিং-প্রশিক্ষণ: ১১৮৮ জন।
>> জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের প্রশিক্ষণ/ব্রিফি : ৬৬৩ জন (সম্ভাব্য)।
>> রেজাল্ট ম্যানেজমেন্ট (আরএমএস): ৫৯৬ জন।
>> রিটার্নিং অফিসারদের নির্বাচন ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত ব্রিফিং-প্রশিক্ষণ: ৭২ জন।
>> সহকারী রিটার্নিং অফিসারদের ব্রিফিং-প্রশিক্ষণ: ৬০০।
>> আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ: ৭৫ জন।
>> নির্বাচনী ব্যবস্থা সম্পর্কে অবহিতকরণ ব্রিফিং/প্রশিক্ষণ: ২৫০ জন।
>> সাংবাদিকদের কেন্দ্রীয় পর্যায়ে প্রশিক্ষণ: ২৪০ জন।
>> দেশি পযবেক্ষক প্রশিক্ষণ-ব্রিফিং: ১০০ জন।
>> মাঠ পর্যায়ে সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষক প্রশিক্ষণ: ৬৩৯০ জন।
>> ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ- ১০ লাখ ৮৯ হাজার।
>> পোলিং এজেন্টদের মাস্টার ট্রেইনার প্রশিক্ষণ: ১০ হাজার ৮৫০ জন।
>> আইন-শৃঙ্খলাবাহিনীর কর্মকর্তাদের ব্রিফিং-প্রশিক্ষণ: ৫০ হাজার।
পুরনো খবর