Published : 24 Aug 2025, 10:53 PM
সম্পর্ক জোরদারের পাশাপাশি দ্বিপক্ষীয় নানা বিষয়ে আলোচনা করেছেন প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস এবং পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ইসহাক দার।
দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য বাড়ানো, যুব বিনিময়, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক বিনিময় সম্প্রসারণ এবং সার্কের মাধ্যমে আঞ্চলিক সহযোগিতা পুনরুজ্জীবিত করার মতো বিষয়ে কথা হয়েছে তাদের মধ্যে।
রোববার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় এক সৌজন্য সাক্ষাতে এ আলোচনা হয় বলে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
উপপ্রধানমন্ত্রী দার প্রধান উপদেষ্টার কাছে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের শুভেচ্ছা পৌঁছে দেন।
প্রধান উপদেষ্টা ইউনূস আন্তরিকতার সঙ্গে তা গ্রহণ করেন এবং প্রধানমন্ত্রী শরিফের সঙ্গে বৈঠকের কথা স্মরণ করেন।
তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী শরিফের সঙ্গে যখনই আমার সাক্ষাৎ হয়েছে, আমরা সার্ক নিয়ে আলোচনা করেছি। আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি এক, আর সার্ক দুই দেশের জন্যই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারে রয়েছে।”
এ সময় তিনি প্রধানমন্ত্রী শরিফ ও পাকিস্তানের জনগণের প্রতিও শুভেচ্ছা জানান।
সহযোগিতার সুযোগ ও বাণিজ্য সম্পর্ক সম্প্রসারণের ওপর জোর দিয়ে উপপ্রধানমন্ত্রী দার বলেন, “আমি মনে করি, দুই দেশের অর্থনীতি পরিপূরক। অনেক খাত রয়েছে, যেখানে আমরা একসঙ্গে কাজ করতে পারি।”
দারিদ্র্য বিমোচন ও কমিউনিটি উন্নয়নে মুহাম্মদ ইউনূসের প্রশংসা করে তিনি বলেন, “বাংলাদেশের সৌভাগ্য যে তাদের এমন একজন সরকারপ্রধান আছেন, যিনি বিশ্বকে অনুপ্রাণিত করেন।”
প্রধান উপদেষ্টা আঞ্চলিক ও দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার সব সম্ভাবনা পুনর্জাগরিত করার গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, দুই দেশের বাণিজ্যে অগ্রগতি প্রয়োজন এবং জনগণের মধ্যে বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের সংযোগ আরও জোরদার করতে হবে।
“আমি সার্ককে উৎসাহিত করি এবং পাকিস্তানসহ অন্যান্য সার্ক দেশের সঙ্গে সম্পর্ককে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হিসেবে দেখি।”
কিছু সংবেদনশীল বিষয় এখনো রয়ে গেছে স্বীকার করে মুহাম্মদ ইউনূস সাংস্কৃতিক বিনিময়সহ সহযোগিতার বিভিন্ন খাতের ওপর গুরুত্ব দেন।
তিনি বলেন, “পাকিস্তানের গায়করা যখন বাংলাদেশে আসেন, সবাই তাদের প্রতিভার প্রশংসা করেন। সেই মনোভাব থেকেই আমাদের এগোতে হবে।”
১৩ বছর পর বাংলাদেশ সফর করা প্রথম পাকিস্তানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী দার জানান, নৌ ও বিমান যোগাযোগসহ সংযোগ বৃদ্ধির উদ্যোগ চলছে।
তিনি বলেন, “অক্টোবরের মধ্যেই আমরা আশা করছি ফ্লাই জিন্নাহ বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে সরাসরি ফ্লাইট চালু করবে। পিআইএ-ও (পাকিস্তান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইন্স) বেসরকারীকরণের পর ঢাকায় সরাসরি ফ্লাইট চালু করবে।”
দুই নেতা আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, বাণিজ্য সম্প্রসারণ, গভীরতর সাংস্কৃতিক বিনিময় এবং আঞ্চলিক সহযোগিতা একটি আরও স্থিতিশীল ও সমৃদ্ধ দক্ষিণ এশিয়া গড়ে তুলতে সহায়ক হবে।
বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিশেষ দূত লুফে সিদ্দিকিও উপস্থিত ছিলেন।