Published : 31 Jan 2026, 07:27 PM
রাজধানীর মুগদা হাসপাতালের গেইটের বাইরে থেকে তিন বছরের এক শিশুকে অপহরণের মামলায় গ্রেপ্তার ব্যাটারির রিকশাচালক চাঁন মিয়া ও তার বাবা মো. নূর মোহাম্মদ ‘দোষ স্বীকার করে’ আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন।
তদন্ত কর্মকর্তা মুগদা থানার এসআই নাজমুল আলমের আবেদনে শনিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাহবুবুর রহমান তাদের জবানবন্দি রেকর্ড করেন।
এরপর চাঁন মিয়া, তার বাবা নূর মোহাম্মদ, মা চাঁন মালা ও মোসাম্মৎ কুলসুম বেগম নামে এক নারীকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন বিচারক।
প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই কাজী জাকির হোসেন এ তথ্য দিয়েছেন।
বুধবার দুপুর ১টার দিকে মুগদা হাসপাতালের গেইটের বাইরে থেকে শিশুটিকে নিয়ে উধাও হন ব্যাটারির রিকশার এক চালক। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার মুগদা থানায় মামলা হয়। ছেলেটির বাবা প্রবাসী, মা-ছেলে ঢাকার সবুজবাগে থাকেন।
অপহরণের খবর ছড়ানোর পর রিকশাচালক চাঁন মিয়াকে গ্রেপ্তার করে তার দেওয়া তথ্যে বৃহস্পতিবার গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করে র্যাব। সেইসঙ্গে চাঁন মিয়ার মা-বাবা আর এক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়।
এ ছাড়া শুক্রবার ভোরে চাঁন মিয়ার ছোটভাই মো. জাকির হোসেনকে (৩৪) উত্তর মান্ডার মাহিমের গ্যারেজ থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। বিকালে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
মামলার বিবরণে বলা হয়, বুধবার সকাল ১১টার দিকে ছেলেকে নিয়ে মুগদা হাসপাতালে যান সুমাইয়া আক্তার। ডাক্তার দেখানো শেষে দুপুর ১টার দিকে ব্যাটারির রিকশা নিয়ে হাসপাতাল প্রাঙ্গণ থেকে মেইন গেইটের সামনের রাস্তায় যান। সেখানে ছেলে পানি চাইলে পাশেই দোকানে পানি কিনতে যান সুমাইয়া। ছেলেকে বসিয়ে রাখেন রিকশাতেই। পানি নিয়ে ফিরে এসে দেখেন ছেলেসহ রিকশাটি উধাও। খোঁজাখুঁজি করে না পেয়ে মুগদা থানায় মামলা করেন।
র্যাব বলছে, শিশুটিকে মুগদা হাসপাতালের সামনে থেকে নিয়ে যাওয়ার পর এক নিকটাত্মীয়ের মাধ্যমে গাইবান্ধায় নিজের বাড়িতে পাঠিয়ে দেন চাঁন মিয়া। তাকে অপহরণের কারণ কী, সেটি এখনো নিশ্চিত নয়।