Published : 20 Dec 2025, 01:57 PM
ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান বিন হাদির কফিন নিয়ে আসা হয়েছে জাতীয় সংসদের সামনে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে। তার জানাজায় অংশ নিতে সেখানে মানুষের ঢল নেমেছে।
সেনা বাহিনী, বিজিবি ও পুলিশের কড়া নিরাপত্তার মধ্যে বেলা সোয়া ১টার দিকে হাদির মরদেহ বহনকারী অ্যাম্বুলেন্স আসাদগেট সংলগ্ন সংসদ ভবনে গেট দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করে।
শনিবার বেলা ২টায় ওসমান হাদির জানাজা পড়াবেন তার বড় ভাই আবু বকর সিদ্দিক। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবরের পাশে তার দাফন হবে।
জানাজায় অংশ নিতে সকাল থেকেই দলে দলে মানুষ আসছিল মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে। দুপুর ১টার দিকেই প্রশস্ত ওই সড়ক কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়।
তাদের কারো মাথায় জাতীয় পতাকা বাঁধা, কেউ আবার গায়ে জড়িয়েছেন পতাকা। অনেকে স্লোগান দিচ্ছিলেন ‘আমরা সবাই হাদি হব যুগে যুগে লড়ে যাব’, ‘হাদি ভাইয়ের রক্ত বৃথা যেতে দেব না’, ‘দিল্লি না ঢাকা, ঢাকা ঢাকা’।
খামারবাড়ি গোল চত্বরের সামনে দিয়ে তাদের মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে ঢোকানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। কাউকে সন্দেহ হলে সেখানে তল্লাশি করা হচ্ছে। তবে এত বিপুল সংখ্যক মানুষকে তল্লাশি করতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

হাদির জানাজায় বাংলাদেশের বাদে অন্য কোনো পতাকা না রাখতে বলেছে ইনকিলাব মঞ্চ।
তাদের ফেসবুক পেইজে এক পোস্টে বলা হয়, “জানাজার নামাজের স্থানে বাংলাদেশের পতাকা ব্যতীত অন্য কোন পতাকা থাকবে না আপনাদেরকে সার্বিক সহযোগিতার আহবান জানিয়েছে তার পরিবার।”
হাদির মৃত্যুর ঘটনায় এদিন জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখাসহ নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রীয় শোক পালিত হচ্ছে।
গত ১২ ডিসেম্বর দুপুর সোয়া ২টার দিকে রাজধানীর বিজয়নগর পানির ট্যাংকির সামনে রিকশায় করে যাওয়ার সময় ওসমান হাদির উপর আক্রমণ হয়। ওই সময় মোটরসাইকেলে করে এসে দুজন তাকে খুব কাছ থেকে গুলি করে পালিয়ে যায়।
পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় দ্রুত তাকে ঢাকা মেডিকেলের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। একপর্যায়ে পরিবারের ইচ্ছায় তাকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। এরপর সেখানে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) তার চিকিৎসা চলে।
পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য সোমবার এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে হাদিকে সিঙ্গাপুর নিয়ে যাওয়া হয়েছিল; সেখানেই বৃহস্পতিবার তার মৃত্যু হয়।
পুরনো খবর
সংসদ ভবনসহ বিভিন্ন অংশে বিজিবি-পুলিশ মোতায়েন
হাদির মৃত্যু: পালিত হচ্ছে রাষ্ট্রীয় শোক