Published : 20 Dec 2025, 09:17 AM
আততায়ীর গুলিতে ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ওসমান হাদির মৃত্যুর ঘটনায় জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখাসহ নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রীয় শোক পালিত হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার রাতে মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পরপরই শনিবার রাষ্ট্রীয় শোক পালনের ঘোষণা দেন প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস।
সকালে সচিবালয়সহ ঢাকার বেশ কয়েকটি সরকারি দপ্তরে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত দেখা যায়। আগের দিন বাদ জুমা দেশের প্রতিটি মসজিদে ওসমান হাদির মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাতের আয়োজন করা হয়। অন্যান্য ধর্মের উপাসনালয়গুলোতেও আয়োজন হয় বিশেষ প্রার্থনার।
শনিবার দুপুর ২টায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় ওসমান হাদির জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এতে যারা অংশগ্রহণ করবেন, তাদেরকে কোনো ধরনের ব্যাগ বা ভারি বস্তু বহন না করার জন্য অনুরোধ জানিয়েছে প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর।
জানাজায় বিপুল লোকসমাগমের সম্ভাবনা রয়েছে উল্লেখ করে ডিএমপি বলেছে, জানাজায় অংশগ্রহণ নির্বিঘ্ন করতে খেজুর বাগান ক্রসিং থেকে মানিক মিয়া অ্যাভেনিউ পর্যন্ত যান চলাচল বন্ধ থাকবে।
ইনকিলাব মঞ্চ এক ফেইসবুক পোস্টে লিখেছে, পরিবারের দাবির ভিত্তিতে তাদের সংগঠনের আহ্বায়ককে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের পাশে সমাহিত করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
ওসমান হাদির কফিন সিঙ্গাপুর থেকে শুক্রবার সন্ধ্যায় ঢাকায় পৌঁছার পর রাখা হয়েছে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের হিমঘরে।
গত ১২ ডিসেম্বর দুপুর সোয়া ২টার দিকে রাজধানীর বিজয়নগর পানির ট্যাংকির সামনে রিকশায় করে যাওয়ার সময় ওসমান হাদির উপর আক্রমণ হয়। ওই সময় মোটরসাইকেলে করে এসে দুজন তাকে খুব কাছ থেকে গুলি করে পালিয়ে যায়।
পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় দ্রুত তাকে ঢাকা মেডিকেলের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। একপর্যায়ে পরিবারের ইচ্ছায় তাকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। এরপর সেখানে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) তার চিকিৎসা চলে।
পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য সোমবার এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে হাদিকে সিঙ্গাপুর নিয়ে যাওয়া হয়েছিল; সেখানেই বৃহস্পতিবার তার মৃত্যু হয়।