২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩

প্রাচ্যনাট স্কুলের রজত জয়ন্তী

গত ২৫ বছরে ৫০টি ব্যাচে আড়াই হাজারের বেশি শিক্ষার্থী প্রাচ্যনাট স্কুল থেকে অভিনয় ও নাট্যরীতির কোর্স সম্পন্ন করেছেন।

প্রাচ্যনাট স্কুলের রজত জয়ন্তী
‘প্রাচ্যনাট স্কুল অব অ্যাক্টিং অ্যান্ড ডিজাইন’ এর শিক্ষার্থীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 28 Jul 2026, 08:30 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:45 PM

নাট্যদল প্রাচ্যনাটের শিক্ষা উদ্যোগ ‘প্রাচ্যনাট স্কুল অব অ্যাক্টিং অ্যান্ড ডিজাইন’ প্রতিষ্ঠার ২৫ বছর পূরণ করেছে। 

এই দীর্ঘ সময়ে ৫০টি ব্যাচের কোর্স সম্পন্ন করে ৫১তম ব্যাচের নিয়মিত কোর্স শুরু করেছে প্রাচ্যনাট স্কুল; যা জুলাই থেকে শুরু হবে, চলবে ডিসেম্বর পর্যন্ত।   

প্রাচ্যনাট এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, ২০০১ সালে যাত্রা করা এ স্কুল ২০২৬ সালের জুলাইয়ে এসে দুই দশক পাঁচ বছর পূর্ণ করল। 

তরুণ প্রজন্মের থিয়েটারপ্রেমীদের জন্য মঞ্চ, টেলিভিশন ও চলচ্চিত্রে অভিনয়ের প্রাথমিক অনুশীলনের পাশাপাশি আলো, পোশাক ও মঞ্চসজ্জার মত কারিগরি নন্দনতত্ত্বে দক্ষ করে তোলাই ছিল এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।

গত ২৫ বছরে আড়াই হাজারের বেশি শিক্ষার্থী প্রাচ্যনাট স্কুল থেকে অভিনয় ও নাট্যরীতির কোর্স সম্পন্ন করেছেন। 

প্রাচ্যনাট বলছে, “প্রথাগত অভিনয় পটভূমির বাইরের তরুণদের অংশগ্রহণ এই স্কুলকে করেছে ব্যতিক্রমী ও বৈচিত্র্যময়। প্রকৌশলী, চিকিৎসক, আইনজীবী, ব্যবসায়ী ও ফ্যাশন ডিজাইনারসহ বিভিন্ন পেশার শিক্ষার্থীরাও এখানে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন।”

স্কুলের ৫১তম ব্যাচের নবীন শিক্ষার্থীরা ৩৮ ঘণ্টার তত্ত্বীয় এবং ৬১ ঘণ্টার ব্যবহারিক ক্লাসের মাধ্যমে নিজেদের প্রস্তুত করবেন। প্রশিক্ষণ শেষে লেকচার ক্লাস, থিয়েটার গেমস, পথনাটক, ইমপ্রোভাইজেশন, মৌলিক ভিডিওগ্রাফি ও মাল্টিমিডিয়া শিক্ষার সমন্বয়ে তারা একটি পূর্ণাঙ্গ মঞ্চনাটক উপহার দেবেন।

বিগত ২৫ বছরে শেক্সপিয়রের ‘রোমিও অ্যান্ড জুলিয়েট’, বের্টোল্ট ব্রেখটের ‘খড়ির গণ্ডি’, সেলিম আল দীনের ‘মুনতাসির’, সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর ‘লালসালু’, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘রক্তকরবী’ ও ‘রথের রশি’ কিংবা শহিদুল জহিরের ‘ডুমুর খেকো মানুষেরা’ ও আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের ‘খোয়াবনামা’র মত কালজয়ী নাটকের সফল মঞ্চায়ন করেছে স্কুলের শিক্ষার্থীরা।

প্রাচ্যনাটের মূল নির্দেশকদের পাশাপাশি প্রাক্তন তরুণ নির্দেশক কাজী তৌফিকুল ইসলাম ইমন, সাখাওয়াত হোসেন রেজভী, রাহুল আনন্দ, শাহানা রহমান সুমি, হীরা চৌধুরী ও মনিরুল ইসলাম রুবেলসহ অনেকেই এসব নাটকের নির্দেশনা দিয়েছেন।

মঞ্চনাটকের পাশাপাশি সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে ২০১১ সাল থেকে নিয়মিত আয়োজিত ‘লালযাত্রা’ কিংবা চলমান পারফরমেন্স ‘শিশুমর্গ’ এর মত পথনাটক ও প্রতিবাদী পরিবেশনাগুলো এই স্কুলের শিক্ষার্থীদের পথচলাতেই গড়ে উঠেছে।

প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে স্কুলের নিজস্ব শিক্ষকমণ্ডলীর পাশাপাশি বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, লেখক, ভয়েস প্রশিক্ষক, ডিজাইনার, চিত্রশিল্পী, সংগীতশিল্পী এবং চলচ্চিত্র নির্মাতারা নিয়মিত ক্লাস ও কর্মশালা পরিচালনা করে আসছেন।