Published : 28 Aug 2025, 06:10 PM
লালন ফকিরের তিরোধানের দিনটিকে (১৭ অক্টোবর) ‘ক’ শ্রেণির জাতীয় দিবস হিসেবে পালন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী।
বৃহস্পতিবার এক ফেইসবুক পোস্টে তিনি সরকারের এ সিদ্ধান্তের কথা জানান।
সিদ্ধান্তটি উপদেষ্টা পরিষদে পাস হয়েছে জানিয়ে ফারুকী বলেন, "আরও কয়েকজন ‘কালচারাল আইকন’ এবং ‘কনটেমপোরারি মাস্টারকে’ নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
"এস এম সুলতানের জন্মদিনকে ‘ক’ শ্রেণির জাতীয় দিবস হিসেবে উদযাপনের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি আলোচনা করেছি, স্বাধীনতা পরবর্তী বাংলাদেশের বড় কালচারাল ‘ফেনোমেনাগুলো’ নিয়ে। যেমন হুমায়ুন আহমেদ। আমার মনে হয় না তাঁর চেয়ে বেশি ইমপ্যাক্ট আমাদের লেখকদের মধ্যে কেউ রাখতে পেরেছেন। আলোচনা করেছি বাংলাদেশী রক আইকন সেলিব্রেট করার বিষয়ে।"
লালন উদযাপন করার মধ্য দিয়ে দিয়ে রবীন্দ্র-নজরুলের বাইরে তাকানোর কথাও বলেন ফারুকী।
তিনি বলেন, "এটা কেবল শুরু। আমি নিশ্চিত সেদিন বেশি দূরে নয়, যখন কনটেমপোরারি মাস্টার আর্টিস্টদেরও আমরা সেলিব্রেট করব রাষ্ট্রীয়ভাবে।"
উদহারণ দিয়ে সংস্কৃতি উপদেষ্টা বলেন, "ধরা যাক, আইয়ুব বাচ্চুর কথাই। বাংলাদেশের এমন কোনো বর্গকিলোমিটার এলাকা পাওয়া যাবে না যেখানে তার গান বাজে নাই। তার মানের মিউজিয়াশিয়ান যে কোনো দেশের জন্যই গর্বের। তাঁর জন্মদিন রাষ্ট্রীয়ভাবে উদযাপন করতে মৃত্যুর কতশো বছর পর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে? দ্য আনসার, মাই ফ্রেন্ড, ইজ ব্লোয়িং ইন দ্য উইন্ড।"
সংস্কৃতি উপদেষ্টার ভাষ্য, "একটা দেশকে ফিজিক্যাল কলোনি বানানোর আগে প্রথম যে কাজটা করতে হয়, সেটা হচ্ছে তাকে ইন্টেলেকচুয়াল কলোনিতে রূপান্তর করা। তাকে প্রতিনিয়ত বোঝানো যে- তোমার কোনো সংস্কৃতি নাই।"
"থাকলেও তোমার সংস্কৃতি লো কালচার। যেমন ধরেন- লালনের গান। হেজেমনিক কালচারের ফ্রেমের সঙ্গে মিলছে না বলে এটাকে হাই আর্ট মানতে পারল না আমাদের উপনিবেশিক মন। ভদ্রসমাজ তখন চিন্তা করল, এটাকে নিয়ে কী করা যায়? সহজ সমাধান হিসেবে, ট্যাগ দিয়ে দিলো ‘ফোক’। মানে মেইনস্ট্রিম না, সাব কালচার। তারপর ধরেন রক মিউজিক। এটা নিয়েও ভদ্রসমাজ বিপদে পড়ে গেলো। একে তো তাদের সেট করা ‘হেজেমনিক ফ্রেমে’ হাই আর্ট হিসেবে ধরা যাচ্ছে না। সহজ সমাধান করল ট্যাগ দিয়ে ‘অপসংস্কৃতি’।"
তিনি বলেন, "এভাবে আমাদের রাষ্ট্র বা এস্টাবলিশমেন্ট চিরকাল আমাদের গৌরবময় ঐশ্বর্যগুলোকে রাষ্ট্রীয় উদযাপন ও স্বীকৃতির বাইরে রেখেছে।"
বাংলাদেশের জনগণের চর্চা এবং অংশগ্রহণে যে সংস্কৃতি আন্তর্জাতিকমানের হয়ে উঠেছে, সেটাকে 'সেলিব্রেট' করা চব্বিশ পরবর্তী সময়ে 'রাষ্ট্রের দায়' বলেও মন্তব্য করেন ফারুকী।
উপদেষ্টা বলেন, "এই সেলিব্রেশন জাতিকে আত্মবিশ্বাসী ও আত্মমর্যাদাপূর্ণ করে তোলে। পাশাপাশি এই সেলিব্রেশন বাইরের দুনিয়ায় আমাদের নিজেদের কালচারাল আইডেন্টিটি তৈরিতে সাহায্য করে।
“এর প্রথম ধাপ হিসেবে আজ কেবিনেটে লালনের তিরোধান দিবসকে ‘ক’ শ্রেণির জাতীয় দিবস ঘোষণা করা হয়েছে।”
‘ক’ শ্রেণির জাতীয় দিবস রাষ্ট্রীয়ভাবে উদযাপন করা হয়। এদিন সরকারি ছুটিও থাকে।