Published : 26 Aug 2025, 07:32 PM
দেশের কর-জিডিপির অনুপাত কমতে কমতে পাকিস্তানের অর্ধেকে নেমে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান।
ঢাকায় মঙ্গলবার বেসরকারি গবেষণা সংস্থা— সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগের (সিপিডি) এক সংলাপে তিনি এ মন্তব্য করেন।
এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, “আমাদের ট্যাক্স টু জিডিপি রেশিও ক্রমাগত কমছে, যেটা খুবই এলার্মিং। পরশু দিন পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে কথা হচ্ছিল। তো উনি বলেন, উনাদের কর-জিডিপির অনুপাত এখন ১২ দশমিক ২ শতাংশ।
“আর আমাদের গত বছর ছিল ৭ দশমিক ৪ শতাংশ। এবার আরও কমে গেছে; ৬ দশমিক ৬ শতাংশ হয়ে গেছে।”
এত কম কর দিয়ে দেশের উন্নয়ন চালু রাখা ও বিদেশি ঋণের অর্থ পরিশোধ করা ‘চ্যালেঞ্জিং’ হয়ে গেছে বলে তুলে ধরেন এনবিআর চেয়ারম্যান।
তিনি বলেন, “এজন্য আমাদের ট্যাক্স আদায় আরও বাড়াতে হবে।”
দেশের অর্থনীতিতে কর ছাড়ের পরিমাণ এতই বেড়ে গেছে যে, এখন আর কর-জিডিপি বাড়ানো যাচ্ছে না বলে মনে করেন তিনি।
ঢাকার একটি হোটেলে এ সংলাপ আয়োজন করে সিপিডি। সেখানে গবেষণার ফল তুলে ধরে প্রতিষ্ঠানটি জানায়, দেশের ভ্যাট ব্যবস্থায় যে পরিমাণ অব্যাহতির সুযোগ রয়েছে এবং যে পরিমাণ কর ফাঁকি দেওয়া হয়, তাতে এনবিআর ২০২২-২৩ অর্থবছরে ১ লাখ ৮৮ হাজার কোটি টাকা ‘হারিয়েছে’ বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, “এখানে অনেক কর ছাড় দেওয়া হয়েছে। কারণ আমাদের বড় দেশ, আমাদের অনেক কর্মীবাহিনী, তাদেরকে কাজ দিতে হবে। ফলে আমরা দেশের বিনিয়োগকারীদের বলেছি, আপনারা আসেন, আপনাদের ট্যাক্স দিতে হবে না। বিদেশিদের বলেছি, আসেন, আপনাদের ট্যাক্স দিতে হবে না।
“এবং ট্যাক্স ছাড়ের পরিমাণটা এত ব্যাপক হয়েছে যে, আমরা কোনোভাবেই কর-জিডিপি অনুপাত বাড়াতে পারছি না।”
কর ফাঁকির বিষয়ে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, “আমাদের জন্য যে পরিমাণ রাজস্ব দরকার, তাতে অবশ্যই আমাদের ‘লিকেজ’ আছে; আমাদের সীমাবদ্ধতা আছে। সেটা যদি আমরা স্বীকার না করি, আমরা কোনোভাবে এগোতে পারব না।
“ফলে রাজস্ব কর্মকর্তা হিসেবে প্রথমেই স্বীকার করতে হবে যে, আমাদের অনেক সমস্যা আছে এবং এসব সমস্যার সমাধান আমাদের একার পক্ষে সম্ভব নয়। আমরা ‘সিস্টেম অ্যান্ড প্রসেস’ ঠিক করব। আমরা একটা স্বচ্ছ কর প্রশাসন করার চেষ্টা করব।”
এনবিআর কর্মকর্তাদের দুর্নীতি কমাতে স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থায় অডিটের কথাও তিনি তুলে ধরেন তিনি।
বলেন, “আমাদের অনেক নির্ভরশীলতা। সেই নির্ভরশীলতার কারণে, আমি এখন পর্যন্ত ভ্যাটের অডিট কিন্তু অটোমেটেড সিলেকশন করতে পারিনি। কিন্তু আমি বলেছি, ভ্যাট অডিট হবে না, বন্ধ। যতদিন পর্যন্ত আমরা অটোমেটিক পদ্ধতিতে সিলেকশন করতে না পারবো, ততদিন অডিট বন্ধ থাকবে। লাগলে কেয়ামত পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। কিন্তু এটা অটোমেটেড করতে হবে।”