Published : 05 Dec 2025, 12:21 AM
চট্টগ্রামের আগ্রাবাদে দুই কাস্টমস কর্মকর্তাকে বহনকারী প্রাইভেট কারে চাপাতি দিয়ে হামলার ঘটনায় মামলা হয়েছে।
গাড়িতে থাকা চট্টগ্রাম কাস্টমসের এআইআর শাখার রাজস্ব কর্মকর্তা (আরও) মো. আসাদুজ্জামান খান চট্টগ্রামের ডবলমুরিং থানায় মামলাটি করেছেন।
বৃহস্পতিবার রাতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড-এনবিআরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এদিন সকাল ১০টা ৩৫ মিনিটে নগরীর ডবলমুরিং থানার আগ্রাবাদ সিডিএ আবাসিক এলাকায় এ হামলা হয় বলে কাস্টমস কর্মকর্তা অভিযোগ করেছেন।
হামলকারীরা এসময় প্রাইভেট কারের কাচও ভাংচুর করে।
গাড়িত থাকা দুজনের অপরজন হলেন-সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা (এআরও) বদরুল আরেফিন।
‘অবৈধ পণ্য খালাসে বাধা দেওয়ায়’ এ হামলা হয়েছে দাবি করে এনবিআরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, “এ দুই কর্মকর্তা দাপ্তরিক কাজে কাস্টমস গোয়েন্দা আঞ্চলিক অফিস হতে কাস্টমস হাউস চট্টগ্রামের নিজস্ব অফিসে আসার পথে আনুমানিক সকাল ১০টা ২০ মিনিটে ডবলমুরিং থানার সিডিএ আবাসিক এলাকায় তিনজন অজ্ঞাতনামা দুষ্কৃতকারী মোটর সাইকেলযোগে এসে তাদের বহনকারী গাড়ির গতিরোধ করে।
“প্রাণনাশের উদ্দেশ্যে চাপাতি দিয়ে আক্রমণ করে এবং লাথি দিয়ে গাড়ির বাম পাশের গ্লাস ভেঙে ফেলে। এ সময় তারা গুলি কর, গুলি কর বলে চিৎকার করতে থাকে। জীবন রক্ষার্থে কর্মকর্তাদ্বয় কৌশলে গাড়ি নিয়ে দ্রুত কর্মস্থলের দিকে চলে আসেন।”
এর পেছনের কী কারণ থাকতে পারে তারও একটা ধারণা তুলে ধরেছে কর আদায়ের সংস্থাটি।
এনবিআরের ভাষ্য, “সম্প্রতি কাস্টমস হাউস, চট্টগ্রাম রাজস্ব ফাঁকি রোধে নিন্মবর্ণিত উল্ল্যেখযোগ্য নিবারক কার্যক্রম গ্রহণ করায় নিষ্ঠাবান কাস্টমস কর্মকর্তাগণ ওই আক্রমণের শিকার হয়েছেন মর্মে ধারণা করা হচ্ছে।”
বিজ্ঞপ্তিতে প্রায় ১০ কোটি টাকা মূল্যের আমদানি নিষিদ্ধ পপি বীজ ও ঘন চিনি আটক এবং গত মে মাসে প্রায় ৩০ কোটি টাকার রাজস্ব সংশ্লিষ্ট নিষিদ্ধ সিগারেটের একটি পণ্যচালান আটকের তথ্য তুলে ধরা হয়।
এনবিআর বলছে, চট্টগ্রাম বন্দরের বিভিন্ন শেড কেন্দ্রিক এক পণ্যের আড়ালে অন্য পণ্য খালাস নেওয়ার জালিয়াত চক্র মিথ্যা ঘোষণার মাধ্যমে আনা প্রসাধনী পণ্যের চালান আটক করার পর হুমকি পান আক্রান্ত রাজস্ব কর্মকর্তা।
সংস্থা বলছে, গত ৫ অক্টোবর আনুমানিক বিকাল সাড়ে ৪টায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি ওই রাজস্ব কর্মকর্তার ব্যক্তিগত হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে ফোন করে ভয়-ভীতি দেখান এবং প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। এ ঘটনায় বন্দর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছিল।
হামলা ও হুমকির ঘটনায় এনবিআর ‘তীব্র ক্ষোভ ও ঘৃণা’ প্রকাশ করে ‘সৎ ও নিষ্ঠাবান রাজস্ব কর্মকর্তাদের সব ধরনের নিরাপত্তা দেওয়ার অঙ্গীকার করেছে।
ঘটনার পর রাজস্ব কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান খান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে একই বিবরণ তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, “আমরা দুইজন প্রাইভেট কারে করে বাসা থেকে অফিসে যাচ্ছিলাম। সিডিএ আবাসিক এলাকায় সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মোটর সাইকেলে করে তিনজন দুর্বৃত্ত এসে গাড়ি আটকে কোনো কারণ ছাড়াই চাপাতি দিয়ে জানালার কা ভাঙচুর করে।
“এসময় তারা ‘গুলি কর, গুলি কর’ বলে হুমকি দিয়ে জানালার কাচ ভাঙচুর করে। আমরা গাড়ি থেকে নেমে কোনোরকমে পালিয়ে অলিগলি দিয়ে পালিয়ে প্রাণরক্ষা করি।”
হামলাকারীদের কাউকে চিনতে পারেননি বলে দাবি করেন তিনি।
ডবলমুরিং থানার ওসি বাবুল আজাদ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “ঘটনা শুনে আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। আশেপাশের সিসি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা গেছে, বাইকে করে এসে দুই ব্যক্তি প্রাইভেট কার থামায়। এসময় কারের যাত্রী আসনের বাম পাশের জানালায় লাথি দিয়ে গ্লাস ভেঙে ফেলে।
“প্রাথমিকভাবে দেখে মনে হচ্ছে, পূর্ব বিরোধের কারণে হামলা হয়েছে। জেনেছি তারা আগে বন্দর থানায় জিডি করেছিল।”
আগের খবর:
চট্টগ্রামে কাস্টমস কর্মকর্তাদের বহনকারী গাড়িতে চাপাতি হামলা