Published : 29 Jul 2023, 12:42 AM
চলতি বছর মাধ্যমিকে পাসের হার কমেছে ৭ দশমিক ০৫ শতাংশ পয়েন্ট, পূর্ণাঙ্গ জিপিএ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে ৮৬ হাজার ২৪ জন।
পরীক্ষা পদ্ধতি মহামারীর আগের ধারায় ফিরে যাওয়ায় পাসের হার ও জিপিএ-৫ কমে গেছে- এমনটাই মনে করছেন শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তারা।
তবে বিশেষজ্ঞরা এর পেছনে শিক্ষায় বৈষম্য থাকা, কোভিডের ধাক্কা যথাযথভাবে না কাটানো, মানবিকে দুর্বলতা থাকার মত বিষয়েরও দায় দেখছেন।
এবারের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় পাস করেছে ৮০ দশমিক ৩৯ শতাংশ শিক্ষার্থী, ২০২২ সালে পাসের হার ছিল ৮৭ দশমিক ৪৪ শতাংশ।
জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ লাখ ৮৩ হাজার ৫৭৮ জন জিপিএ ৫ পেয়েছে, গত বছর এই সংখ্যা ছিল ২ লাখ ৬৯ হাজার ৬০২ জন।
চলতি বছর নয়টি শিক্ষা বোর্ডের মধ্যে রাজশাহী ও বরিশাল বোর্ড ছাড়া সব বোর্ডেই ২০২২ সালের তুলনায় পাসের হার কমেছে। জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থী কমেছে সব বোর্ডেই।
| বোর্ড | ২০২৩ | ২০২২ | ২০২১ | |||
| পাস (%) | জিপিএ-৫ | পাস (%) | জিপিএ-৫ | পাস (%) | জিপিএ-৫ | |
| ঢাকা | ৭৭.৫৫ | ৪৬,৩০৩ | ৯০.০৩ | ৬৪,৯৮৪ | ৯৩.১৫ | ৪৯,৫৩০ |
| রাজশাহী | ৮৭.৮৯ | ২৬,৮৭৭ | ৮৫.৮৮ | ৪২,৫১৭ | ৯৪.৭১ | ২৭,৭০৯ |
| কুমিল্লা | ৭৮.৪২ | ১১,৬২৩ | ৯১.২৮ | ১৯,৯৯৮ | ৯৬.২৭ | ১৪,৬২৬ |
| যশোর | ৮৬.১৭ | ২০,৬১৭ | ৯৫.১৭ | ৩০,৮৯২ | ৯৩.০৯ | ১৬,৪৬১ |
| চট্টগ্রাম | ৭৮.২৯ | ১১,৪৫০ | ৮৭.৫৩ | ১৮,৬৬৪ | ৯১.১২ | ১২,৭৯১ |
| বরিশাল | ৯০.১৮ | ৬,৩১১ | ৮৯.৬১ | ১০,০৬৮ | ৯০.১৯ | ১০,২১৯ |
| সিলেট | ৭৬.০৬ | ৫,৪৫২ | ৭৮.৮২ | ৭,৫৬৫ | ৯৬.৭৮ | ৪,৮৩৪ |
| দিনাজপুর | ৭৬.৮৭ | ১৭,৪১০ | ৮১.১৬ | ২৫,৫৮৬ | ৯৪.৮ | ১৭,৫৭৮ |
| ময়মনসিংহ | ৮৫.৪৯ | ১৩,১৭৭ | ৮৯.০২ | ১৫,২১৬ | ৯৭.৫২ | ১০,০৯২ |
| মাদ্রাসা | ৭৪.৭ | ৬,২১৩ | ৮২.২২ | ১৫,৪৫৭ | ৯৩.২২ | ১৪,৩১৩ |
| কারিগরি | ৮৬.৩৫ | ১৮,১৪৫ | ৮৯.৫৫ | ১৮,৬৫৫ | ৮৮.৪৯ | ৫,১৮৭ |
| মোট | ৮০.৩৯ | ১,৮৩,৫৭৮ | ৮৭.৪৪ | ২,৬৯,৬০২ | ৯৩.৫৮ | ১,৮৩,৩৪০ |
জিপিএ-৫ ও পাসের হার কমে যাওয়ার ব্যাখ্যায় ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান তপন কুমার সরকার বলেন, “২০২০, ২০২১ সালে পরীক্ষাগুলো হয়েছে সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে এবং ৫০ নম্বরে। অনেকগুলো অপশন ছিল। শিক্ষার্থীরা ভালভাবে লিখতে পেরেছে। তাই রেজাল্ট ভালো হয়েছিল।
“এবারও রেজাল্ট খারাপ হয়নি। ২০২০ সালের আগে যেমন ছিল, তেমনই হয়েছে।”
মহামারীতে সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে ২০২১ সালে এসএসসি পরীক্ষা হয়েছে সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে। তিন ঘণ্টার পরিবর্তে পরীক্ষা হয়েছে দেড় ঘণ্টায়। কেবল তিনটি নৈর্বচনিক বিষয়ের পরীক্ষায় বসতে হয় শিক্ষার্থীদের।
বাংলা, ইংরেজির মত আবশ্যিক বিষয়গুলোতে পরীক্ষা না নিয়ে আগের পাবলিক পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা হয়েছিল সে বছর।
২০২২ সালেও সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে সময় কমিয়ে দুই ঘণ্টায় পরীক্ষা নেওয়া হয়। নম্বর কমিয়ে বাংলা দ্বিতীয় পত্র, ইংরেজি প্রথম ও দ্বিতীয় পত্রে পরীক্ষা হয় ৫০ নম্বরে। এছাড়া ব্যবহারিক আছে এমন বিষয়ে ৪৫ নম্বরে ও ব্যবহারিক নেই- এমন বিষয়ে ৫৫ নম্বরের পরীক্ষা হয়।
ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষা, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় এবং বিজ্ঞান- এসব বিষয়ে পরীক্ষা না নিয়ে সাবজেক্ট ম্যাপিংয়ের মাধ্যমে মূল্যায়ন করা হয়।

শুক্রবার ফল প্রকাশের পর আন্তর্জাতিক মার্তৃভাষা ইনস্টিটিউটে সংবাদ সম্মেলনে আসেন শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি। সেখানে তাকেও পাসের হার ও জিপিএ-৫ কমার বিষয়ে প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়।
জবাবে তিনি বলেন, “গত বছর বা তার আগের বছর, আপনি যদি মাত্র তিনটি বিষয়ে বা চারটি বিষয়ে পরীক্ষা দেন আর আপনি এখন ১০টি বিষয়ে পরীক্ষা দিচ্ছেন, পুরো ১০০ নম্বরে সব পরীক্ষা দিচ্ছেন।
“আর সেবার অনেক কম নম্বরে পরীক্ষা দিয়েছেন, কম বিষয়ে পরীক্ষা দিয়েছেন, খুব স্বাভাবিকভাবে সেখানে পাসের হার অনেক বেশি ছিল।”
তিনি বলেন, “এখনকার যে পাসের হার, সেটা কোভিডের পূর্ববর্তী সময়ে আমাদের যে পাসের হার ছিল, স্বাভাবিক সময়ে, তার সঙ্গে খুব সঙ্গতিপূর্ণ।”
গণিতের ধাক্কা
ঢাকা বোর্ডের এবারের ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, বিজ্ঞানে ৯৩ দশমিক ৪২ শতাংশ, মানবিকে ৬২ দশমিক ৫৪ শতাংশ এবং ব্যবসায় শিক্ষায় ৮০ দশমিক ৩৭ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছে।
এ বোর্ডের শিক্ষার্থীরা সাধারণ গণিতে তুলনামূলকভাবে খারাপ ফল করেছে।
এ কারণেই পাসের হার কমে গেছে দাবি করে তপন কুমার সরকার বলেন, “সাধারণ গণিতের প্রশ্ন কঠিন ছিল এবং শিক্ষার্থীরাও গণিতে খারাপ করেছে। আর মানবিকে এমনিতেই শিক্ষার্থীরা খারাপ করে, এ কারণে মানবিকে পাসের হার কম। এ বিষয়গুলো বিশ্লেষণ করে আমরা দেখব কেন ফল খারাপ হল।”
আগের মত এবারও সিলেট শিক্ষা বোর্ডের শিক্ষার্থীরা ফলাফলে অন্য বোর্ডের তুলনায় পিছিয়ে পড়েছেন।
মাধ্যমিকে সিলেট বোর্ডে পাসের হার ৭৬ দশমিক ০৬ শতাংশ। এই বোর্ডে বিজ্ঞান বিভাগে ৯১ দশমিক ৭৪ শতাংশ, মানবিকে ৭০ দশমিক ৮৩ শতাংশ এবং ব্যবসায় শিক্ষায় ৮৩ দশমিক ৩৫ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছে।
এই বোর্ডের সচিব অধ্যাপক কবির আহমদও বলছেন, এবার পূর্ণ নম্বরে সব বিষয়ে পরীক্ষা হওয়ার প্রভাব পড়েছে ফলাফলে। এর সঙ্গে রয়েছে মানবিকের খারাপ ফল।
“মানবিকে আমাদের শিক্ষার্থী বেশি, তাই ফেলের হার বেশি। গণিত ও ইংরেজিতে পাসের হার অন্য বিষয়ের চেয়ে কম। এর ফলেই আমাদের রেজাল্টটা কমেছে। বিজ্ঞান ও ব্যবসায় শিক্ষায় শিক্ষার্থী কম, কিন্তু পাসের হার বেশি।”
মানবিকে শিক্ষার্থী বেশি থাকার বিষয়ে তিনি বলেন, “বিজ্ঞানভীতি কিনা জানি না, তারা মানবিকে পড়তে চায়। শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ চলছে, পর্যায়ক্রমে চলতে থাকলে আমি আশা করছি, এটা কমতে থাকবে।”
কুমিল্লা বোর্ডের শিক্ষার্থীরা এবার মানবিক বিভাগে সবচেয়ে খারাপ ফল করেছে। এ বোর্ডে পাসের হার ৭৮ দশমিক ৪২ শতাংশ। এর মধ্যে বিজ্ঞানে ৯৫ দশমিক ৮৪ শতাংশ, ব্যবসায় শিক্ষায় ৭৯ দশমিক ১১ শতাংশ এবং মানবিকে ৬১ দশমিক ৮৪ শতাংশ পরীক্ষার্থী পাস করেছে।

কুমিল্লা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মো. আসাদুজ্জামান মনে করেন, এবার যারা পরীক্ষা দিয়েছে, তারা কোভিডে শ্রেণি কার্যক্রম বন্ধ থাকার ঘাটতি কাটিয়ে উঠতে পারেনি।
“তারা করোনাভাইরাসের পুরো সময়টায় অষ্টম, নবম শ্রেণিতে ছিল। তাদের ভিত্তিটা হয়ত ততটা শক্ত হয়নি। ওই গ্যাপটা হয়ত অঙ্কের ক্ষেত্রে বা অন্যান্য বিষয়ের ক্ষেত্রে রয়েই গেছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো এক্ষেত্রে তাদের প্রতি যত্নশীল হলে এই ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব।”
মানবিকে ফলাফল খারাপ হওয়ার বিষয়ে আসাদুজ্জামান বলেন, “মানবিকে সবসময়ই ফলাফলটা বিজ্ঞান ও ব্যবসায় শিক্ষার চেয়ে কিছুটা খারাপ হয়। কারণ মানবিকে কিছুটা দুর্বল শিক্ষার্থীরাই ভর্তি হয়। তাদের সাধারণ গণিত ও ভূগোলে খারাপ হওয়ায় তারা রেজাল্ট খারাপ করে।”
চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক নারায়ন চন্দ্র নাথ বলেন, সাধারণ গণিতে পাসের হার কমে যাওয়ায় তা সার্বিক ফলাফলের ওপরে প্রভাব ফেলেছে।
এ বোর্ডে চলতি বছর পাসের হার ৭৮ দশমিক ২৯ শতাংশ; যা গতবারের তুলনায় প্রায় ১০ শতাংশ পয়েন্ট কম।
সাধারণ গণিতে এ বছর পাসের হার ৮৭ দশমিক ১১ শতাংশ। যা বিষয় ভিত্তিক পাসের সর্বনিম্ন হার। ইংরেজিতেও পাসের হার ৯০ দশমিক ৪১ শতাংশ।
সর্বোচ্চ পাশের হার বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচিতি বিষয়ে ৯৯ দশমিক ৪০ শতাংশ। এরপর ব্যবসায় উদ্যোগে ৯৯ দশমিক ৩৩ ও পদার্থ বিদ্যায় ৯৯ দশমিক ০৭ শতাংশ।
নারায়ন চন্দ্র নাথ বলেন, “এবছর যারা মাধ্যমিকে অংশ নিয়েছে তারা করোনাকালীন সময়ে বিনা পরীক্ষায় নবম শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হয়েছিল। যার কারণে তাদের অনেকেই পড়া লেখা কম করেছে।“
তিনি বলেন, আগের দুই বছর সংক্ষিপ্ত পাঠ্যসূচিতে পরীক্ষা নেওয়া হলেও এবার সবগুলো বিষয়ে পূর্ণ নম্বর ও পূর্ণ সময়ে পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। এ কারণেও পাসের হার আগের বছরগুলো থেকে কমেছে।
পাসের হারে শীর্ষে বরিশাল বোর্ড
পাসের হারে নয়টি শিক্ষা বোর্ডের মধ্যে এবার এগিয়ে রয়েছে বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষার্থীরা।
এ বোর্ডে ৯০ দশমিক ১৮ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছে। এর মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগে ৯৬ দশমিক ৭৯ শতাংশ, মানবিকে ৮৬ দশমিক ৮৯ শতাংশ এবং ব্যবসায় শিক্ষায় ৯২ দশমিক ১৭ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছে।
শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবকদের কৃতিত্ব দিয়ে বরিশাল বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আব্বাস উদ্দিন খান বলেন, “আমাদের ধারণা, প্রতিবছরই একেকটা প্রশ্ন সবার কাছে গ্রহণযোগ্য হয় না। কিন্তু এবারের প্রশ্ন সবার কাছেই গ্রহণযোগ্য ছিল।
“সব বিষয়ে হলেও সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে পরীক্ষা হয়েছে। আমি দেখেছি, ছেলেমেয়েরা পরীক্ষা দিয়ে অনেক আগেই বের হয়ে এসেছে।”
‘হোঁচট খেয়েছে’ ঢাকা বোর্ড
মাদ্রাসা ও সিলেট বোর্ড খারাপ করলেও এবারের ঢাকা বোর্ডের ফলকে ‘হোঁচট খাওয়ার মত’ বিষয় বলছেন গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধুরী।
“একটি বিষয় হতে পারে, ঢাকা বোর্ডে নামিদামি অনেক স্কুল রয়েছে। সেখানে গড়ে গিয়ে ফলাফল খারাপ হয়। তার মানে হল, খারাপ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আছে। আমরা ধরেই নেই, ঢাকা বোর্ডে রেজাল্ট ভাল হবেই। কিন্তু সেটা তো তাহলে ঠিক না।”
সিলেট বোর্ডের শিক্ষক সংকটের বিষয়টি খতিয়ে দেখার তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, “সিলেট বোর্ডে একটা কারণ আমরা দেখতে পাই, সেখানে বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক সংকট রয়েছে। এমনও আছে, বাণিজ্যের শিক্ষক বিজ্ঞান পড়াচ্ছেন।”
এবারের মাধ্যমিকের পরীক্ষার্থীরা ২০২০ ও ২০২১ সালে মহামারীর সময়ে অষ্টম ও নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। সরকার সে সময় সংক্রমণ ঠেকাতে সরাসরি ক্লাস বন্ধ করে অনলাইনে ক্লাসের ব্যবস্থা করলেও মানবিকের শিক্ষার্থীরা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে মনে করেন রাশেদা কে চৌধুরী।
“মানবিকের শিক্ষার্থীরা করোনাভাইরাসের সময় বিকল্প পন্থায় ক্লাসে অংশ নেয়নি। অনলাইন, টিভিতে বা পারিবারিকভাবে মানবিক বিষয়টি তেমন গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। কিন্তু বিজ্ঞানের যারা, তারা তো মনে করেছে, ফেল করবে- তারা বিকল্প পন্থাগুলোয় ক্লাস করেছে। শিক্ষার্থীদের শিখন ক্ষতি যে হয়েছে, তা অনস্বীকার্য। তা কাটিয়ে ওঠা জরুরি।”
নতুন শিক্ষাক্রম বাস্তবায়ন হলে বিজ্ঞান, মানবিক, বাণিজ্যের বিভাজন কমে আসবে আশা করে তিনি শিক্ষক সংকট দূর করার উদ্যোগ নিতে তাগিদ দেন।

‘নজর দিতে হবে শূণ্য পাস প্রতিষ্ঠানে’
যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থীই পাস করেনি, তাদের দিকে মনোযোগ দেওয়ার জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে তাগিদ দিয়েছেন রাশেদা কে চৌধুরী।
তিনি বলেন, “যেসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে একেবারে কেউ পাস করেনি, তাহলে এটা তো জাতীয় অপচয়। এদের প্রতি দৃষ্টি দেয়া উচিত। জিপিএ-৫ না পেতে পারে, কিন্তু পাসই করবে না, এটা তো হতে পারে না। কারণ অভিভাবকরা তো আশা করে একটা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি করায়। এমন করলে তো তাদের আশা ভেঙে যায়।”
গতবছর শতভাগ ফেল করা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিয়ে কর্মশালা করেছিল শিক্ষা মন্ত্রণালয়; এবারও সে রকম প্রচেষ্টা থাকবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি।
আন্তর্জাতিক মার্তৃভাষা ইনস্টিটিউটের সংবাদ সম্মেলনে এ প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, “শূন্য পাস করা প্রতিষ্ঠানগুলোর অধিকাংশই, হয়ত সেখানে পরীক্ষা দিয়েছে ২ জন বা ৩ জন এবং এর অধিকাংশই হচ্ছে নন-এমপিও। কারণ, এমপিওভুক্তির হওয়ার জন্য কাম্য শিক্ষার্থী, কাম্য পরীক্ষার্থী থাকতে হয়।
“এদের জন্য পরীক্ষার্থীর সংখ্যা, শিক্ষার্থীর সংখ্যা খুবই কম, সেই কারণেই এই প্রতিষ্ঠানগুলোর বেশিরভাগই এদের কোনো এমপিওভুক্তি নেই। এদের হয়ত পরীক্ষা দিয়েছে ২ জন, সেই ২ জন পাস করেনি। শতভাগ ফেলের জায়গায় পড়ে গেছে।”
এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে সামনে এগিয়ে নিয়ে আসার প্রচেষ্টা শিক্ষা মন্ত্রণালয় নিয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, “এই প্রতিষ্ঠানগুলোকে বলছি, তুমি একজনকে পরীক্ষা দেওয়াও বা পাঁচজনকে দেওয়াও, তারা যেন পাস করার মতো জায়গায় যেতে পারে, সেটা নিয়ে আমরা প্রাতিষ্ঠানিকভাবে তাদেরকে সহযোগিতা করবার প্রচেষ্টা নিয়েছি।
“এবারও অবশ্যই আমরা আবারও দেখব যে, এখানে কারা কারা এ রকম হলো। কারণ, আমাদের চেষ্টাটা হওয়া উচিত যে আমাদের এই প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের সমস্যা উত্তরণ ঘটিয়ে তারা যেন ভালো করতে পারে আগামীতে। আমাদের সেই প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।”

‘ভালো ফল মানেই গুণগত মান নিশ্চিত নয়’
মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক সৈয়দ মো. গোলাম ফারুক বলছেন, মহামারীর আগে যেমন ফলাফল ছিল, এবারও তেমনই হয়েছে।
নতুন শিক্ষাক্রমে এই ফর্মে রেজাল্টের গুরুত্ব কমে যাবে মন্তব্য করে তিনি বলেন, “এই রেজাল্ট তো খুব বেশি গ্রহণযোগ্য নয়। কারণ যিনি খাতা দেখেন, সেটা দেখে কোন শিক্ষার্থী কতটা জানে, সেটা বোঝা মুশকিল। সেটা কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করা হচ্ছে নতুন শিক্ষাক্রমের মাধ্যমে।
“ফলাফল ভালো হলেই যে গুণগত মান নিশ্চিত হচ্ছে, সেটা বোঝা যাবে না। পাবলিক পরীক্ষা দিয়ে এটা বোঝা সম্ভব না। শিখনকালীন মূল্যায়ন দিয়েই শিক্ষার মান বোঝা যায়।”
সৈয়দ গোলাম ফারুক মনে করেন, শিক্ষা ব্যবস্থাপনায় ‘বৈষম্য’ থাকায় সিলেটের মত এলাকার শিক্ষার্থীরা পিছিয়ে পড়ছে, যা দিয়ে শিক্ষার গুণগত মান অর্জন করা কঠিন হবে।
“আমরা যে গুণগত শিক্ষার কথা বলি, সেখানে সাম্য যদি না হয়, একেক এলাকা যদি পিছিয়ে যায়, তাহলে কোয়ালেটি এডুকেশন অর্জন করা যাবে না। এটা খুবই বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়াবে। হাওর, পাহাড়ি অঞ্চলগুলোও পিছিয়ে থাকে।”