Published : 25 Apr 2026, 08:34 PM
ব্যবসায়ীদের বন্দরে ক্ষতিপূরণ থেকে রক্ষা করতে সাপ্তাহিক ছুটির দিনেও বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) সংশ্লিষ্ট সেবা চালু রাখার নির্দেশ দিয়েছেন শিল্প সচিব।
পাশাপাশি, আমদানিকারকদের সুবিধার্থে আমদানিকৃত পণ্য দ্রুত খালাস করার নির্দেশ দিয়েছেন শিল্প সচিব মো. ওবায়দুর রহমান।
শনিবার ঢাকার তেজগাঁওয়ে বিএসটিআইয়ের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত অংশীজনদের গণশুনানিতে তিনি এই বিশেষ নির্দেশনা প্রদান করেন বলে বিএসটিআইয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে।
এতে বলা হয়েছে “ব্যবসায়ীদের দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে গৃহীত এই সিদ্ধান্তের ফলে আমদানিকৃত পণ্যের দ্রুত ছাড়পত্র নিশ্চিত হবে। সেই সঙ্গে বন্দরে অপ্রয়োজনীয় ড্যামারেজ (ক্ষতিপূরণ) খরচ থেকে ব্যবসায়ীরা রক্ষা পাবেন।”
ছুটির দিনের সেবা দেওয়ার পাশাপাশি সিটিজেন চার্টারে নির্ধারিত সময়ের চেয়েও কম সময়ে আমদানিকৃত পণ্যের ছাড়পত্র প্রদানের জন্য বিএসটিআইয়ের কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন শিল্প সচিব।
সচিব বলেন, “সরকার নিজে ব্যবসা করে না, বরং ব্যবসায়ীদের প্রয়োজনীয় নীতি সহায়তা এবং পরিবেশ তৈরি করে দেয়। দেশের উন্নয়নের গতি বজায় রাখতে ব্যবসায়ীদের যেকোনো সমস্যায় সরকার পাশে থাকবে।”
বিএসটিআইয়ের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) এম এ কামাল বিল্লাহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত গণশুনানিতে প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ছাড়াও দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্প প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।

ব্যবসায়ীদের দেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি হিসেবে অভিহিত করে বিএসটিআইয়ের মহাপরিচালক বলেন, “আপনারা আমাদের সেবাগ্রহীতা; আপনাদের সেবায় কোনো ঘাটতি থাকলে আমরা জবাবদিহি করতে বাধ্য। আমরা আপনাদের সুবিধার্থে এসআরও প্রকাশকাল কমিয়ে আনা এবং পণ্যের মান প্রণয়ন প্রক্রিয়া আরও সহজ করতে কাজ করছি।”
গণশুনানিতে আলোচিত বিষয়ে ইতিবাচক কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে বলে তিনি সকলকে আশ্বস্ত করেন।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গণশুনানিতে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা ও ইতিবাচক সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। শুনানিতে নকল পণ্য উৎপাদনকারী অবৈধ প্রতিষ্ঠানের উৎস শনাক্তকরণ এবং কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ, পণ্যের মান প্রণয়নে এসআরও প্রকাশের সময়সীমা হ্রাস, খাওয়ার উপযোগী রং ব্যবহারের আগে প্রয়োজনে বিএসটিআই ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা করা, চিনিযুক্ত ও চিনিবিহীন রুটি-পাউরুটি উৎপাদনের একক মানদণ্ড তৈরি, ক্রেতার সামনে সরাসরি রুটি, কেকের মতো বেকারিপণ্য তৈরি করে বিক্রি করার দোকান বা লাইভ বেকারিগুলোতে অভিযান জোরদার করাসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।
গণশুনানিতে অংশগ্রহণ করেন প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ, স্কয়ার টয়লেট্রিজ, সিটি গ্রুপ, ওয়ালটন, এসিআই, পোলার আইসক্রিম, অলিম্পিক বেকারি অ্যান্ড কনফেকশনারি লিমিটেড, অলিম্পিয়া বেকারি, ট্রাস্ট ইনফিনিটি ফার্মস, পিয়ারলেস ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডসহ বিভিন্ন কোম্পানির প্রতিনিধিরা।