Published : 30 Apr 2026, 08:03 PM
গাঁজাসহ গ্রেপ্তারের পর তিন সন্তানসহ কারাগারে যাওয়া সেই মা লাকী আক্তারের জামিন মেলেনি।
বৃহস্পতিবার শুনানি নিয়ে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দিদারুর আলম আদালতে লাকী আক্তারের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন।
প্রসিকিউশন পুলিশের এসআই আবু বকর ভূঁইয়া এ তথ্য দিয়েছেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে ৩০ কেজি গাজা নিয়ে মঙ্গলবার ঢাকায় আসেন লাকী আক্তার। এ সময় তার সঙ্গে ছিল চার ছেলে মেয়ে। তাদের মধ্যে দুই ছেলের বয়স ১৭ ও ৫ বছর। আর দুই মেয়ের বয়স ছয় ও এক বছর।
বিমানবন্দর এলাকা থেকে গাঁজাসহ তাদের আটক করে পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট। পরে তাদের বিরুদ্ধে বিমানবন্দর থানায় মাদক আইনে মামলা করা হয়।
বুধবার তাদের আদালতে হাজির করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিটিটিসির এসআই জাহিদা আফরোজ। লাকীকে কারাগারে পাঠায় আদালত। তার বড় ছেলেকে পাঠানো হয় কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রে।
সে দিন প্রসিকিউশন পুলিশের এসআই আবু বকর ভূঁইয়া বলেছিলেন, লাকী আক্তারের পক্ষে জামিনের কোনো আবেদন ছিল না। তার তিন শিশু সন্তানকেও মায়ের সাথে কাশিমপুর কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
লাকীর বড় ছেলেকে টঙ্গীর কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানোর আদেশ দেওয়ার কথা বলেছিলেন সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী ইশতিয়াক হোসেন জনি।
কারাগারে পাঠানোর আদেশের পর এক আইনজীবী লাকী আক্তারের পক্ষে মামলা লড়তে ওকালতনামায় স্বাক্ষর নেন।
বৃহস্পতিবার লাকীর জামিন আবেদন ও শুনানি করেন আইনজীবী লিটন মিয়া। শুনানি নিয়ে আদালত তার জামিনের আবেদন নাকচ করে দেয়।
আগের দিন কারাগারে নেওয়ার আগে আদালতের বারান্দায় লাকীর সঙ্গে কথা বলার সুযোগ হয় বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, “কেউ শখ করে এই রাস্তায় আসে না। স্বামী আমাদের খবর নেয় না। উল্টো মাঝে-মধ্যে এসে মারধর করে। বাচ্চাদের এক বেলা খাবার দেয় না।”
কপালে কাঁটা দাগ দেখিয়ে এই নারী বলেন, “এই দেখেন, ৩টা সেলাই লাগছে।”
আত্মীয়-স্বজনের বিষয়ে জানতে চাইলে লাকী বলেন, তার মা চট্টগ্রামে থাকেন, ভাই বিদেশে। স্বামী দুটো বিয়ে করেছেন। বাচ্চাদের কারো কাছে রেখে কোথাও যাবেন, সেই উপায় নেই।
আগের খবর:
'শখ করে কেউ এ পথে আসে না': মাদক মামলায় গ্রেপ্তার নারী ৩ সন্তানসহ