এবতেদায়ী মাদ্রাসার এমপিওভুক্তির আবেদন ৮ জুলাই থেকে
‘কারিগরি ত্রুটির কারণে’ সময়সীমা পরিবর্তনের কথা বলেছে কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ।
দেশের স্বতন্ত্র এবতেদায়ী মাদ্রাসাগুলোর এমপিওভুক্তির আবেদনের সময়সীমায় পরিবর্তন আনা হয়েছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ বুধবার বলেছে, মাদ্রাসাগুলোর এমপিওভুক্তির জন্য আবেদন করা যাবে আগামী ৮ থেকে ১৫ জুলাই।
এর আগে ৩ থেকে ১০ জুলাই সময় দেওয়া হয়েছিল। তবে আবেদন শুরুর আগের দিন ‘কারিগরি ত্রুটির কারণে’ সময়সীমা পরিবর্তনের কথা বলেছে কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ।
বিভাগের উপসচিব (এমপিও) মো. আব্দুল হান্নান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ, মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর ও ব্যানবেইসের ওয়েবসাইটে প্রদর্শিত লিংক থেকে অনুদানভুক্ত মাদ্রাসাগুলো এমপিওভুক্তির জন্য আবেদন করতে পারবে। সম্প্রতি এবতেদায়ী মাদ্রাসা এমপিওভুক্তির নীতিমালা জারি করা হয়েছে। আবেদন করা মাদ্রাসাগুলোর তথ্য যাচাইবাছাই শেষে নীতিমালা অনুযায়ী যোগ্য বিবেচিত মাদ্রাসাকে এমপিওভুক্ত করা হবে।”
www.tmed.gov.bd, www.dme.gov.bd ও www.banbeis.gov.bd ওয়েবসাইটে প্রদর্শিত লিংকের মাধ্যমে আবেদন করা যাবে।
আবেদন সরাসরি, ইমেইল বা পত্রের মাধ্যমে কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ অথবা এর অধীন কোনো দপ্তরে গ্রহণ করা হবে না। ‘স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসা স্থাপন, পাঠদান, স্বীকৃতি, পরিচালনা ও জনবল কাঠামো এবং এমপিও নীতিমালা, ২০২৫’ অনুযায়ী নির্দিষ্ট মানদণ্ডের ভিত্তিতে যোগ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর তালিকা প্রস্তুত করা হবে।
এর আগে অনুদানভুক্ত এবতেদায়ী মাদ্রাসাগুলো এমপিওভুক্তির জন্য ‘নতুন করে আবেদন লাগবে না’ বলে জানিয়েছিলেন মাদ্রাসা অনুবিভাগের যুগ্ম সচিব এস এম মাসুদুল হক। তবে নীতিমালা জারির পর মাদ্রাসাগুলোর এমপিওভুক্তির আবেদন চাইল শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
উপসচিব (এমপিও) মো. আব্দুল হান্নান বলেন, “আমরা আগে অনুদান দিতে মাদ্রাসাগুলো থেকে যে তথ্য সংগ্রহ করেছিলাম তা ছিল ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে বা হার্ড কপিতে। ওইসব নথি পত্রের কোনো ডেটাবেইজ নেই। তা ছাড়া অনুদানভুক্ত হওয়ার পর মাদ্রাসাগুলোর সার্বিকভাবে কী অবস্থা, সে বিষয়ে কোনো তথ্য নেই। তাই অনলাইনে আবেদন নিয়ে মাদ্রাসাগুলো এমপিওভুক্ত করা হবে।
“এর ফলে মাদ্রাসাগুলোর বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে জানা যাবে। আর শিক্ষক-কর্মচারী ও মাদ্রাসার নথিপত্র ডেটাবেইজে সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে।”
ইসলামি ও সাধারণ শিক্ষার সমন্বয়ে যে শিক্ষাব্যবস্থা রয়েছে, সেই আলিয়া মাদ্রাসা পদ্ধতিতে পঠন-পাঠন হয় এবতেদায়ী মাদ্রাসায়। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সমমান এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গোড়াপত্তন হয় ১৯৮৪ সালে। এরপর চার দশক কেটে গেলেও শিক্ষকরা মানবেতর জীবন-যাপন করছেন।
মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, দেশে অনুদানভুক্ত ১ হাজার ৫১৯টি স্বতন্ত্র এবতেদায়ী মাদ্রাসা রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক প্রতি মাসে ৫ হাজার টাকা এবং সহকারী শিক্ষকরা ৩ হাজার টাকা করে অনুদান পেয়ে থাকেন। এর বাইরে দেশে আরও ৫ হাজার ৯৩২টি স্বতন্ত্র এবতেদায়ী মাদ্রাসা রয়েছে, যেগুলো সরকারি কোনো অনুদান পায় না।
শিক্ষকদের আন্দোলনের মুখে এ বছরের শুরুতে স্বতন্ত্র এবতেদায়ী মাদ্রাসাগুলোকে প্রথমে এমপিওভুক্ত করে পর্যায়ক্রমে জাতীয়করণের ঘোষণা দেওয়া হয়।
গত ২৫ জুন এবতেদায়ী মাদ্রাসা এমপিওভুক্তির নীতিমালা জারি করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। নীতিমালা অনুসারে মাদ্রাসাগুলোর মোট ছয়টি পদ এমপিওভুক্ত হবে। এবতেদায়ী প্রধান বেতন পাবেন ১০ম গ্রেডে। আর সাধারণ, বিজ্ঞান ও আরবি বিষয়ের সহকারী শিক্ষকের বেতন হবে ১৩তম গ্রেডে। আর ক্বারী বা নূরানী বিষয়ের সহকারী শিক্ষকরা ১৬তম গ্রেডে বেতন পাবেন। আর প্রতিটি এবতেদায়ী মাদ্রাসার অফিস সহায়ক পদ সৃষ্টি করা হয়েছে, যে পদে নিয়োগপ্রাপ্তরা ২০ তম গ্রেডে বেতন পাবেন।
নীতিমালা অনুসারে, মাদ্রাসাগুলোর শিক্ষক পদে এনটিআরসিএর সুপারিশের ভিত্তিতে নিয়োগ হবে। নীতিমালায় মাদ্রাসাগুলোর ম্যানেজিং কমিটি গঠনের নির্দেশনা এসেছে। প্রধান শিক্ষক ও অফিস সহায়ক পদে ম্যানেজিং কমিটির মাধ্যমে নিয়োগ হবে বলে নীতিমালায় বলা হয়েছে।
এমপিওভুক্তির জন্য এবতেদায়ী মাদ্রাসাগুলোর গ্রেডিং পদ্ধতি নির্ধারণ করা হয়েছে। অ্যাকাডেমিক স্বীকৃতি, প্রতিষ্ঠানের জমি, প্রাতিষ্ঠানিক অবকাঠামো, শিক্ষক-শিক্ষার্থীর সংখ্যা, বার্ষিক পরীক্ষার গড় নম্বর, পরিবেশ ইত্যাদি সূচকে নম্বর নির্ধারণ করে মাদ্রাসাগুলোর গ্রেডিং করা হবে।
নীতিমালায় মাদ্রসা শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে আহ্বায়ক করে সাত সদস্যের এমপিও কমিটি গঠন করা হয়েছে।
নীতিমালায় বলা হয়েছে, মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর মাদ্রাসাগুলোর কাগজপত্র যাচাই করে এমপিও দেবে। প্রথমে মাদ্রাসাগুলোকে এমপিও কোড দেওয়া হবে। শিক্ষক-কর্মচারীরা এমপিওভুক্তির তারিখ থেকে বা এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানে শূন্য পদে নিয়োগপ্রাপ্ত হলে যোগদানের তারিখ থেকে এমপিও পাবেন।
নীতিমালাটি দেখুন এখানে-
