২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩

ইসিকে ‘শান্তি দিচ্ছে’ খুলনা-বরিশালের ভোটের পরিবেশ

প্রথম তিন ঘণ্টায় গোলযোগহীন পরিবেশের পাশাপাশি ভোটার উপস্থিতিতে ব্যাপক উচ্ছ্বসিত কমিশন।

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 12 Jun 2023, 12:33 PM

Updated : 12 Jun 2023, 12:35 PM

বরিশাল ও খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে স্বস্তি প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন।

সোমবার ভোটের পরিস্থিতি সিসি ক্যামেরায় দেখে ও মাঠ পর্যায়ের পর্যবেক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে নির্বাচন কমিশনার আহসান হাবিব খান বলেন, “ইভিএমে ধীরগতি পরিলক্ষিত হচ্ছে না, কোথাও বিশৃঙ্খলাও নেই। দিন শেষে ভালো ভোটার উপস্থিতি হবে।”

সোমবার প্রথম তিন ঘণ্টার ভোট পরিস্থিতি দেখে সাংবাদিকদের কাছে এভাবেই প্রতিক্রিয়া জানান তিনি।

সোমবার সকাল ৮টায় বরিশাল ও খুলনা নগরীর ৪১৫টি ভোটকেন্দ্রে ইভিএমে ভোটগ্রহণ শুরু হয়, যা একটানা বিকাল ৪টা পর্যন্ত চলবে।

দুই নগরেই প্রতিটি ভোটকক্ষ ও কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। বরিশালে ১১৪৬ এবং খুলনায় ২৩১০টি ক্যামেরায় ভোট পর্যবেক্ষণ করছে নির্বাচন কমিশন।

প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার, সচিব, এনআইডি উইংয়ের মহাপরিচালক ও মনিটরিং সেলের প্রধান মিলে এই দুই সিটির ভোট পর্যবেক্ষণ করছেন।

নির্বাচন কমিশনার আহসান হাবিব খান বলেন, “আমরা সরেজমিনে অনগ্রাউন্ডে প্রতিটি সিসি ক্যামেরা মনিটর করছি। সকাল থেকে উৎসবমুখর পরিবেশে এতো বেশি ভোটারের উপস্থিতি কল্পনার বাইরে। আমাদের শান্তি দিয়েছে এটা। ইসির সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার জন্য ভোটের আগে নেওয়া পদক্ষেপ ভোটারদের আশ্বস্ত করেছে এবং তাদেরকে ভোটকেন্দ্রে আসতে উদ্বুদ্ধ করেছে।”

তিনি জানান, ইসির অতিরিক্ত সচিব অশোক কুমার দেবনাথ এবং যুগ্মসচিব মো. মনিরুজ্জামানের নেতৃত্বে ১০ জন করে কমিশনের নিজস্ব দুটি পর্যবেক্ষক দল সরেজমিনে ভোটের পরিস্থিতি দেখছেন।

“তাদের কাছ থেকে ফিডব্যাক পেলাম- সুন্দর, সুষ্ঠু নির্বাচন হচ্ছে এবং কোনো প্রকার কারও পক্ষ থেকে অসহযোগিতা পাইনি। ভোটাররা নির্বিঘ্নে কেন্দ্রে আসছেন, প্রার্থীরা সহযোগিতা করছে ও বিশৃঙ্খল আচরণ পরিলক্ষিত হয়নি,” বলেন আহসান হাবিব।

এ নির্বাচন কমিশনার জানান, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসন পরিস্থিতি সুন্দরভাবে নিয়ন্ত্রণে রেখেছে। ইসি কর্মকর্তারাসহ সবাই মিলে এ পর্যন্ত সুন্দর নির্বাচন পরিচালনা করছে।

পুরনো খবর:

বরিশাল-খুলনা: দুই নগরেই এক ভাবনা, কেন্দ্রে ভোটার যাবে তো
খুলনা ও বরিশালে ভোট: সিসিটিভিতে চোখ ইসির

“ভোটাররা উৎসবমুখর পরিবেশে আনন্দের সঙ্গে ভোট দিচ্ছেন। আমরা আশা করি, অতীতের চেয়ে ভোটার উপস্থিতি বেশি হবে। যেভাবে সকালে দেখেছি, এ পর্যন্ত যা দেখলাম-কথায় আছে মর্নিং শোজ দ্য ডে।”

এ নির্বাচন কমিশনার বলেন, “আমরা আশা করি, শেষ পর্যন্ত এভাবে একটা সুন্দর নির্বাচন উপহার দিতে পারব। কয়েকটি কেন্দ্রে কথা বলে জেনেছি, একটি কেন্দ্রে দেড় ঘণ্টায় ৮০টি, এক ঘণ্টায় ৪৭টি ভোট কাস্ট হয়েছে। বাট কাস্টিং রেট ইজ নট স্লো, গোয়িং ফাইন। বিকাল ৪টা পর্যন্ত ভোট চলবে, এসময়ে কেন্দ্রের চৌহদ্দীতে যারা থাকবেন সবার ভোট নিয়ে শেষ করা হবে “

ইভিএম নিয়ে ভোটারদের কোনো বিড়ম্বনায় পড়তে হয়নি বলে জানান আহসান হাবিব খান।

“ইভিএমে ভোট হচ্ছে, ভোটের আগেও তাদের ভোটার এডুকেশন দিয়েছি। এখন তেমন কোনো অসুবিধা হচ্ছে না। তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে কোথাও টেকনিক্যাল অসুবিধার সম্মুখীন হয়েছে, সেখানে আমাদের ট্রাবলশুটার টিম রয়েছে, তারা দ্রুত সমাধান করে দিচ্ছে।”

ভোটার, প্রার্থী, পর্যবেক্ষক, আইন শৃঙ্খলাবাহিনী- কারও পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ ইসির কাছে আসেনি বলে উল্লেখ করেন তিনি।

বরিশাল সিটি করপোরেশনের গত তিনটি নির্বাচনের মধ্যে ২০০৮ সালে ৮১.৯৯%; ২০১৩ সালে ৭২.১%, ২০১৮ সালে ৫৫% ভোটগ্রহণ হয়েছিল।

আর খুলনা সিটিতে ২০০৮ সালে ভোট পড়েছিল ৭৭.৮০%, ২০১৩ সালে ৬৮.৭০% ও ২০১৮ সালে প্রায় ৬২%।