৫ ঘণ্টায় ৪৯ বছরের রেকর্ড ভাঙলেন ইসরায়েলি ভোটাররা
ইসরায়েলের নির্বাচন কমিশনের তথ্যানুযায়ী, দুপুর ১২টা পর্যন্ত ভোটার উপস্থিতির হার ছিল ৩১ দশমিক শতাংশ,যা ১৯৭৭ সালের নির্বাচনের পর দিনের এই নির্দিষ্ট সময়ে সর্বোচ্চ ভোটার উপস্থিতি।
ইসরায়েলের সাধারণ নির্বাচনে মঙ্গলবার রেকর্ড ভাঙা উচ্চ ভোটার উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। স্থানীয় সময় সকাল ৭টা থেকে ভোট দিতে শুরু করেন ইসরায়েলিরা। প্রথম পাঁচ ঘণ্টাতেই ভোটাররা নতুন রেকর্ড গড়েছেন।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়,কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির তথ্যানুযায়ী, এই পাঁচ ঘণ্টার মধ্যে, অর্থাৎ, দুপুর ১২ টার মধ্যে যোগ্য ভোটারদের ৩১ দশমিক ৫ শতাশই ভোট দিয়েছেন।
১৯৭৭ সালের নির্বাচনের পর ইসরায়েলে এবারের নির্বাচনে এটিই ছিল এই সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ ভোটার উপস্থিতি।
তাছাড়া, ২০২২ সালের আগের নির্বাচনের একই সময়ে ইসরায়েলে ভোটার উপস্থিতি ছিল ২৮ দশমিক ৪ শতাংশ। অর্থাৎ, এবার একই সময়ে ভোটার উপস্থিতি উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।
ইসরায়েলের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের বরাতে দৈনিক ‘ইয়েদিওথ আহারোনোথ’ জানিয়েছে, মঙ্গলবার স্থানীয় সময় সকাল ১০টা (০৮০০ জিএমটি) পর্যন্ত সাধারণ নির্বাচনে ১৬ দশমিক ৬৮ শতাংশ ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন।
সকাল ১০টার হিসাব অনুযায়ী গত ৪৫ বছরের ইতিহাসে এটি ছিল সর্বোচ্চ ভোটার উপস্থিতির রেকর্ড। নির্বাচন কমিশনের ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক দিন লিভনেহ জানান, সকাল ১০টার মধ্যেই ১২ লাখের বেশি ইসরায়েলি ভোট দিয়েছেন।
২০২২ সালের সর্বশেষ সাধারণ নির্বাচনে একই সময়ে ভোট পড়েছিল ১৫ দশমিক ৯ শতাংশ। এবার ভোটার উপস্থিতি তার চেয়ে ০.৭৮ শতাংশ পয়েন্ট বেশি।
ভোটারদের এমন উপচে পড়া উপস্থিতির পেছনে আরব ভোটারদের অভাবনীয় অংশগ্রহণ এবং বামপন্থিদের শক্ত ঘাঁটিগুলোর ভূমিকা রয়েছে বলে দাবি করেছেন ইসরায়েলের অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ।
এক সোশাল মিডিয়া পোস্টে তিনি বলেন, আরব সম্প্রদায় এবং ঐতিহ্যগতভাবে বামপন্থি দলগুলোকে সমর্থন দেওয়া এলাকাগুলোতে অস্বাভাবিক উচ্চ হারে ভোট পড়ার কারণেই উপস্থিতি এভাবে বেড়েছে।
আরব পার্লামেন্ট সদস্য আহমেদ তিবিও অভূতপূর্ব ভোটার উপস্থিতির কথা নিশ্চিত করে নির্বাচনে বড় জয়ের আশা প্রকাশ করেছেন।
এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তিনি বলেন, “ভোটকেন্দ্রগুলোতে এর আগে কখনও এমন ভিড় দেখা যায়নি। আমি নিশ্চিত যে, আমরা বড় ধরনের এক বিজয় অর্জন করতে যাচ্ছি।”
প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক ভাগ্য নির্ধারণী এই হাড্ডাহাড্ডি নির্বাচনে ভোটারদের কেন্দ্রে টানতে আরব দলগুলো ও বিরোধী নেতাদের ব্যাপক তৎপরতার মধ্যেই এই উচ্চ ভোটার উপস্থিতির খবর এল।
দৈনিক ‘জেরুজালেম পোস্ট’ জানায়, সকাল ১০টার মধ্যেই আইন হোদ ও সদে নেহেমিয়া এলাকায় যথাক্রমে ২৫ দশমিক ৭ ও ২৫ দশমিক ৪ শতাংশ ভোট পড়েছে।
এছাড়া, নেস হারিম ও ওদিম এলাকায় ভোটার উপস্থিতির হার ছিল যথাক্রমে ২৩ দশমিক ২ ও ২৩ শতাংশ। এর আগে মঙ্গলবার সকালে বিরোধী নেতারা নেতানিয়াহু শাসনের অবসান ঘটাতে ইসরায়েলিদের কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।
বিরোধী ‘ইসরায়েল বেইতেনু’ পার্টির নেতা অ্যাভিগডোর লিবারম্যান নেতানিয়াহু যুগের অবসান ঘটানোর দাবি জানান। অন্যদিকে, বিরোধী ‘ইয়াশার’ পার্টির নেতা গাদি আইজেনকোট রাজনৈতিক পরিবর্তনের পক্ষে রায় দেওয়ার অনুরোধ জানান।
১২০ আসনের আরব পার্লামেন্ট সদস্য নির্বাচনে মঙ্গলবারের এই ভোটে মোট ৭৩ লাখের বেশি ইসরায়েলি ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাচ্ছেন।
স্থানীয় সময় সকাল ৭টায় (০৫০০ জিএমটি) ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে এবং তা চলেছে রাত ১০টা (২০০০ জিএমটি) পর্যন্ত। ২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের গণহত্যা শুরুর পর এটিই দেশটির প্রথম সাধারণ নির্বাচন।
নেতানিয়াহুর নেতৃত্ব, গাজা গণহত্যা, ইরানের সঙ্গে সামরিক সংঘাত এবং দেশের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক গতিপথ নিয়ে তৈরি হওয়া গভীর বিভাজনের মধ্যেই এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
পার্লামেন্টে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১টি আসন পেতে নেতানিয়াহুর লিকুদ নেতৃত্বাধীন জোট এবং বিরোধী দলগুলোর মধ্যে তীব্র প্রতিযোগিতা চলছে।
সাম্প্রতিক জনমত জরিপগুলোতে কোনও জোটই স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতার নিশ্চয়তা না পাওয়ায় পরবর্তী সরকার গঠনে আরব দলগুলোই মূল নির্ণায়ক হয়ে উঠতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
