Published : 24 Jul 2025, 09:53 PM
চীনের আশ্বাস পেয়ে তিব্বতে ব্রহ্মপুত্র নদের উজানে জলবিদ্যুৎ প্রকল্প নিয়ে ‘বিচলিত’ না হওয়ার কথা বলছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন।
বৃহস্পতিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নে তিনি বলেন, “চীনের রাষ্ট্রদূত এসেছেন, তিনি আমার কাছে এক্সপ্লেইন করেছেন যে, তারা এটা ঠিক একটা বাঁধ দিয়ে যে হাইড্রোপাওয়ার করার সিস্টেম, ওইটাতে তারা যাচ্ছেন না, এটা নতুন টেকনোলজি তারা বের করেছেন, অনেকটা কয়েক ধাপে তারা এটা ব্যবহার করবেন পানির প্রবাহটাকে।
“এবং নিশ্চয়তা দিয়েছেন যে, কোনো ধরনের কোনো ইরিগেশন এলিমেন্ট নেই এটাতে এবং কোনো পানি প্রত্যাহারের কোনো পরিকল্পনা বা কোনো প্রোগ্রাম এটার মধ্যে নেই। কাজেই, আমাদের বিচলিত হওয়ার কোনো কারণ নেই।”
গত রোববার চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং তিব্বতের ইয়ারলুং জাংপো নদীর উপর নতুন জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের নির্মাণকাজ শুরুর ঘোষণা দেন। এই ইয়ারলুং জাংপো নদীই ভারতে প্রবেশ করে ব্রহ্মপুত্র নাম নিয়ে বাংলাদেশের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।
এটি বিশ্বের সর্ববৃহৎ জলবিদ্যুৎ প্রকল্প হতে চলেছে বলে দাবি করেছে চীন। প্রকল্পটির নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে ১৭ হাজার কোটি মার্কিন ডলার। এই প্রকল্প ভাটির দেশ ভারত এবং বাংলাদেশে পানির নিরাপত্তা নিয়ে পুরোনো উদ্বেগকে নতুন করে নাড়া দিয়েছে।
এর মধ্যে গত সোমবার পররাষ্ট্র উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে প্রকল্পটি নিয়ে চীনের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন।
চীনের ওই আশ্বাসে ঢাকা আশ্বস্ত কি-না, এমন প্রশ্নে বৃহস্পতিবার পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, “আমাদের অবস্থানটা এ পর্যন্ত যেটুকু তাকে জানিয়েছি, সেটা হল যে, আমরা চাই যে হাইড্রোলজিকাল তথ্য আদান-প্রদান হোক আমাদের মধ্যে এবং সেটা বিচার-বিবেচনা করা হোক।
“তার মানে এই না যে, তারা ড্যাম নিয়ে এগিয়ে যাবে না। আমাদের ক্ষতি যাতে মিনিমাম হয় অথবা যাতে না হয়, আমরা সেই চেষ্টাটা করতে থাকব। এখানে ভারতেরও স্বার্থ আছে। ভারতও বিষয়টাকে দেখছে।”
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “আমাদের নদীগুলো আমাদের দেশে উৎস শুরু না এবং সেই নদীগুলোর উপরে বিভিন্ন স্ট্রাকচার তৈরি হয়েছে এবং হতে থাকবে। আমরা সেটা ঠেকাতে পারব না।
“আমাদেরকে দেখতে হবে যে, এতে করে আমাদের উপরে ক্ষতি যাতে না হয়, যদি হয় সেটা যাতে খুব সীমিত থাকে- এটা আমাদের চেষ্টা চালু থাকবে। সুতরাং আমরা এটাকে সেভাবেই দেখব।”
ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক
ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক প্রসঙ্গে এক প্রশ্নে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, “আমি আপনাদের প্রথম দিন থেকে বলেছি যে, আমরা ভারতের সাথে ভালো সম্পর্ক চাই, গুড ওয়ার্কিং রিলেশন অন দ্য বেসিস অব রেসিপ্রোসিটি অ্যান্ড মিউচুয়াল রেসপেক্ট। আমাদের এই অবস্থান অটুট আছে।
“আমরা তাদের সাথে ভালো সম্পর্ক চাই না–এই কথাতো কেউ বলেনি; আমি বা আমার সরকারের কেউ বলেনি এই কথা।”
মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমান বাহিনীর প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হয়ে আহতদের চিকিৎসায় সহায়তা দিতে বুধবার একটি বিশেষজ্ঞ দল পাঠিয়েছে ভারত।
এই দল আসার মধ্য দিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সঙ্গে ভারতের ‘শীতল সম্পর্ক’ স্বাভাবিকতার দিকে যাচ্ছে কি-না, এমন প্রশ্ন করা হয় পররাষ্ট্র উপদেষ্টাকে।
এই প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে সম্প্রতি ভারতের আম পাঠানো এবং জনগণের সঙ্গে জনগণের সংযোগ ‘ভালোভাবে থাকার’ কথা বলেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ।
চিকিৎসক পাঠানোর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “এই ঘটনা ঘটার পরে যে দেশগুলো আমাদের সহায়তা দিতে চেয়েছে, তাদের মধ্যে ভারতও আছে। আমরা বার্ন ইনস্টিটিউটের কাছ থেকে তথ্য নিয়েছি, তাদের কী প্রয়োজন। তারা যেটা বলেছেন, সে অনুযায়ী আমরা তাদেরকে বলেছি, তারই প্রেক্ষিতে টিমটা এসেছে।
“এটা পিপল টু পিপল কনটাক্টের অংশ। পিপল টু পিপল কনটাক্টতো সবসময় ভালো। আমি মনে করি যে, এটা একটা পজিটিভ জিনিস।”
অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের পর পররাষ্ট্র নীতিতে কোনো দৃষ্টিভঙ্গিতগত পরিবর্তন এসেছে কি-না, এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, “আমরাতো সবার সাথে ভালো সম্পর্ক রাখার চেষ্টা করছি। আমরা কারও সাথে কিন্তু এমন কিছু করছি না, যাতে সম্পর্ক খারাপ হতে পারে।
“আমরা প্রতিনিয়ত এই সম্পর্ক ভালো রাখার চেষ্টা করতেছি, স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করছি এবং কারও উপরে অতিরিক্ত নির্ভরশীল হচ্ছি, তাও কিন্তু না।”
ভারতের সঙ্গে সম্পর্কে বিষয়ে আরেক প্রশ্নে তিনি বলেন, “ভারতের সাথে আমরা লক্ষ্য হল ভালো সম্পর্ক বজায় রাখা। তবে, পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং সম্মানের সঙ্গে।”