Published : 19 Mar 2026, 02:00 PM
ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকায় গুলি ও ছুরিকাঘাতে কলেজ ছাত্র রাকিবুল ইসলাম রাকিবকে হত্যার ঘটনায় ৫ জনকে গ্রেপ্তারের তথ্য দিয়েছে পুলিশ।
তাদের একজনের কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত পিস্তলটিও উদ্ধার করা হয়েছে বলে ডিএমপির গণমাধ্যম ও জনসংযোগ বিভাগের উপকমিশনার তালেবুর রহমান জানিয়েছেন।
তবে প্রাথমিকভাবে গ্রেপ্তারদের বিস্তারিত নাম-পরিচয় তিনি প্রকাশ করেননি।
তালেবুর রহমান বলছেন, রাকিব হত্যার রহস্য পুলিশ ইতোমধ্যে ‘উদঘাটন’ করেছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত জানানো হবে।
এর আগে শাহবাগ থানার ওসি মো. মনিরুজ্জামান এ হত্যাকাণ্ডে তিনজনকে হেফাজতে নেওয়ার কথা বলেছিলেন।
পুলিশের অন্য এক কর্মকর্তা বলেছিলেন, হামলার সঙ্গে সরাসরি জড়িত আরও দুইজনকে শনাক্তের পর নজরদারিতে রাখা হয়েছে, তাদেরকে যে কোনো সময় তাদের গ্রেপ্তার করা হতে পারে।
রোববার রাতে শহীদ মিনারে বোরহান উদ্দিন কলেজের বিএ দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী রাকিব আহমেদকে (২৫) কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করা হয়।
রাকিব টিকটক ও বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের জন্য ভিডিও কন্টেন্ট বানাতেন। তার বাবা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারী।
রাত সোয়া ৯টার দিকে শহীদ মিনারে বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিচ্ছিলেন রাকিব। সেখানে তিন-চারজন মিলে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে রাকিবকে। পরে মাথায় গুলি করা হলে রাকিবের মৃত্যু হয়।
তার বন্ধু আল-আমিনের ভাষ্য, ছুরিকাঘাত ও গুলি করার পর হামলাকারীরা পালিয়ে যায়।
রাকিবের গ্রামের বাড়ি ভোলা সদরের চৌমুহনী গ্রামে। তার বাবার নাম তরিকুল ইসলাম খোকন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মৈত্রী হলের কর্মী। ঢাকার নিমতলী নাজিম উদ্দিন রোডে পরিবারের সাথে থাকতেন রাকিব।
তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, 'নারী সংক্রান্ত ঘটনাকে কেন্দ্র করে' রাকিবুলকে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পর সাধারণ জনতা হামলাকারী এক যুবককে আটক করে পুলিশে দেয়। জিজ্ঞাসাবাদে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে আরো চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এ ঘটনায় রাকিবের বাবা তরিকুল ইসলাম খোকন শাহবাগ থানায় একটি হত্যা মামলা করেছেন।
পুলিশ বলেছে, রাকিবের শরীরের বিভিন্ন জায়গায় ১০টি কোপের চিহ্ন রয়েছে। এ ছাড়া দুটি গুলির চিহ্নও রয়েছে।
যার মধ্যে একটি গুলি মাথার ডান পাশে কানের উপর দিয়ে ঢুকে মাথার বাঁ পাশ দিয়ে বের হয়ে যায়। আরেকটি পিঠের ডানপাশে লেগেছে।
রাকিবের মা রাজিয়া বেগম বলছেন, তার ছেলের সঙ্গে ‘কারো কোনো শত্রুতা ছিল না’।
তবে রাকিবের স্ত্রী হাবিবা আক্তার ঢাকা মেডিকেলে মর্গে বলেছিলেন, "বগুড়ায় এক কনটেন্ট ক্রিয়েটরের বিয়েতে গিয়ে জান্নাত মুন নামে এক কনটেন্ট ক্রিয়েটরের সঙ্গে আমার স্বামীর পরিচয় হয়। এরপর থেকে জান্নাত আমার বাসায় যাতায়াত করত।
"আমাদের বাসায় থাকাকালে আমার স্বামী টের পায়, জান্নাত কার সঙ্গে যেন ফোনে মাদক বহনের বিষয়ে কথা বলত। বিষয়টি নিয়ে জান্নাতের বয়ফ্রেন্ড আমার স্বামীকে হত্যার হুমকি দেয়। এর কিছুদিন পরে ফেইসবুকে কমেন্ট করা নিয়েও জান্নাতের বয়ফ্রেন্ড আবারো হুমকি দেয়। তখন গুলি করে হত্যার হুমকি দেয়।"
রোববার রাতে এক বড় ভাইয়ের সঙ্গে শহীদ মিনার এলাকায় দেখা করতে গেলে ওই 'হুমকিদাতারই ' পরিকল্পিতভাবে রাকিবকে হত্যা করেছে বলে স্ত্রীর ধারণা।
পুরনো খবর