Published : 15 Mar 2026, 04:00 PM
গ্রাহকের সঙ্গে ‘প্রতারণা করে অর্থ আত্মসাৎ ও পাচারের’ অভিযোগ থাকায় অনলাইনে উড়োজাহাজের টিকেট বুকিংয়ের প্ল্যাটফর্ম ফ্লাইট এক্সপার্টের ২০টি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধের আদেশ দিয়েছে আদালত।
এসব হিসাবে ৪ কোটি ১০ লাখ ৯৪৬ টাকা থাকার কথা আদালতকে জানিয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ-সিআইডি।
সিআইডির আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে রোববার ঢাকা মহানগর দায়রা জজ মো. সাব্বির ফয়েজ ফ্লাইট এক্সপার্টের ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধের আদেশ দেন।
সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. রিয়াজ হোসেন এ তথ্য দিয়েছেন।
গত বছর ২ অগাস্ট হঠাৎ করেই বন্ধ হয়ে যায় ফ্লাইট এক্সপার্টের ওয়েবসাইট। সেই সঙ্গে কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সালমানের দেশত্যাগের গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে।
সে দিন কোম্পানির বিরুদ্ধে মতিঝিল থানায় মামলা করেন সরকার ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলসের মালিক বিপুল সরকার।
মামলা হওয়ার পর পুলিশ রাতে ফ্লাইট এক্সপার্টের তিনজন কর্মীকে গ্রেপ্তার করে। বাকি দুই আসামি কোম্পানির এমডি সালমান বিন রাশিদ এবং তার বাবা মক্কা গ্রুপের চেয়ারম্যান এম এ রাশিদ।
মামলায় তাদের বিরুদ্ধে ৫-৬ হাজার কোটি টাকা ‘আত্মসাৎ করে বিদেশ পালানোর’ অভিযোগ করা হয়েছে।
সে দিন রাতে গ্রেপ্তার হওয়া সাঈদ আহমেদ মতিঝিল থানায় একটি জিডি করেন। গ্রেপ্তার হওয়া ওপর দুজন সাকিব হোসেন ও এ কে এম সাদাত হোসেনও তার সঙ্গে জিডি দায়ের করতে মতিঝিল থানায় গিয়েছিলেন। সেখানেই পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করে।
জিডিতে সাঈদ অভিযোগ করেন, কোম্পানির এমডি সালমান সে দিনই কাউকে কিছু না জানিয়ে পরিবারসহ বিদেশে ‘পালিয়ে’ যান। তিনি কর্মীদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে কোম্পানি বন্ধের কথা বলেন।
ফ্লাইট এক্সপার্টের ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ চেয়ে সিআইডির এসআই জহির রায়হানের করা আবেদনে বলা হয়েছে, বিভিন্ন ব্যক্তি এবং প্রতিষ্ঠানের কাছে অনলাইনে উড়োজাহাজের টিকেট বিক্রি ও বুকিংয়ের অর্থ এসব ব্যাংক হিসাবে অগ্রিম গ্রহণ করা হয়।
সিআইডি বলছে, এ ঘ্টনা মানিলন্ডারিং বা অর্থ পাচারের অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ত। সুষ্ঠু অনুসন্ধানের স্বার্থে কোম্পানির ব্যাংক হিসাবগুলো অবরুদ্ধ করা প্রয়োজন, না হলে এ অর্থ অন্যত্র হস্তান্তর বা বেহাত হতে পারে বলে তারা মনে করছে।