Published : 27 Jul 2025, 01:39 PM
ঢাকা মহানগর এলাকার বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনাকে (ড্যাপ) ‘বৈষম্যমূলক’ বর্ণনা করে এর সংশোধনের দাবি তুলেছে বাংলাদেশ স্থপতি ইনস্টিটিউট।
দেশে কর্মরত স্থপতিদের সংগঠনটি বলছে, ঢাকা শহরকে বাঁচাতে হলে দ্রুত তথ্য হালনাগাদ করে নতুন ড্যাপ তৈরি করতে হবে। বিদ্যমান ড্যাপে নিম্ন শ্রেণির নাগরিকরা বাসযোগ্যতা হারাচ্ছে এবং পরিবেশ বিপন্ন হচ্ছে।
রোববার সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনী মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলন করে চারটি দাবি তুলে ধরে স্থপতি ইন্সটিটিউট। ‘জনবৈরী ড্যাপ, বৈষম্যপূর্ণ পরিকল্পনা: নিম্ন নাগরিক বাসযোগ্যতা ও বিপন্ন পরিবেশ’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে ড্যাপের ১২টি আইনগত ও তথ্যগত ত্রুটিও তুলে ধরা হয়।
২০২২ সালের ২৪ অগাস্ট নতুন ড্যাপ (২০২২-২০৩৫) কার্যকরের গেজেট প্রকাশ করে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। কিছু জায়গায় ছাড় দিয়ে ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে ড্যাপ সংশোধন করে নতুন প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
তাতে সরকারি-বেসরকারি আবাসন, অপরিকল্পিত এলাকা, ব্লক-ভিত্তিক আবাসন, একত্রীভূত প্লটে ফ্লোর এরিয়া রেশিও (এফএআর) সুবিধা বাড়ানো হয়। পাশাপাশি ভবনের প্রশস্ততা ও উচ্চতা বাড়ানোরও সুযোগও বাড়ে। ভবন নির্মাণে সামনের সড়কের প্রশস্ততার ক্ষেত্রেও ছাড় দেওয়া হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, “কিছু গোষ্ঠীর স্বার্থে তড়িঘড়ি করে ড্যাপ রচনা করা হয়। পরবর্তী সময়ে গণশুনানি উপেক্ষা করে প্রহসনমূলক সংশোধন করা হয়। আইনি ব্যত্যয়, প্রকাশিত তথ্যের অপর্যাপ্ততা, প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় অস্বচ্ছতা, পরিবেশ বিপর্যয় (কৃষি জমি বিনষ্ট ও প্রাকৃতিক জলাধার ভরাট), ভবন নির্মাণের অনুমোদন প্রক্রিয়ায় দুর্নীতি বৃদ্ধি, বৈষম্যমূলক নীতির প্রয়োগ, জনভোগান্তি বৃদ্ধিসহ অসংখ্য অসংগতি নির্ভর এই ড্যাপ (২০২২-৩৫) বর্তমানে ভবন নির্মাণ শিল্পে স্থবিরতা সৃষ্টি করেছে।

“শহরের নাগরিক বাসযোগ্যতা এবং পরিবেশ আজ বিপন্ন করে তুলেছে। তার প্রমাণ ঢাকা শহর ড্যাপ প্রণয়নের পরে গত চার বছরে বাসযোগ্য শহরের তালিকায় ১৩৮ থেকে ১৭১-এ নেমে এসেছে।”
বাংলাদেশ স্থপতি ইনস্টিটিউটের সভাপতি আবু সাঈদ এম আহমেদ বলেন, “ঢাকাকে বাঁচাতে হলে এখনই দরকার ড্যাপ বাতিল করা। বর্তমান ড্যাপে অনেক ডেটা ভুল আছে। সেগুলো সংশোধন করে নতুন ড্যাপ তৈরি করতে হবে।”
ইতোমধ্যে স্থপতি ইনস্টিটিউট সরকারের কাছে নতুন ড্যাপ তৈরির প্রস্তাব দিয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, “ঢাকা নিয়ে ত্রিমাত্রিক সার্ভে করার কথা আমরা বলেছি এবং ডেটা আপডেট করে নতুন ড্যাপ বানাতে হবে।”
স্থপতি ইনস্টিটিউটের সাধারণ সম্পাদক মাসুদ উর রশিদ বলেন, “আমরা বহুদিন ধরে রাজউকের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও কোনো প্রতিফলন পাইনি, তাই আজ জনগণের দাবি ও অধিকার তুলে ধরতে আপনাদের সামনে দাঁড়িয়েছি।
“জনদুর্ভোগ এড়াতে, ভবিষ্যতের ঢাকা বাঁচাতে, বাসযোগ্য নগর গড়তে এবং নির্মাণ শিল্পের সাথে যুক্ত লক্ষ মানুষের স্বার্থ রক্ষায় আমাদের সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে। আমরা বিশ্বাস করি, সচেতন ও ঐক্যবদ্ধ জনগণই পারে টেকসই, ন্যায্য ও সমৃদ্ধ ঢাকা গড়ে তুলতে।”
চার দাবি
সংবাদ সম্মেলন থেকে চারটি দাবি তুলে ধরা হয়, যার মধ্যে আছে-
• বর্তমান স্ট্রাকচার প্ল্যান এবং তিনধাপ ভিত্তিক মহাপরিকল্পনার সবশেষ গেজেটের তৃতীয় ধাপের ড্যাপ (২০২২-২০৩৫) বাতিল করা।
• রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) এবং গাজীপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের আইনের সঠিক ও যৌক্তিক বাস্তবায়নের জন্য ডিজিটাল এবং সহজলভ্য ভূমি ব্যবহার মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন।
• প্রাকৃতিক ও মানবসৃষ্ট দুর্যোগ বিবেচনায় নিয়ে দুর্যোগ সহনীয় একটি অংশগ্রহণমূলক ও হালনাগাদ মৌজা ভিত্তিক ড্যাপ তৈরি এবং তা প্রতি পাঁচ বছর অন্তর পর্যালোচনা ও পরিচালনা করা।
• বৃহত্তর ঢাকা মহানগরীসহ পাশের গাজীপুর, সাভার, কেরাণীগঞ্জ ও নারায়ণগঞ্জ এলাকা নিয়ে অবিলম্বে প্রাকৃতিক ও মানবসৃষ্ট দুর্যোগ সহনশীল ভূমি ব্যবহার পরিকল্পনা প্রণয়ন করা।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন স্থপতি ইনস্টিটিউটের সহসভাপতি (আন্তর্জাতিক সম্পর্ক) স্থপতি খান মোহাম্মদ মাহফুজুল হক, সহসভাপতি (জাতীয় বিষয়াদি) স্থপতি নওয়াজীশ মাহবুব, সম্পাদক (পেশা) স্থপতি ওয়াহিদ আসিফ।