ভারতের বাঁধে দক্ষিণ-পশ্চিম ও উত্তরাঞ্চল মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত: নদী বাঁচাও আন্দোলন
“দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে লবণাক্ততা বৃদ্ধি, উত্তরাঞ্চলে মরুকরণ, ভূগর্ভস্থ পানির স্তর হ্রাস এবং কৃষি উৎপাদন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে,” বিজ্ঞপ্তিতে বলেছে নদী বাঁচাও আন্দোলন।
ফারাক্কাসহ ভারতের একতরফা বাঁধ ও পানি প্রত্যাহারের ফলে বাংলাদেশের নদীগুলোর পানির স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হওয়ার কথা বলছে ‘নদী বাঁচাও আন্দোলন বাংলাদেশ’।
সংগঠনটি বলছে, এর ফলে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে লবণাক্ততা বৃদ্ধি, উত্তরাঞ্চলে মরুকরণ, ভূগর্ভস্থ পানির স্তর হ্রাস এবং কৃষি উৎপাদন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার নদী বাঁচাও আন্দোলনের উদ্যোগে এক আলোচনা সভায় বক্তারা ভারতের বাঁধের কারণে বাংলাদেশের বিরূপ পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন বলে সংগঠনটি এক বিজ্ঞপ্তিতে তুলে ধরেছে।
আলোচনাসভার বক্তাদের বক্তব্য তুলে ধরে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “নদী দখল, দূষণ, অবৈধ বালু উত্তোলন, অপরিকল্পিত শিল্পায়ন এবং নগরায়ণের কারণে নদীগুলোর স্বাভাবিক প্রবাহ ও পরিবেশ ভেঙে পড়ছে। নদী রক্ষায় কার্যকর নীতি ও কঠোর বাস্তবায়নের অভাব পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
“নদী রক্ষা কোনো একক সংগঠন বা সরকারের কাজ নয়। এটি একটি জাতীয় আন্দোলনে পরিণত করতে হবে।”
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, “বাংলাদেশের নদ-নদী অস্তিত্ব সংকটে। একসময়ের প্রাণবন্ত ও প্রবহমান নদীগুলো ক্রমশ নাব্যতা হারিয়ে মৃতপ্রায় হয়ে পড়ছে, যা দেশের কৃষি, মৎস্য, জীববৈচিত্র্য এবং সামগ্রিক পরিবেশের ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
“যদি এখনই কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করা হয়, তাহলে বাংলাদেশের নদী ব্যবস্থা সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হয়ে যাবে, যা দেশের অস্তিত্বের জন্য এক মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়াবে।”
নদী ও দেশের প্রাণ-প্রকৃতি বাঁচাতে বেশকিছু পরামর্শও তুলে ধরা হয় বিজ্ঞপ্তিতে।
সভায় নদী বাঁচাও আন্দোলনের আহ্বায়ক কামরুজ্জামান, বাংলাদেশ কৃষক ফেডারেশনের সভাপতি বদরুল আলম, মো. সাদি, শামসুল ইসলাম মজনু, বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. ইদ্রিস ভুইয়া উপস্থিত ছিলেন।
