দেশীয় খেলা যেন হারিয়ে না যায়: প্রধানমন্ত্রী

“আমাদের নিজস্ব দেশীয় খেলাগুলো, হাডুডু থেকে শুরু করে সবগুলো খেলা সক্রিয় রাখতে উদ্যোগ নিতে হবে।”

নিজস্ব প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 7 Feb 2024, 07:16 AM
Updated : 7 Feb 2024, 07:16 AM

দেশীয় খেলাগুলো যেন হারিয়ে না যায়, সেজন্য সবাই মিলে উদ্যোগী হওয়ার তাগিদ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। 

তিনি বলেছেন, "আমাদের কিছু দেশীয় খেলা, সেই ডাংগুলি থেকে শুরু করে, বিভিন্ন খেলাধুলা আগে প্রচলিত ছিল। সেগুলো আমাদের চালু করা উচিত। আমাদের নিজস্ব দেশীয় খেলাগুলো, হাডুডু থেকে শুরু করে সবগুলো খেলা সক্রিয় রাখতে উদ্যোগ নিতে হবে। আমাদের ছেলে মেয়েরা সকলে মিলে উদ্যোগ নেবেন, যেন দেশীয় খেলাগুলো হারিয়ে না যায়।" 

বুধবার রাজশাহীতে ৫২তম শীতকালীন জাতীয় ক্রীড়া প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্বের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করছিলেন প্রধানমন্ত্রী। গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি তিনি অনুষ্ঠানে যোগ দেন। 

শেখ হাসিনা বলেন, "আমাদের ছেলেমেয়েরা ভালো এবং মেধাবী। সুযোগ করে দিলে আরো ভালো করতে পারবে। সব ধরনের খেলাকে আমাদের হাতে আনতে হবে।”  

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান খেলাধুলার প্রতি কতটা আগ্রহী ছিলেন, সে বিষয়টি তুলে ধরে তার মেয়ে শেখ হাসিনা বলেন, “আমি মনে করি, বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে বলে আমাদের ছেলেমেয়েরা খেলাধুলায় ব্যাপক সুযোগ পাচ্ছে। আন্তর্জাতিক পর্যায় পর্যন্ত তাদের দক্ষতা প্রমাণ রাখতে পারছে। জাতির পিতার উদ্যোগে স্বাধীনতার পর এই শীতকালীন জাতীয় ক্রীড়া প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছিল।

"আমাদের পরিবারটা সবসময় খেলাধুলার সঙ্গে জড়িত ছিল। আমার দাদা নিজেই ফুটবল প্লেয়ার ছিলেন, আমার বাবাও ফুটবল প্লেয়ার ছিলেন এবং আমার ভাই জামাল, কামাল, রাসেল সবাই স্পোর্টসের সাথে জড়িত ছিল। এমনকি কামালের স্ত্রী সুলতানা কামাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্লু উপাধি পেয়েছিল। জামালের স্ত্রী পারভীন জামালও খেলাধুলার সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত ছিল।” 

সরকারপ্রধান বলেন, "আমাদের ছেলেমেয়ের নাতি পুতিটাও ফুটবল খেলে। ফুটবল হচ্ছে বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলা, তার সাথে অন্যান্য খেলাধুলা… এখন আমাদের দেশীয় খেলাগুলোর দিকে আমাদেরকে বেশি আকর্ষণ করে গড়ে তোলা উচিত। দেশীয় খেলাকেও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। খেলাধুলার মধ্য দিয়ে শারীরিক চর্চা হয়, খেলাধুলার মধ্য দিয়ে বাচ্চাদের ছোটবেলা থেকে ঐক্যের বন্ধন সৃষ্টি হয়। প্রতিযোগিতার পাশাপাশি বন্ধুত্বের একটা সম্পর্ক সৃষ্টি হয়। 

“সেখানে মনে করি খেলার প্রতি আরো দৃষ্টি দেওয়া উচিত। আমরা সরকার গঠনের পর থেকে খেলাধুলার প্রতি আরো মনোযোগী হয়েছি। যেখানে প্রাইমারি স্কুলে মেয়েদের বঙ্গমাতা ফুটবল টুর্নামেন্ট, ছেলেদের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ফুটবল টুর্নামেন্ট শুরু করি। পাশাপাশি আন্তঃস্কুল প্রতিযোগিতা যেমন শুরু হয়েছে, শুধু ফুটবল ক্রিকেট না, সব ধরনের খেলাধুলার দরকার।”

আন্তঃস্কুল, আন্তঃকলেজ, আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় প্রতিযোগিতা আয়োজনে জোর দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, "আমাদের ছেলেমেয়েদের আরও উন্নত প্রশিক্ষণ দরকার। প্রশিক্ষক তৈরি করা একান্তভাবে দরকার। আমরা প্রত্যেকটা বিভাগে একটা করে ক্রীড়া প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলব, বিকেএফপি আটটা বিভাগে আটটা হবে। সেখানে আমাদের ছেলেমেয়েরা ছোটবেলা থেকে খেলাধুলা আরো পারদর্শী হবে। 

“আজকে আমাদের ভালো খবর হলো যে ভুটানকে আমরা চার গোলে হারিয়েছি। ফুটবলে আমাদের মেয়েরা খুব ভালো করছে। খেলাধুলার দিক দিয়ে মেয়েরা একটু বেশি এগিয়ে যাচ্ছে মনে হচ্ছে। ছেলেরা পিছিয়ে নেই, তবে আরও এগিয়ে যাবে। ছোটবেলা থেকে যদি ভালো ট্রেনিং এর ব্যবস্থা করতে পারি, তাহলে তারা তাদের দক্ষতার পরিচয় দিতে পারবে।" 

দেশীয় খেলায় আরো গুরুত্ব দেওয়ার তাগিদ দিয়ে সরকারপ্রধান বলেন, "আমার প্রত্যেকটা উপজেলা পর্যন্ত খেলার মাঠ, মিনি স্টেডিয়াম তৈরি করছি। বেশ কয়েকটা হয়ে গেছে, আরো বাকি আছে। এটা তৈরি করার উদ্দেশ্য হল, আমাদের ছেলেমেয়েরা যেন সারা বছর খেলাধুলার সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারে।" 

শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য দেন রাজশাহী সিটি করপোরেশন মেয়র এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন। রাজশাহীর মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠানটি হয়।