‘বাঙালিদের সহযোগিতায় বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেছে সাম্রাজ্যবাদ’
সাম্রাজ্যবাদ দেখল, যে ভালোবাসা দিয়ে যদি একটা দেশকে স্বাধীন করতে পারে, তাহলে সে বিশ্বকে, যেকোনো সময় সাম্রাজ্যবাদকে নাড়া দিতে পারে। তারা (সাম্রাজ্যবাদ) হিসাব করে দেখল, একে (বঙ্গবন্ধু) হত্যা করা দরকার। এতেই সাম্রাজ্যবাদ রাজাকারদের সাথে হাত মিলাল এবং হত্যা করল।"
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যায় সাম্রাজ্যবাদী শক্তির হাত ছিল বলে মনে করেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্টের সদস্য শেখ কবির হোসেন।
বঙ্গবন্ধুর ৪৮তম শাহাদাতবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের আলোচনা সভায় তিনি বলেন, "বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হল কেন, কারণটা কী? খালি কি রাজাকাররা হত্যা করেছে?
"…আমাদের বড় বড় লেখকরা বা বড় বড় পণ্ডিতরা মনে করতে পারেন, কিন্তু আমি বিশ্বাস করি না। আমি বিশ্বাস করি, বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হয়েছে অন্য কারণে। সাম্রাজ্যবাদ তাকে হত্যা করেছে বাঙালিদের সাপোর্ট নিয়ে।"
রাজারবাগে বাংলাদেশ পুলিশ অডিটরিয়ামে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভার প্রধান অতিথি ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।
অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. মোস্তাফিজুর রহমান, পুলিশ মহাপরিদর্শক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন, বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এসবি প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি মো. মনিরুল ইসলাম।
সভার মুখ্য আলোচক শেখ কবির হোসেন বলেন, “বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, ‘বিশ্ব আজ দুই ভাগে বিভক্ত। এক ভাগে শোষিত, নির্যাতিত, নিষ্পেষিত, অবহেলিত, মুক্তিকামী। আরেক দিকে শোষক, সাম্রাজ্যবাদ। আমি শোষিতদের পক্ষে’।
“…তারপর বাংলাদেশ যে স্বাধীন হল তখন সাম্রাজ্যবাদ দেখল গেরিলা ট্রেইনিং, কোনো ধরনের ট্রেইনিং না দিয়ে ভালোবাসা দিয়ে একটা দেশকে স্বাধীন করল। আমরা যুদ্ধ করেছি। ভারতের সহযোগিতা আমরা পেয়েছি। বঙ্গবন্ধু হয়ত তাদেরকে বলেছিলেন সহযোগিতা করতে। ভারতের সাহায্য এবং আমাদের মনোবল দিয়েই আমরা যুদ্ধ করেছি।"
শেখ কবির বলেন, “মানুষকে বঙ্গবন্ধু ভালোবাসতেন। তখন সাম্রাজ্যবাদ দেখল, যে ভালোবাসা দিয়ে যদি একটা দেশকে স্বাধীন করতে পারে, তাহলে সে বিশ্বকে, যেকোনো সময় সাম্রাজ্যবাদকে নাড়া দিতে পারে। তারা (সাম্রাজ্যবাদ) হিসাব করে দেখল, একে (বঙ্গবন্ধু) হত্যা করা দরকার। এতেই সাম্রাজ্যবাদ রাজাকারদের সাথে হাত মিলাল এবং হত্যা করল।"
প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, “বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের সাথে যারা জড়িত, বিদেশে কে কোথায় আছে তা আমরা চিহ্নিত করতে পেরেছি।
“তাদেরকে দেশে এনে বিচারের রায় কার্যকর করা হবে। যতদিন বেঁচে আছি, আমাদের এই প্রচেষ্টা থাকবেই।”
আলোচনায় অংশ নিয়ে বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এসবি প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, “বঙ্গবন্ধুকন্যা যে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তুলেছেন, সে ডিজিটাইজেশনের সুযোগ নিয়ে, সাইবার স্পেসকে ব্যবহার করে নানাভাবে হুমকি-ধমকি দিয়ে, পুলিশকে ভয়ভীতি দেখিয়ে তার কর্তব্য পালন থেকে বিচ্যুত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।”
তিনি বলেন, “জনগণের পুলিশ হওয়ার জন্য পুলিশ জনগণের পাশে দাঁড়াবে। যেকোনো ষড়যন্ত্র ও চক্রান্তকে নস্যাৎ করবে এবং আইনগত দায়িত্ব পালন করে যাবে। সেজন্য পুলিশ প্রস্তুত রয়েছে “
ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার খন্দকার গোলাম ফারুক, র্যাবের মহাপরিচালক এম খুরশীদ আলম আলোচনায় সভায় উপস্থিত ছিলেন।
