Published : 12 Jan 2026, 07:29 PM
অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব থেকে অবসর নেওয়ার পর মার্চ মাসের তৃতীয় সপ্তাহে জাপান সফরের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস।
মর্যাদাপূর্ণ সাসাকাওয়া ফাউন্ডেশনের সঙ্গে একটি যৌথ সামুদ্রিক গবেষণা উদ্যোগে অংশ নিতে তিনি জাপানে যাবেন বলে দেশটির এক প্রতিনিধি দলকে তিনি জানিয়েছেন।
রোববার ঢাকায় রাষ্ট্রীয় অতিথিভবন যমুনায় সাবেক জাপানি ফার্স্ট লেডি আকি আবে এবং জাপানি উদ্যোক্তাদের একটি প্রতিনিধিদল সৌজন্য সাক্ষাতে এলে তাদের এ কথা বলেন মুহাম্মদ ইউনূস।
সরকারপ্রধানের দপ্তরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রধান উপদেষ্টা জাপানি বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগ সম্প্রসারণের কথা বলেন। পাশাপাশি বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ জাপানে চাকরির জন্য আরও বেশি বাংলাদেশি শ্রমিক নিয়োগের আহ্বান জানান।
মিসেস আকি আবে বাংলাদেশে শান্তি ও স্থিতিশীলতা পুনরুদ্ধার এবং দেশের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বের ‘প্রশংসা’ করেন।
বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা এবং সাবেক ফার্স্ট লেডির মধ্যে বিনিয়োগ, সামুদ্রিক গবেষণা এবং বড় বয়স্ক জনসংখ্যার দেশ জাপানের জন্য সেবিকা ও নার্স নিয়োগে সম্ভাব্য সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়।
মিসেস আবে বিশেষভাবে সামুদ্রিক দূষণ রোধে সহযোগিতার আগ্রহ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, "বঙ্গোপসাগরে যাতে আবর্জনা ফেলা না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে। আমরা এই প্রচেষ্টায় সহযোগিতা করতে চাই। আমি আশা করি ভবিষ্যতে আমরা কিছু করতে পারব।"
তিনি সামুদ্রিক দূষণের ঝুঁকি সম্পর্কে মানুষকে শিক্ষিত করতে ব্যাপক সচেতনতামূলক প্রচারের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।
প্রধান উপদেষ্টা জাপানি প্রতিনিধিদলকে বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারপ্রধানের দায়িত্ব থেকে অবসর নিয়ে তিনি মার্চ মাসের তৃতীয় সপ্তাহে টোকিও সফরের পরিকল্পনা করেছেন। এই সফরের উদ্দেশ্য হল সাসাকাওয়া ফাউন্ডেশনের সঙ্গে একটি যৌথ সামুদ্রিক গবেষণা উদ্যোগে অংশগ্রহণ।
প্রধান উপদেষ্টার আমন্ত্রণে চট্টগ্রাম উপকূল বরাবর তিনটি মডেল মৎস্যজীবী গ্রাম প্রতিষ্ঠার জন্য গঠিত নতুন ‘মহেশখালী–মাতারবাড়ি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ’-এর সঙ্গে একটি চুক্তি স্বাক্ষরের পরিকল্পনাও করেছে সাসাকাওয়া ফাউন্ডেশন।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, জাপানে কর্মসংস্থানের জন্য হাজার হাজার নার্স ও সেবিকার প্রশিক্ষণে তার সরকারের প্রচেষ্টা জোরদার করা হয়েছে। এ উদ্যোগকে সহায়তা করতে জাপানি ভাষা প্রশিক্ষণ কর্মসূচিও সম্প্রসারণ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, আগামী পাঁচ বছরে অন্তত এক লাখ কর্মী জাপানে পাঠানোর লক্ষ্যে বাংলাদেশ ইতোমধ্যে জাপানি বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। শ্রমিক নিয়োগ আরও বাড়াতে মিসেস আবে ও জাপানি প্রতিনিধিদলের সমর্থন প্রত্যাশা করেন প্রধান উপদেষ্টা।
শীর্ষস্থানীয় বায়োফুয়েল উৎপাদক কোম্পানি ইউগলেনার প্রতিষ্ঠাতা মিত্সুরু ইজুমি বাংলাদেশে সামাজিক ব্যবসা উদ্যোগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহায়তা দেওয়ার জন্য বৈঠকে আগ্রহ প্রকাশ করেন।
মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার ১২ ফেব্রুয়ারি অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন আয়োজনের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত। নির্বাচন শেষে তিনি তার পূর্ববর্তী কর্মকাণ্ডে ফিরে যাবেন।
ভবিষ্যতে রাজনীতিতে যোগ দেওয়া কিংবা কোনো সরকারি বা রাষ্ট্রীয় পদে আসীন হওয়ার যে ‘কোনো ইচ্ছা নেই’ সে কথা আবারও তুলে ধরে ইউনূস বলেন, বরং তিনি মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ, তরুণদের মধ্যে উদ্যোক্তা সৃষ্টি এবং তার ‘তিন-শূন্য বিশ্ব’—শূন্য বেকারত্ব, শূন্য নেট কার্বন নিঃসরণ এবং শূন্য নেট সম্পদ কেন্দ্রীভবন–এই দর্শনকে এগিয়ে নেওয়ার ওপর মনোনিবেশ করবেন।
অন্যদের মধ্যে এসডিজি সমন্বয়ক লামিয়া মোরশেদও বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।