Published : 24 Aug 2025, 08:31 PM
জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের উপায় ও পদ্ধতি কী হবে, সে বিষয়ে আইন উপদেষ্টা, অ্যাটর্নি জেনারেলসহ বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে বৈঠক করেছে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন।
রোববার বিকালে ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে এ বৈঠক হয়েছে জানিয়ে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা পবন চৌধুরী বলেন, বৈঠকে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের উপায় ও পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তিনি জানান, বৈঠকে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ নজরুল এবং অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এম এ মতিন ও মইনুল ইসলাম চৌধুরী, সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী শরিফ ভূঁইয়া ও ইমরান সিদ্দিক।
ঐকমত্য কমিশনের পক্ষে বৈঠকে অংশ নেন সহ-সভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ, সদস্য বিচারপতি মো. এমদাদুল হক, ইফতেখারুজ্জামান, বদিউল আলম মজুমদার, সফর রাজ হোসেন ও মো. আইয়ুব মিয়া।
এছাড়া প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার সভায় উপস্থিত ছিলেন।
জুলাই জাতীয় সনদের চূড়ান্ত খসড়ার বিষয়ে শুক্রবার মতামত জানিয়েছে ২৪টি রাজনৈতিক দল। পরে রোববার সন্ধার আগে নাগরিক ঐক্য ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ জুলাই সনদের খসড়ায় মতামত দিয়ে ঐকমত্য কমিশনে জমা দিয়েছে। অর্থাৎ মতামত জানিয়েছে ২৬টি রাজনৈতিক দল।
সব শেষ মতামত না পাঠানোর তালিকায় রয়েছে—গণঅধিকার পরিষদ (জিওপি), রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ ও ইসলামী ঐক্যজোট।
গত বছরের ৫ অগাস্ট ছাত্র-গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর রাষ্ট্র সংস্কারের উদ্যোগ নেয় অন্তর্বর্তী সরকার।
প্রথম ধাপে গঠিত সংস্কার কমিশনগুলোর মধ্যে সংবিধান, নির্বাচন ব্যবস্থা, বিচার বিভাগ, জনপ্রশাসন ও দুর্নীতি দমন কমিশন সংস্কার কমিশনের গুরুত্বপূর্ণ ১৬৬টি সুপারিশের বিষয়ে ৩৩ রাজনৈতিক দলের মতামত নেওয়া হয়।

দুই ধাপে প্রায় সাড়ে পাঁচ মাসের আলোচনা শেষে ৮৪টির মতো প্রস্তাবে মতৈক্য প্রতিষ্ঠা সম্ভব হয়।
দ্বিতীয় দফার বৈঠক শেষে গত ১৬ অগাস্ট জুলাই জাতীয় সনদের চূড়ান্ত সমন্বিত খসড়ার কপি ৩০টি রাজনৈতিক দলের কাছে পাঠায় ঐকমত্য কমিশন।
মতামত পাওয়ার পর সমন্বিত চূড়ান্ত খসড়ার ওপর মাসের শেষ সপ্তাহে দলগুলোর সঙ্গে আবার আলোচনায় বসার কথা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেছিলেন কমিশনের সহসভাপতি আলী রীয়াজ।
জুলাই সনদ ‘সাংবিধানিক ও আইনগতভাবে’ কার্যকরের পাশাপাশি তা নিয়ে আদালতে প্রশ্ন তোলার সুযোগ না রাখার প্রস্তাব করেছে ঐকমত্য কমিশন।
পট পরিবর্তনের পর দীর্ঘ আলাপ-আলোচনার ফসল হিসেবে প্রণয়ন করা এ সনদের ‘পূর্ণাঙ্গ সমন্বিত খসড়ায়’ দলগুলোর কাছে এমন অঙ্গীকার চায় কমিশন।
যদিও বাংলাদেশ জাসদ, বাসদ মার্কসবাদীসহ কয়েকটি দল এর বিরোধিতা করে আসছে।
একই সঙ্গে বিদ্যমান সংবিধান বা অন্য কোনো আইনে ভিন্নতর কিছু থাকলেও এ সনদের বিধান, প্রস্তাব বা সুপারিশ প্রাধান্য পাবে বলে প্রস্তাব করা হয়েছে।
এমন আটটি অঙ্গীকারনামা রেখে দলগুলোর কাছে সনদের চূড়ান্ত সমন্বিত খসড়া পাঠায় কমিশন।
পাশাপাশি এ সনদের যেসব সুপারিশ অবিলম্বে বাস্তবায়নযোগ্য, দেরি না করে সেগুলো পরবর্তী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগেই বাস্তবায়নের পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে এতে।
আইনি সুরক্ষাসহ এ সনদের পূর্ণ বাস্তবায়নে এসব বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে আগেই অঙ্গীকার চায় রাষ্ট্র সংস্কারে কাজ করে আসা এ কমিশন।
সংলাপে অংশ নেওয়া রাজনৈতিক দলগুলোর পাশাপাশি ঐকমত্য কমিশন সংশ্লিষ্টরা বহুল আলোচিত এ সনদে সই করবেন।
এর আগে আইনি সবগুলো দিক খতিয়ে দেখতে রোবারের এ বৈঠক হয়েছে বলে জানিয়েছে ঐকমত্য কমিশন।