০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩

মিরপুরে পোশাক শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ

‘ছিনতাইকারী’ সন্দেহে এক আন্দোলনকারীকে হেফাজতে নিয়ে পুলিশ বক্সে রাখার পর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 01 Nov 2026, 12:25 PM

Updated : 01 Nov 2026, 01:16 PM

ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে রাজধানীর মিরপুর ১০ নম্বরে আন্দোলনরত পোশাক শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়েছে।

শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিপেটার পাশাপাশি জলকামান, কাঁদুনে গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করেছে পুলিশ।

রোববার দুপুর ১২টার সময়ও সংঘর্ষ চলছিল। মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বর পুলিশের নিয়ন্ত্রণে থাকলেও ওই এলাকায় যান চলাচল স্বাভাবিক হয়নি।

পুলিশের ভাষ্য, ‘ছিনতাইকারী’ সন্দেহে আন্দোলনকারীদের মধ্যে একজনকে হেফাজতে নিয়ে পুলিশ বক্সে রাখার পর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এরপর চার দিক থেকে আন্দোলনকারীরা গোলচত্বরের পুলিশ বক্সের দিকে এগিয়ে আসতে থাকলে পুলিশের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ শুরু হয়।

পুলিশের মিরপুর বিভাগের উপ-কমিশনার আবু নাসের রিকাবদার দুপুর ১২টার দিকে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “এখনও সংঘর্ষ চলছে। আমরা তাদের ডিসপার্স করছি। বিস্তারিত পরে জানানো হবে।”

এর আগে সকাল ৯টার দিকে মিরপুরের বিভিন্ন পোশাক কারখানার শ্রমিকরা মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বরে অবস্থান নিয়ে সড়ক অবরোধ করেন।

এতে ওই গোলচত্বর দিয়ে যান চলাচল বন্ধ হয়ে আশপাশের এলাকায় যানজটের সৃষ্টি হয়। যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে বিকল্প পথে গাড়ি চলাচলের ব্যবস্থা করার চেষ্টা করে ট্রাফিক পুলিশ।

পল্লবী থানার ওসি জালাল উদ্দিন বলেন, “সকাল থেকেই মিরপুর ১০, ১১ ও ১২ নম্বরসহ আশপাশের এলাকায় শ্রমিকেরা সড়কে নেমে বিক্ষোভ করছেন। সার্বিক পরিস্থিতি সামাল দিতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। সড়ক থেকে শ্রমিকদের সরিয়ে দিতে পুলিশ কাজ করছে।”

মিরপুর জোন ট্রাফিক বিভাগের সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) মাহফুজুল হক বকশী সকালে বলেন, “পোশাক শ্রমিকরা আজও সড়ক অবরোধ করেছেন। বর্তমানে মিরপুর-১০ নম্বর দিয়ে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। আমরা ডাইভারশন দিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছি।”

শনিবারও মিরপুরের একাধিক এলাকায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন শ্রমিকরা। মিরপুর-১০, মিরপুর-১১, মিরপুর-১২ ও প্রশিকা মোড় এলাকায় তাদের আন্দোলনের কারণে যান চলাচল ব্যাহত হয়।

এর আগে বৃহস্পতিবার মিরপুরের বিভিন্ন এলাকায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান পোশাক শ্রমিকরা। ওই দিন সকাল সাড়ে ৯টার দিকে মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বরে কয়েকশ শ্রমিক সড়কে নামেন।

পরে তারা সেখান থেকে সরে গেলেও একই দাবিতে পূরবী সিনেমা হলের সামনে মেট্রোরেলের ১১ নম্বর স্টেশন এলাকায় আবার সড়ক অবরোধ করেন। দুই দফায় প্রায় ছয় ঘণ্টা সড়ক অবরোধের পর বিকালে শ্রমিকরা সরে গেলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে বেশ কিছুদিন ধরেই আন্দোলন করে আসছেন পোশাক শ্রমিকরা। এর মধ্যে রোববার পোশাক শ্রমিকদের জন্য মজুরি বোর্ড গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন শ্রমমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী আরিফ।