Published : 03 Mar 2026, 10:16 PM
হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব শ্রীকৃষ্ণের দোলযাত্রা বা দোল উৎসব ঘিরে মঙ্গলবার অমর একুশে বইমেলা প্রাঙ্গণ হয়ে উঠেছিল সম্প্রীতির মেলবন্ধনের এক অনন্য নিদর্শন।
নানা ধর্মের দর্শনার্থীদের আনাগোনায় এদিন সন্ধ্যার পর মেলা প্রাঙ্গণ মুখর হয়ে ওঠে।
প্রকাশনা সংস্থাগুলোর বিক্রয় প্রতিনিধিরা জানান, রোজার কারণে দুপুর পর থেকে মেলা ফাঁকা থাকলেও সন্ধ্যায় ইফতারের পর ক্রেতা দর্শনার্থীদের আনাগোনা দেখা যাচ্ছে।
ঝিলিমিলি প্রকাশনীর বিক্রয় প্রতিনিধি অন্বেষা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলছিলেন, " ইফতারের পর দর্শনার্থীরা কিছুটা আসেন, তখন কিছু বিক্রিবাট্টা হয়। আজকে দোল উপলক্ষে একটু দর্শনার্থী এসেছেন।”

বিজ্ঞানবাক্সের বিক্রয় প্রতিনিধি অরজিত বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, "দোল উপলক্ষে আজকে একটু ভিড় আছে। এবারের মেলা ফাঁকাই চলছে। তবে আমাদের স্টল ঘিরে বাচ্চাদের আগ্রহ আছে।"
মেলার ঘুরতে আসা সিদ্ধেশ্বরীর বাসিন্দা শর্মিষ্ঠা বলছিলেন, "দোল উপলক্ষে বন্ধুদের সঙ্গে ক্যাম্পাসের মন্দিরে এসেছিলাম। সেখান থেকেই মেলায় আসা। ঘুরছি, হয়তো বই কিনব।"
স্ত্রী ও চার বছর বয়সী ছেলেকে নিয়ে বাসাবো থেকে মেলায় এসেছিলেন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত এম আই জীলানী। তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, "ইফতারের পর মেলায় এসছি। বাচ্চার জন্য হয়ত কমিকস টাইপের বই কিনব। বন্ধুরাও আসছে, একটু ঘুরব, আড্ডা দেব।"
দক্ষিণ বনশ্রী থেকে মেলায় এসছিলেন মাদ্রাসা ছাত্র জাফর সাদ্দিক। তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, "মেলায় এসেছি ইফতারের পর। এবারই প্রথম আসা। ভালো লাগছে।
"কিছু বই কেনার ইচ্ছা আছে। খুঁজে দেখছি। পেলে কেনার চেষ্টা করব।"

সময় বাড়ার আশা
২৬ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া এবারের একুশে বইমেলা ১৫ মার্চ শেষ হওয়ার কথা। মেলার সময় কিছুটা বাড়ানো গেলে বিক্রি কিছু বাড়ত বলে মনে করছেন বিক্রয় প্রতিনিধিরা।
ঝিলিমিলি প্রকাশনীর অন্বেষা বলেন, “ঈদের তিন দিন মেলা চালানো গেলে কেনাবেচা একটু ভালো হত।"
একই কথা বললেন অনন্যা প্রকাশনার বিক্রয় প্রতিনিধি আশিক। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, "মেলায় এবার তেমন কেনাবেচা নেই।ঈদের তিন দিন মেলা চালানোর সুযোগ দিলে হয়ত কিছু বেচাকেনা হবে।"

মেলায় নতুন ৬৫ বই
বাংলা একাডেমি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, মঙ্গলবার মেলার তথ্যকেন্দ্রে নতুন বই জমা পড়েছে ৬৫টি।
বিকাল ৩টায় বইমেলার মূলমঞ্চে হয় ‘জন্মশতবর্ষ: তাজউদ্দীন আহমদ’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মহিউদ্দিন আহমদ। আলোচনায় অংশ নেন সাজ্জাদ সিদ্দিকী। সভাপতিত্ব করেন অধ্যাপক সলিমুল্লাহ খান।
লেখক বলছি অনুষ্ঠানে নিজেদের বই নিয়ে আলোচনা করেন আলী আহমদ।
বিকেল ৪টায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে কবিতা পাঠ করেন কবি সাখাওয়াত টিপু। আবৃত্তি পরিবেশন করেন এ কে এম দিদার উদ্দিন এবং অনন্যা লাবণী।
এছাড়া ছিল জারিন তাসনিম ঐশ্বর্যর পরিচালনায় সাংস্কৃতিক সংগঠন 'ঐকান্তিক শিল্পীগোষ্ঠী' এবং দীপ্তি রাজবংশীর পরিচালনায় সাংস্কৃতিক সংগঠন 'বাংলাদেশ লোকসঙ্গীত পরিষদ'-এর পরিবেশনা।

বুধবার যা থাকছে
বাংলা একাডেমি জানিয়েছে, বুধবার মেলা শুরু হবে দুপুর ২টায় এবং চলবে রাত ৯টা পর্যন্ত।
বিকেল ৩টায় বইমেলার মূলমঞ্চে হবে 'স্মরণ: সন্জীদা খাতুন' শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান।
সেখানে প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন মফিদুল হক। আলোচনায় অংশ নেবেন মোহাম্মদ আজম। সভাপতিত্ব করবেন ভীষ্মদেব চৌধুরী।
বিকেল ৪টায় রয়েছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।