২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩

প্লাস্টিক দূষণ রোধে দক্ষিণ এশীয় ঐক্যের ডাক বাংলাদেশের

যে পদক্ষেপে সহযোগিতা, উদ্ভাবন ও টেকসই অর্থায়নে সমন্বতি আঞ্চলিক কৌশলের প্রতি গুরুত্বারোপ করেছে বাংলাদেশ।

প্লাস্টিক দূষণ রোধে দক্ষিণ এশীয় ঐক্যের ডাক বাংলাদেশের
শ্রীলঙ্কার কলম্বোতে গোলটেবিল বৈঠকে ‘পলিসি অ্যান্ড রেগুলেটরি চ্যালেঞ্জেস অব ম্যানেজিং প্লাস্টিক ওয়েস্ট' শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 08 Apr 2025, 01:07 PM

Updated : 26 Aug 2026, 12:27 PM

দক্ষিণ এশিয়ার নদ-নদী ও সমুদ্রে প্লাস্টিক দূষণ মোকাবিলায় আঞ্চলিক ঐক্যবদ্ধ পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ।

যে পদক্ষেপে সহযোগিতা, উদ্ভাবন ও টেকসই অর্থায়নে সমন্বতি আঞ্চলিক কৌশলের প্রতি গুরুত্ব তুলে ধরেছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিব ফারহিনা আহমেদ।

শ্রীলঙ্কার কলম্বোতে সোমবার অনুষ্ঠিত গোলটেবিল বৈঠকে ‘পলিসি অ্যান্ড রেগুলেটরি চ্যালেঞ্জেস অব ম্যানেজিং প্লাস্টিক ওয়েস্ট' শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

সেখানে সচিব ফারহিনা আহমেদ এ আহ্বান জানিয়েছেন বলে মঙ্গলবার মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

সচিব ফারহিনা আহমেদ বলেন, “দক্ষিণ এশিয়া বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ নদী ব্যবস্থার আবাসস্থল। এখানকার জলাধারে প্লাস্টিক সীমান্ত পেরিয়ে এসে জমা হয় এবং বাস্তুতন্ত্র ও জীবিকাকে হুমকির মুখে ফেলে।

“এই সমস্যার সমাধানে দরকার সমন্বিত আঞ্চলিক কৌশল, যেখানে সহযোগিতা, উদ্ভাবন ও টেকসই অর্থায়ন থাকবে।”

আলোচনায় প্লাস্টিক দূষণ রোধে তিনটি প্রতিবন্ধকতার কথা তুলে ধরেন তিনি। 

 “অপ্রতুল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, যেমন উন্মুক্তভাবে ফেলা ও পোড়ানো; দুর্বল আইন বাস্তবায়ন; তথ্য বিনিময় ও যৌথ পরিবীক্ষণে আঞ্চলিক সহযোগিতার ঘাটতি হল সমস্যা।”

দক্ষিণ এশীয় বহু খাতভিত্তিক প্লাস্টিক কর্মপরিকল্পনা গঠনের প্রস্তাব দেন সচিব ফারহিনা আহমেদ। তার কথায় এই পরিকল্পনায় বৃত্তাকার অর্থনীতির জন্য সমন্বিত নীতি, প্লাস্টিক উৎপাদন হ্রাসে অভিন্ন মানদণ্ড এবং গ্লোবাল প্লাস্টিকস চুক্তির সঙ্গে সঙ্গতি রাখা প্রয়োজন।

তিনি আঞ্চলিকভাবে বর্জ্য সংগ্রহ, আলাদা করা ও প্রক্রিয়াকরণে যৌথ উদ্যোগ এবং উদ্ভাবনী প্রযুক্তিতে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন। 

এছাড়া বাংলাদেশ ঝুঁকিপূর্ণ ও ক্ষতিকর প্লাস্টিক ধাপে ধাপে বন্ধ করার পাশাপাশি নিরাপদ ও পুনর্ব্যবহারযোগ্য বিকল্প ব্যবহারেরও আহ্বান জানিয়েছেন ফারহিনা আহমেদ। 

আঞ্চলিক প্লাস্টিক ট্র্যাকিং ব্যবস্থা, হটস্পট পরিষ্কারের কর্মসূচি ও আইনের কঠোর প্রয়োগের প্রস্তাব দিয়ে তিনি বলেন, “আমাদের অঞ্চল উপযোগী গবেষণায় বিনিয়োগ করতে হবে। জনসম্পৃক্ততা ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ডিজিটাল পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থাও দরকার।”

 তিনি এক্সটেন্ডেড প্রোডিউসার রেস্পন্সিবিলিটি (ইপিআর) মডেলের ওপর জোর দেন যাতে শিল্পকারখানাগুলো বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় আর্থিকভাবে অংশগ্রহণ করে।"

ফারহিদা আহমেদ আরো বলেন, “আমাদের আলাদা চেষ্টা যথেষ্ট নয়। এখনই সময় সম্মিলিত উদ্যোগ নেওয়ার। আমরা সাহসী সিদ্ধান্ত নেব, প্লাস্টিকমুক্ত দক্ষিণ এশিয়ার জন্য একসঙ্গে কাজ করব।”

পলিসি অ্যান্ড রেগুলেটরি চ্যালেঞ্জেস অব ম্যানেজিং প্লাস্টিক ওয়েস্ট' শীর্ষক আলোচনায় ফারহিনা আহমদের নেতৃত্বে বাংলাদেশের তিন সদস্যের প্রতিনিধিদলে আছেন পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব শামীমা বেগম এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক রাজিনারা বেগম।

এই গোলটেবিল বৈঠকে দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের সরকারি প্রতিনিধি, নীতিনির্ধারক ও পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা অংশ নিয়েছেন।