Published : 24 May 2026, 04:22 PM
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়া বিভিন্ন দলের ২১ জন প্রার্থী বর্ধিত সময়েও নির্বাচনি ব্যয়ের হিসাব জমা দেননি।
এবার তাদের দ্বিতীয় দফা সুযোগ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন-ইসি।
গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুযায়ী নির্বাচনি ব্যয় বিবরণী জমা দিতে ব্যর্থ হলে জেল-জরিমানার বিধান তুলে ধরে ১৪ জুন পর্যন্ত সময় দিয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে প্রার্থীদের।
১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিভিন্ন দলের ও স্বতন্ত্র দুই সহস্রাধিক প্রার্থী অংশ নেয়। ভোটের ফলাফল গেজেটে প্রকাশ হয় পরদিন; এর পরবর্তী এক মাসের মধ্যে প্রার্থীদের নির্বাচনি ব্যয় রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে জমা দেওয়ার আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে। পাশাপাশি ব্যয় বিবরণীর কপি ইসি সচিবালয়েও পাঠাতে হয়। জমা দিতে ব্যর্থ হলে জেল-জরিমানার বিধান রয়েছে।
গেল ৬ এপ্রিল সময় বৃদ্ধি করে ইসি সচিব আখতার আহমেদ সাংবাদিকদের বলেছিলেন, কয়েকজন প্রার্থী ইসির কাছে সময়ে চেয়ে আবেদন করেছেন। অসুস্থতা এবং বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার কারণে নির্ধারিত সময়ে তারা ব্যয়ে হিসাব দিতে পারেননি।
পরবর্তীতে নির্বাচন কমিশন ৬ মে পর্যন্ত সময়সীমা বাড়ায়।
রোববার ইসির নির্বাচন পরিচালনা শাখার উপসচিব মোহাম্মদ মনির হোসেন বলেছেন, এই বর্ধিত সময়েও যেসব প্রার্থী ব্যয়ের হিসাব দাখিল করেননি, তাদের আগামী ১৪ জুন পর্যন্ত সময় দেওয়ার সিদ্ধান্ত দিয়েছে নির্বাচন কমিশন।
২১ জন প্রার্থীর ব্যয় রিটার্ন না দেওয়ার বিষয়টি অবগত করতে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসারের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে।
যারা ব্যয়ের হিসাব জমা দেয়নি
নীলফামারী-৪ আসনের বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি-বিজেপির প্রার্থী মির্জা মো. শওকত আকবর (রওশন), লালমনিরহাট-১ আসনের বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল-বাংলাদেশ জাসদের হাবিব মো. ফারুক, রংপুর-২ আসনের জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডির মো.আজিজুর রহমান, কুড়িগ্রাম-৩ আসনের গণঅধিকার পরিষদের সরকার মো. নুরে এরশাদ সিদ্দিকী, চাপাইনবয়াবগঞ্জ-১ আসনের বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের নবাব মো. শামসুল হোদা ও বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের (মুক্তিজোট) মো. আব্দুল হালিম, নাটোর-১ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. মোয়াজ্জেম হোসেন, ভোলা-১ আসনে গণঅধিকার পরিষদের মো. আইনুর রহমান (জুয়েল) মিয়া, ভোলা-২ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মহিবুল্লাহ খোকন ও আমজনতার দলের মো. আলা উদ্দিন।
ভোলা-৩ আসনের গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী মো. আবু তৈয়ব ও জাতীয় পার্টির মো. কামাল উদ্দিন, ভোলা-৪ আসনের জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন-এনডিএমের প্রার্থী আবুল কালাম ও আমজনতার দলের প্রার্থী মো. জালাল উদ্দীন রুমী।
ময়মনসিংহ-৫ আসনের আমার বাংলাদেশ পার্টি-এবি পার্টির মো. রফিকুল ইসলাম। ময়মনসিংহ-৬ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. জসিম উদ্দিন, ঢাকা-১৪ আসনের বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টির মো. লিটন।
সুনামগঞ্জ-৩ আসনের খেলাফত মজলিসের প্রার্থী শেখ মুশতাক আহমদ, চাঁদপুর-২ আসনের নাগরিক ঐক্যের প্রার্থী মো. এনামুল হক, চট্টগ্রাম-১২ আসনের জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মোহাম্মদ ফরিদুল আলম, বান্দরবান আসনের জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির প্রার্থী আবু সাঈদ মো. সুজাউদ্দীন।
এদিকে ক্ষমতাসীন বিএনপি ও বিরোধী জোটে থাকা জাতীয় এনসিপিসহ ২৩ দল নির্বাচনি ব্যয়ের হিসাব জমা দেয়নি নির্ধারিত সময়ে। আগামী ১৩ জুনের মধ্যে এসব দলকেও ব্যয়ের হিসাব জমা দিতে চিঠি দিয়েছে নির্বাচন কমিশন।
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ৫০টি দল অংশ নেয়। ১৩ ফেব্রুয়ারি রাতে ফলের গেজেট প্রকাশ করা হয়।
নির্বাচনি আইন অনুযায়ী, ভোটের ফলের গেজেট প্রকাশের ৯০ দিনের মধ্যে দলের ব্যয় বিবরণী জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে, সে হিসেবে ১৩ মে নির্বাচনি ব্যয় বিবরণী জমা দেওয়ার শেষ সময় ছিল। নির্ধারিত সময়ে বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীসহ ব্যয়ের হিসাব জমা দিয়েছে ২৭টি দল।
আগের খবর:
৩ কোটি টাকা খুইয়েছেন জামানত হারা ১৪৫৬ প্রার্থী -
নির্বাচনি ব্যয়ের হিসাব দিতে বিএনপি ও এনসিপিসহ ২৩ দলকে ইসির চিঠি
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন: কোন দলের কত প্রার্থী?
ব্যয় রিটার্ন: ঢাকা-১৭ আসনে বিএনপি চেয়ারম্যানের ভোটের খরচ ২৩ লাখ টাকা
নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাব যথাসময়ে না দেওয়ায় সাইফুরের বিরুদ্ধে মামলা