Published : 08 Apr 2026, 03:41 PM
বিএনপির কর্মী মকবুল হোসেনকে গুলি করে হত্যার অভিযোগে পল্টন মডেল থানায় করা মামলায় প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) সাবেক পরিচালক আফজাল নাছেরকে আরও চার দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছে আদালত।
তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন মো. সেফাতুল্লাহ রিমান্ডের আদেশ দেন।
প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই রুকনুজ্জামান এ তথ্য দিয়েছেন।
গেল ২৯ মার্চ গভীর রাতে ঢাকার মিরপুর ডিওএইচএসের একটি বাসা থেকে সেনাবাহিনীর সাবেক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. আফজাল নাছেরকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ।
পরদিন জুলাই আন্দোলনের সময় দেলোয়ার হোসেন নামে এক ব্যক্তি নিহত হওয়ায়র ঘটনায় করা মামলায় তাকে ছয়দিনের রিমান্ড পাঠায় আদালত।
এরপর মকবুল হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে ৫ এপ্রিল আফজাল নাছেরকে তিন দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়।
রিমান্ড শেষে বুধবার তাকে আদালতে হাজির করে পুনরায় সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিব) মতিঝিল জোনাল টিমের এসআই তোফাজ্জল হোসেন।
আবেদনে বলা হয়, আফজাল নাছের ইউনাইটেড গ্রুপের নির্বাহী পরিচালক (প্রশাসন) দায়িত্বে থেকে স্ব-প্রণোদিত হয়ে রাজনৈতিকভাবে বিরোধী পক্ষকে দমনে বিগত সরকারকে নানাভাবে সহযোগিতা করেছেন বলে মামলার তদন্তকালে প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হয়েছে। তাকে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য পুনরায় সাত দিনের রিমান্ড প্রয়োজন।
রাষ্ট্রপক্ষে ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, “ আফজাল নাছের এজাহারনামীয় আসামি, ডিজিএফআইতে কর্মরত ছিলেন। ফ্যাসিস্টের একজন সহযোগী। তাকে তিন দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছিল। তদন্তের জন্য আরও সাত দিনের রিমান্ড প্রয়োজন।”
অন্যদিকে আফজাল নাছেরের আইনজীবী হেলাল উদ্দিন রিমান্ড বাতিল করে জামিন প্রার্থনা করেন। তিনি বলেন, “হ্যাঁ, আসামি ফ্যাসিস্টের সহযোগী। এর পুরস্কারও পেয়েছেন। ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ সরকার তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করে।”
এ আইনজীবী বলেন, “এজাহারে নামটা ছাড়া আর কিছু নাই। প্রয়োজনে তাকে জেলগেইটে জিজ্ঞাসাবাদ করা হোক।”
উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত থেকে আফজাল নাছেরকে চার দিনের রিমান্ডে পাঠানোর আদেশ দেয়।
মামলার বিবরণীতে বলা হয়, ২০২২ সালের ১০ ডিসেম্বর একদফা দাবি আদায়ের কর্মসূচি ঘোষণা করে বিএনপি। এর আগে ৭ ডিসেম্বর ডিবির হারুন অর রশীদ, মেহেদী হাসান ও বিপ্লব কুমার বিএনপির নয়াপল্টন কার্যালয়ে অভিযান চালান। এ সময় কার্যালয়ে ভাঙচুরও চালানো হয়।
একই সময় ‘ককটেল হামলা, টিয়ারশেল নিক্ষেপ ও গুলিতে’ বিএনপির কয়েকশ নেতাকর্মী আহত হন। গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান মকবুল হোসেন নামে এক কর্মী।
এ ঘটনায় ২০২৪ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর মাহফুজুর রহমান নামে এক ব্যক্তি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ২৫৬ জনের বিরুদ্ধে এ মামলা করেন।