তপন বাগচীর বিরুদ্ধে মিথ্যাচারের নিন্দায় ১৮ গুণীজন

তপন বাগচীর প্রশ্ন, সংকলিত গ্রন্থে লেখা চুরি হয় কিভাবে?

নিজস্ব প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 30 Jan 2024, 12:09 PM
Updated : 30 Jan 2024, 12:09 PM

এ বছর বাংলা একাডেমি পুরস্কারে মনোনীত তপন বাগচীর সম্পাদনাকর্ম নিয়ে মিথ্যাচারের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন ১৮ গুণীজন।

মঙ্গলবার সাহিত্যিক মনি হায়দার বিবৃতিটি গণমাধ্যমে পাঠিয়েছেন। বিবৃতিদাতা সবাই বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কারপ্রাপ্ত সাম্মানিক ফেলো।

তাদের মধ্যে রয়েছেন- বিজ্ঞানলেখক তপন চক্রবর্তী, ড. আবুল আহসান চৌধুরী, কথাসাহিত্যিক হরিশংকর জলদাস, আবিদ আনোয়ার, রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য ড. বিশ্বজিৎ ঘোষ, অধ্যাপক আবদুস সেলিম, কবি ফারুক মাহমুদ, বিমল গুহ, নাট্যকার ও অধ্যাপক মলয় ভৌমিক, কথাসাহিত্যিক ঝর্না রহমান, সাহিত্যিক ফরিদ আহমদ দুলাল, রফিকুর রশীদ, ড. স্বরোচিষ সরকার, রহীম শাহ, অধ্যাপক রতন সিদ্দিকী, সুজন বড়ুয়া, রাশেদ রউফ, ড. আমিনুর রহমান সুলতান।

তপন বাগচী বাংলা একাডেমির ফোকলোর, জাদুঘর ও মহাফেজখানা বিভাগের পরিচালকের (চলতি দায়িত্ব) দায়িত্বে আছেন। ৮০টির বেশি গ্রন্থের প্রণেতা তিনি।

ফোকলোর ক্যাটাগরিতে এবছর বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছেন গবেষক তপন বাগচী। ১ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একুশে বইমেলার উদবোধন অনুষ্ঠানে এই পুরস্কার দেবেন।

এই পুরস্কার ঘোষণার আগে থেকেই তপন বাগচীর বিরুদ্ধে ‘চৌর্যবৃত্তি’র অভিযোগ করে আসছেন লেখক ও সংগ্রাহক ইকবাল জাফর।

ইকবাল জাফর বলছেন, তপন বাগচী ২০২২ সালে আলোকায়ন প্রকাশনী থেকে ‘মাতাল রাজ্জাক গীতিমালা’ নামে বই প্রকাশ করেন। তিনি বিনা অনুমতিতে এবং কোনো স্বীকৃতি না দিয়ে ‘মরমী সাধক মাতাল কবি আব্দুর রাজ্জাক দেওয়ান বাউল অঞ্জলী (প্রথম খণ্ড)’ বইয়ের বেশিরভাগ গান তার বইটিতে ব্যবহার করেছেন।

২০২০ সালে 'মরমী সাধক মাতাল কবি আব্দুর রাজ্জাক দেওয়ান বাউল অঞ্জলী (প্রথম খণ্ড)’ প্রকাশ করে মরমি সাধক কবি আব্দুর রাজ্জাক দেওয়ান ফাউন্ডেশন। বইটি সম্পাদনা করেন ইকবাল জাফর ও মহসীন দেওয়ান লিটন।

তাদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে গত বছর একুশে বইমেলায় বইটি বিক্রি ও প্রদর্শন নিষিদ্ধ করা হয়েছিল।

এবার পুরস্কার ঘোষণার পর সংবাদ সম্মেলন করে তপন বাগচীর পুরস্কার প্রত্যাহার করার দাবি জানিয়েছেন ইকবাল জাফর। তারা বাংলা একাডেমিকে চিঠি দিয়েও এ পুরস্কার প্রত্যাহার করার আহ্বান জানান।

তপন বাগচী বরাবরই সেই অভিযোগ প্রত্যাখান করে আসছেন। তার ভাষ্য, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।

এবার তপন বাগচীর পাশে দাঁড়ালেন ১৮ গুণীজন।

তাদের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “আমরা খোঁজ নিয়ে দেখেছি যে, তপন বাগচী সম্পাদিত ‘মাতাল রাজ্জাক গীতিমালা’ গ্রন্থের সঙ্গে পূর্ববর্তী সম্পাদিত গ্রন্থের মিল নেই। প্রচ্ছদ, ভূমিকা, সূচিপত্র এবং গানের বিন্যাস ও আলোকচিত্রও আলাদা। মাতাল রাজ্জাকের পুত্র শিল্পী কাজল দেওয়ান  এবং মমতাজের ভূমিকাও সাক্ষ্য দেয় যে, এটি স্বতন্ত্র  সংকলন। এই গ্রন্থের স্বত্বও রয়েছে মাতাল রাজ্জাকের পরিবারের হাতে। তপন বাগচী একটি গানও নিজের বলে দাবি করেননি। তাই এই সংকলন নিয়ে চুরির অভিযোগ হাস্যকার। এর সূত্র ধরে এ বছর ঘোষিত তার পুরস্কার বাতিলের দাবি অবান্তর ও অনভিপ্রেত।”

এতে আরো বলা হয়, “তপন বাগচী একজন পরিশ্রমী ও গুণী গবেষক। তাকে ফোকলোর বিভাগে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার প্রদান করায় আমরা বাংলা একাডেমিকে অভিনন্দন জানাই। একই সঙ্গে তপন বাগচীর বিরুদ্ধে ঈর্ষা ও বিদ্বেষপ্রসূত এই ষড়যন্ত্রমূলক অপপ্রচারের আমরা তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।”

এ প্রসঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তপন বাগচী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “তারা যে উৎস থেকে গান সংগ্রহ করেছেন, আমিও সেই একই উৎস থেকে গানগুলো সংগ্রহ করেছি। আর সংকলিত গ্রন্থে লেখা চুরি হয় কিভাবে? বইটিতে যা আছে, তা তো রাজ্জাক দেওয়ানেরই লেখা। তাদেরও নয়, আমার লেখাও নয়।”