Published : 08 Mar 2026, 03:38 PM
'এবং বই’ ও ‘শিক্ষালোকে’র যৌথ আয়োজনে ‘ভাষার লড়াইয়ে জীবনানন্দের ভাষাচিন্তা” শীর্ষক একটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।
ঢাকার বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা সিদীপের মিলনায়তনে শনিবার 'জীবনানন্দের ভাষাচিন্তা’ শীর্ষক মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন সাংবাদিক ও জীবনানন্দ গবেষক আমীন আল রশীদ।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে বায়ান্নোর ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের ভবিষ্যৎ নিয়ে কবি জীবনানন্দ দাশের ভাবনার বিশ্লেষণ উঠে এসেছে এ প্রবন্ধে।
যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ ও শিক্ষক খান মো. রবিউল আলম বলেন, "কবিতা হচ্ছে শিল্পের পরম রূপ আর জীবনানন্দ তাঁর ভাষায় এই সাঙ্গীতিক পরম রূপ তৈরি করেছেন। তাঁর ভাষাটাই তো আলোড়িত করে সবাইকে কেননা তার ব্যাকরণ ও বিন্যাসই নতুন।"
সাংবাদিক ও গবেষক কাজল রশীদ শাহীন বলেন, "জীবনানন্দ দাশকে তাঁর সময় ও সমাজকাঠামোর বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে কাব্যরচনা করতে হয়েছে। তাঁর ভাষাচিন্তাটা মহাজাগতিক। তাঁকে ছাড়া আমরা হয়তো জানতামই না যে, অন্ধকারে ঠেস দিয়ে বসে থাকা যায়।"

কবি সৈকত হাবিব বলেন, "জীবনানন্দের ভাষাচিন্তা নিয়ে উল্লেখযোগ্য কাজ হয়নি, অথচ খুবই প্রয়োজন। তিনি বলেন, জীবনানন্দের কাব্যচিন্তার ধরণ হচ্ছে নিশ্চয়াত্মক অনিশ্চয়তা ও অনিশ্চয়াত্মক নিশ্চয়তা যা প্রবন্ধেও আছে। তিনি সবকিছুতে প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়েছেন যা পাঠকের মনকে আলোড়িত করে।"
শিক্ষালোকের নির্বাহী সম্পাদক আলমগীর খান বলেন, "জীবনানন্দের ভাষাচিন্তা মূলত বাংলার এক অংশে হিন্দির আধিপত্য ও অন্য অংশে উর্দুর আধিপত্যকে কেন্দ্র করে। ভাষার বিকাশে রাষ্ট্রভাষা ও রাষ্ট্রের লেখক-সাহিত্যিকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা তুলে ধরেছেন জীবনানন্দ।"
এছাড়াও অনুষ্ঠানে সাংবাদিক অখিল পোদ্দার, শিক্ষিকা নাসরীন আকতার, শিল্পী শিশির মল্লিকসহ আরও অনেকে আলোচনা করেন।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালন করেন ‘এবং বই’য়ের সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ। সবশেষে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন সিদীপ পরিচালনা পর্ষদের সদস্য ফাহমিদা করিম।