Published : 24 Jul 2026, 03:47 PM
সমুদ্র
নির্জন দিনে তাকে দেখেছিলাম
চোখ দিয়ে
নির্জন দিনে সে ঝরে পরে
চোখ দিয়ে
স্বপ্ন
অনেকগুলো ভাষাই শেখা হলো
এখন পাথরের ভাষাটি
শিখতে পারলেই
পূর্ন হবে আমার সকল অর্জন
ধানক্ষেত
এখন ফসল কাটা হয়ে গেছে
এখন বাতাসে তাদের কোনো সাড়া নেই
এখন তারা শুয়ে আছে পাথরের মতো
এখন তারা শুয়ে আছে জলের মতো
এখন তারা অনেক রোদে পুড়ছে
এখন তারা অনেক বৃষ্টিতে ভিজছে
এখন অনেক ইঁদুর এফোঁড় ওফোঁড় করছে তাদের হৃদয়
দ্বীপ
কোথাও যায়নি সে
হয়তো যাবে না কোথাও কোনোদিন
এমনকি গ্রীষ্মের দিনেও ফিরে তাকায়নি
সমুদ্রে স্নানরতা কোনো তরুণীর দিকে
সে কেবল অপেক্ষা করছে
যেন মানুষের হৃদয়ের পাপড়ি ঝরে পড়বার দিনে
হতে পারে তাদের একান্ত সহচর
মেঘ
বহুবার শ্বেতশুভ্র ওই রাত্রিতে
শুয়ে শুয়ে ভেবেছি
আমাকে তুমি শেখাবে একদিন
তোমার মতো করে
নিঃশর্তরূপে কিভাবে হওয়া যায় বিলীন
বালুচর
ক্রমে ফুরিয়ে আসে আলো
উড়ে আসে কতগুলো যুক্তিতর্ক মৌমাছি
তারা ঘিরে ধরে আমাদের
কেউ ছিড়ে ফেলে আমাদের ওই স্বর্নাভ জিহবা
কেউ সাড়াশি দিয়ে উপড়ে তোলে দুটি হিম হৃৎপিণ্ড
কথা-সমুদ্রের ওই ছোটো ছোটো ঢেউ
আমাদের ছেড়ে গিয়ে ভেসে চলে নিরবতার খাদে
আলো আঁধারির ভিতর দিয়ে আমরা চেয়ে দেখি
কীভাবে ডুবে যায় পরিচ্ছন্ন ওই সূর্যালোক
ক্যাথেড্রাল
হারিয়ে যেতে থাকা সময়ের স্রোতের মাঝখানে সে এখনো দাড়িঁয়ে আছে একটি দ্বীপ হয়ে- ফুরিয়ে আসা আমাদের অস্তিত্বের মতো, ঘন কুয়াশায় জড়ো হয়ে আসা আমাদের নৈঃশব্দ্যের মতো... কিন্তু তবুও আমাদের সাথে তার বিস্তর ফারাক আছে; যখন ঘন্টা বেজে ওঠে তার জীর্ণ হয়ে আসা মাংসপেশি ভেদ করে- আমরা স্তম্ভিত হই, আজও সে কতো গীতিময়!
দরোজা
লাশ পঁচা গরমের দুপুরে
অর্ধেক পৃথিবী যখন ডুবে গেল
ঘুমের ভিতর
যুদ্ধাহত কোনো হাত
তখনও তার কড়া নাড়ছে
সে স্বপ্ন দেখেছিল
কাঠের পুল
ঘুমের ভিতরে
একটি ভেঙে যাওয়া
কাঠের পুলের মেরামতের চেষ্টা করি
আমিতো কাঠমিস্ত্রী নই
মাঝখানে খরস্রোতা ওই নদী
রাতের পর রাত
কেবল দুই পাড় ভেঙে পড়ার শব্দ শুনি
লাশ
আলোকরশ্মিময় এই চোখ
হয়তো একদিন অন্ধকারকে অস্বীকার করেছিল
কথাসর্বস্ব এই ঠোঁট
হয়তো একদিন নীরবতাকে পরিহাস করেছিল
লোভতাড়িত এই জিহবা
হয়তো একদিন কাউকে মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল
বন্দর
দ্রুতপদে বাতাস বয়ে চলে
দুলে ওঠে নৌকোগুলো
কী যেন বলতে চায়
যে ভাষা শিখিনি আমি