Published : 10 Dec 2025, 04:30 PM
মেট্রোরেল এখন ঢাকার লাইফলাইন। উত্তরা থেকে মতিঝিল– মাত্র ৩০ মিনিটে পৌঁছে যাওয়া যায়। তবে ব্যাগ হাতে লাইনে দাঁড়ালে কোনও কোনও সময় নিরাপত্ত কর্মী বলে ওঠেন, “এটা নেওয়া যাবে না” – এমন অভিজ্ঞতা অনেকেরই হয়েছে।
ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি (ডিএমটিসিএল) কঠোর নিয়ম বেঁধেছে যাতে ট্রেন-স্টেশন পরিষ্কার, নিরাপদ ও আরামদায়ক থাকে।
নিয়ম না মানলে টিকেট কেটেও ভেতরে ঢুকতে দেবে না, বা জরিমানা করবে।
ব্যাগের আকার ও ওজন – প্রথম চেকপয়েন্ট
ডিএমটিসিএলের ওয়েবসাইট থেকে জানানো হয়, ট্রলি ব্যাগ ও সাধারণ ব্যাগ বহনের ক্ষেত্রে ব্যাগটির দৈর্ঘ্য ২২ ইঞ্চি, প্রস্থ ১৪ ইঞ্চি ও উচ্চতা ৯ ইঞ্চির মধ্যে থাকতে হবে। ওজন ১৫ কেজির বেশি হওয়া যাবে না।
বহনযোগ্য ব্যাকপ্যাক মেট্রোরেলের ভেতরে পিঠে বহন না করে হাতে রাখতে হবে।
সব ধরনের মালামালের কার্টুন বহনের ক্ষেত্রে কার্টুনটির আকার দৈর্ঘ্য ১৮ ইঞ্চি, প্রস্থ ১৮ ইঞ্চি ও উচ্চতা ১৮ ইঞ্চির চেয়ে বেশি বড় হতে পারবে না।
মেট্রোরেলে নির্দিষ্ট আকারের ব্যাগ ও কার্টুন বহন করা গেলেও সব ধরনের মালামালের বস্তা (প্লাস্টিক, পাট, মোটা কাপড় ইত্যাদির তৈরি) বহন নিষিদ্ধ।
একদম নিষিদ্ধ
১. জ্যান্ত পশু-পাখি
২. কাঁচাবাজার: কাঁচা মাছ-মাংস-সবজি, শুঁটকি, ডিম – যা থেকে পানি ঝরে বা গন্ধ হয়।
৩. রসালো ফল: আম, কাঁঠাল, লিচু, তরমুজ, আনারস – খোলা অবস্থায় নয়।
৪. খোলা খাবার: বিরিয়ানি, পোলাও, মিষ্টি – যা থেকে গন্ধ বা তেল পড়তে পারে।
৫. ফুলের তোড়া, গাছের চারা, টব – খোলা অবস্থায় না।
৬. ধারালো জিনিস: ছুরি, কাঁচি, দা, বঁটি, রড, পাইপ ইত্যাদি।
৭. বড় মেশিন: ড্রিল, ওয়েল্ডিং মেশিন, গ্যাসের চুলা ইত্যাদি।
৮. জ্বালানি: পেট্রল, ডিজেল, কেরোসিন, স্প্রে ক্যান ইত্যাদি।
৯. বিস্ফোরক: বাজি, আতশবাজি, গ্যাস সিলিন্ডার ইত্যাদি।
১০. ইলেকট্রনিক্স: খোলা ব্লেন্ডার, ওভেন, ওয়াশিং মেশিন, কম্পিউটার ইত্যাদি।
১১. বাদ্যযন্ত্র: খোলা তবলা, গিটার, হারমোনিয়াম ইত্যাদি।
১২. খেলার জিনিস: ক্রিকেট ব্যাট, ফুটবল, হকি স্টিক – খোলা অবস্থায় না
১৩. রাসায়নিক: অ্যাসিড, ব্যাটারি, পারদ ইত্যাদি।
এছাড়া মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষ মেট্রোরেল সিস্টেম, যাত্রী সাধারণ ও রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তায় মেট্রোরেল স্টেশন ও ট্রেনে বহন নিষিদ্ধ দ্রব্যসামগ্রীর তালিকা প্রয়োজন ও বাস্তবতা অনুযায়ী সংশোধন, সংযোজন ও বিয়োজন করতে পারবে।
যেসব বহনে সমস্যা নেই
যে কারণে এত কঠোর নিয়ম
কারওয়ান বাজারে স্টেশনে ডিএমটিসিএলের এক কর্মকর্তা বললেন, “একজন যাত্রী মাছের ঝুড়ি নিয়ে উঠলে পুরো কোচে গন্ধ, মেঝে নোংরা হয়। কাঁঠালের রস পড়লে সিট নষ্ট। ধারালো জিনিসে দুর্ঘটনা হতে পারে। তাই সবাইকে একটু সচেতন হতে হবে।”
মেট্রোরেল সবার জন্য। একটু নিয়ম মানলেই সবাই আরামে চড়তে পারবেন। পরের বার স্টেশনে গেলে ব্যাগটা একবার চেক করে নিন – লাইনে দাঁড়িয়ে ফেরত আসতে হবে না!
আরও পড়ুন
ঘরে বসে মেট্রোরেলের কার্ড রিচার্জ করার পন্থা