হজ করতে গিয়ে মক্কা মদিনায় হারিয়ে গেলে কী করবেন?
হারিয়ে গেলেও সমস্যা নেই। পথ খুঁজে জায়গা মতো পৌঁছানোর জন্য রয়েছে নানান পন্থা।
হজ পালন করতে মক্কায় এসে কিছু বুঝে ওঠার আগেই হজযাত্রী সঙ্গীদের হারিয়ে ফেলেন। হজযাত্রী হারিয়ে গেলে তাওয়াফ, সাঈ ঠিকমতো করতে পারেন না। হঠাৎ করে সঙ্গী হারিয়ে গেলে হজযাত্রী দিশেহারা হয়ে পড়েন।
ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে এই সমস্যার সমাধান দিয়েছেন সাংবাদিক ফেরদৌস ফয়সাল। যিনি টানা ২২ বছর হজ পালন করেছেন।
যদিও স্থানীয় প্রবাসী, সৌদি কর্মী, মক্কার মিসফালা এলাকায় বাংলাদেশ হজ কার্যালয়ে, মদিনার মসজিদে নববির ফাহাদ গেট দিয়ে বের হয়ে বাঙালি মার্কেটের পরে আল মাসানিয়া এলাকায় বাংলাদেশ হজ কার্যালয়ে হারানো হজযাত্রীদের পৌঁছে দেন।
সৌদি আরবে পৌঁছে মক্কায় নির্দিষ্ট বাড়িতে মালপত্র রেখে হজযাত্রীরা ওমরাহ পালন করতে বের হন। তাড়াহুড়া করে কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগে তাওয়াফ, সাঈ করতে গিয়ে সঙ্গীদের হারিয়ে ফেলেন।
মসজিদুল হারাম বিশাল এলাকাজুড়ে। প্রায় ২০০টি প্রবেশপথ রয়েছে। তাছাড়া মসজিদুল হারাম সম্প্রসারণের জন্য ভেতরে-বাইরে নির্মাণকাজ চলছে। প্রবেশপথগুলো দেখতে একই রকম হলেও নাম ও গেট নম্বর ভিন্ন।
ভিড়ের কারণে তাওয়াফ, সাঈ করতে গিয়ে হজযাত্রী বেশি হারান, তাই সঙ্গীকে আগে থাকতে চিনিয়ে দিন, হারিয়ে গেলে কোথায় অপেক্ষা করতে হবে।
যেমন- তাওয়াফ শেষ করে কোথায় নামাজ আদায় করবেন, তা চিনিয়ে দিন। আবার সাঈ করতে গিয়ে সাফা বা মারওয়া পাহাড়ে অপেক্ষা করতে পারেন।
মক্কা ও মদিনার হজ কার্যালয়, আইটি হেল্প ডেস্ক থেকে মোয়াল্লেম বা এজেন্সির মাধ্যমে নিজ নিজ বাড়িতে পৌঁছে দেয়।
মসজিদুল হারাম নির্দিষ্ট প্রবেশপথ, যেমন- বাদশা ফাহাদ ৭৯ নম্বর প্রবেশপথ ভিড়ের কারণে হারিয়ে গেলে বাদশা ফাহাদ ৭৯ নম্বর প্রবেশপথে অপেক্ষা করতে পারেন।
মসজিদে নববির উত্তর (ওহুদ পাহাড়) দিকে কিং ফাহাদ গেট অর্থাৎ ২১ নম্বর প্রবেশপথ ভিড়ের কারণে হারিয়ে গেলে ২১ নম্বর প্রবেশপথে অপেক্ষা করতে পারেন।
সব সময়ের জন্য আপনার সঙ্গীর মোবাইল নম্বর, এজেন্সির নাম, দলনেতার মোবাইল নম্বর লিখে নিজের কাছে রাখুন। হারিয়ে গেলেও নির্দিষ্ট স্থানে অপেক্ষা করুন।
মানচিত্র থাকলে মিনায় ও আরাফাতের হারানোর ভয় নেই।
হজের পাঁচ দিনের মধ্য চার দিন মিনায় এবং একদিন আরাফাত এবং মুজদালিফায় রাত্রিযাপন করতে হয়।
মক্কা, মদিনা, মিনা এবং আরাফাতের মানচিত্র কাগজে মুদ্রিত বা অনলাইনে ডিজিটাল ছবি আকারে পাওয়া যায়।
সম্ভব হলে মানচিত্র দেখুন, তাহলে ওখানকার রাস্তাঘাট, ঘরবাড়ি সম্পর্কে একটা ধারণা পাবেন। মিনার মানচিত্র থাকলে হারানোর ভয় নেই।
মিনার কিছু স্থান চিনে নিজের মতো করে আয়ত্তে আনলে মিনায় চলাচল করা সহজ হয়।
যেমন- জামারা (শয়তানকে পাথর নিক্ষেপের স্থান), মসজিদে খায়েফ, মিনার তিনটি সেতু (বাদশাহ খালিদ ব্রিজ ১৫ নম্বর, বাদশাহ আবদুল্লাহ ব্রিজ ২৫ নম্বর, বাদশাহ ফয়সাল ব্রিজ ৩৫ নম্বর), হাঁটার পথ (টিনশেড নামে পরিচিত)।
এখানে সাতটি জোন রয়েছে। মিনার বড় রাস্তাগুলোর ভিন্ন ভিন্ন নাম ও নম্বর রয়েছে।
রাস্তার নাম ও নম্বর জানা থাকলে মিনায় চলাচল সহজ হয়। পথ হারানোর আশঙ্কা কম থাকে।
বড় রাস্তাগুলো হল: বাদশাহ ফয়সাল ৫০ নম্বর রোড, আলজাওহারাত ৫৬ নম্বর রোড, সুকুল আরব ৬২ নম্বর রোড, বাদশাহ ফাহাদ ৬৮ নম্বর রোড।
মিনায় রেলস্টেশন ৩টি। মুজদালিফায় রেলস্টেশন ৩টি।
এছাড়া রয়েছে সুড়ঙ্গপথ, টানেল, পায়ে চলার রাস্তা, হাসপাতাল, মসজিদ, মিনার বাদশাহ বাড়ি, রয়েল গেস্টহাউস (রাজকীয় অতিথি ভবন) মোয়াচ্ছাসা কার্যালয়।
মিনায় মোয়াল্লেম নম্বর বা তাঁবু নম্বর জানা না থাকলে যে কেউ হারিয়ে যেতে পারেন।
হজ শুরু হওয়ার তিনদিন আগে মক্কায় বাংলাদেশ হজ কার্যালয়ের আইটি হেল্প ডেস্কে ২০২৬ সালের ছাপা ম্যাপ পাওয়া যাবে।
ম্যাপ সম্পর্কে ধারণা থাকলে হারানোর সম্ভাবনা কম থাকে। এই ম্যাপের রাস্তা, ব্রিজ-সহ বিভিন্ন স্থাপনা একই থাকে শুধু মোয়াল্লেম ও তাঁবু নম্বর পরিবর্তন হয়।
ধরা যাক- মিনার তাঁবু নম্বর ১২/৫৬। ওপরের সংখ্যা তাঁবু নম্বর ১২, নিচের সংখ্যা ৫৬ হল রাস্তার নম্বর।
মোয়াল্লেম অফিস থেকে তাঁবুর নম্বরসহ কার্ড দেওয়া হয়। বাইরে বের হওয়ার সময় নুসুক কার্ড ও তাবুর কার্ডটি সঙ্গে রাখুন। সমস্যা এড়ানোর জন্য যে তাঁবুতে অবস্থান করবেন, সেই তাঁবু চিহ্নিত করে নিতে হবে।
মিনায় জামারা থেকে আপনার তাঁবুর অবস্থান, তাঁবু থেকে মসজিদুল হারামে যাওয়া-আসার পথ সম্পর্কে ধারণা নিন।
ভিড় এড়াতে কেউ কেউ হেঁটে সুড়ঙ্গ (টানেল) পথ দিয়ে মসজিদুল হারামে পৌঁছানো যান। হাঁটার পথ চিনতে স্থানীয় (বাংলাদেশি কাউকে বললে দেখিয়ে দেবেন) বা গুগল ম্যাপের সহায়তা নিতে পারেন।
অনেকে ট্যাবলেট কম্পিউটার বা আইফোন নিয়ে যান। রাস্তাঘাট, অবস্থান ইত্যাদি জানতে হজ ও পিলগ্রিম অ্যাপের সহায়তা নিতে পারেন।
আরও পড়ুন
