Published : 12 Feb 2026, 01:40 AM
রক্তক্ষয়ী জুলাই অভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ঘটনাবহুল সময় পেরিয়ে গণতান্ত্রিক রূপান্তরের স্বপ্নে ভোট দিচ্ছে বাংলাদেশের মানুষ।
দেশ যখন নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি, তখন অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ নেই ভোটের মাঠে। প্রায় দেড় দশক টানা দেশ শাসন করা সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এখন ভারতে নির্বাসিত জীবন কাটাচ্ছেন।
দীর্ঘদিন ক্ষমতার বাইরে থাকা আরেক সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া চিরবিদায় নিয়েছেন।
চির প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে বিএনপির ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলছে তারই দীর্ঘদিনের মিত্র জামায়াতে ইসলামী।

রাজনীতির এই নয়া মেরুকরণের মধ্যে দেশ পরিচালনায় নতুন নেতা বেছে নিতে বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে ভোট দিচ্ছে দেশের মানুষ; এর সঙ্গে রাষ্ট্র সংস্কারের প্রশ্নে মতামত দেবেন গণভোটে।
আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে তিনটি ‘বিতর্কিত’ নির্বাচনের পর পরিবর্তনের লক্ষ্যে আয়োজিত এই ভোটে মানুষের মধ্যে বিপুল উৎসাহ যেমন দেখা যাচ্ছে, তেমনি সংঘাতের শঙ্কাও উঁকি দিচ্ছে অনেকের মনে।
বিশ্লেষকের চোখে তাৎপর্যপূর্ণ এই ভোট জনগণের একটা বড় অংশের সমর্থন থাকা আওয়ামী লীগকে বাদ দিয়ে কতটা অংশগ্রহণমূলক হবে?
নির্বাচন কমিশন ও সরকার বলছে, ভোটার উপস্থিতির হারে মিলবে সেই প্রশ্নের উত্তর।
জাতীয় সংসদের ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯৯ আসনে বৃহস্পতিবার ভোট চলছে। জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থীর মৃত্যুতে শেরপুর-৩ আসনে ভোট স্থগিত হয়েছে।
সারা দেশে মোট ৪২ হাজার ৭৭৯টি ভোটকেন্দ্রে সকাল সাড়ে ৭টায় ভোট শুরু হয়েছে, যা একটানা বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত চলবে।
কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়ে দেশের প্রায় পৌনে ১৩ কোটি ভোটারকে নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার প্রয়োগের আহ্বান জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন।
সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে শঙ্কামুক্ত ও বিশ্বাসযোগ্য করতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ‘সম্পূর্ণ দৃঢ়প্রতিজ্ঞ’, এ কথা আবার বলেছেন প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস।
পাশাপাশি এই ভোট যেন তরুণসহ সব ভোটারদের কাছে উৎসবমুখর গণতান্ত্রিক অভিজ্ঞতায় পরিণত হয়, তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব সবার বলে স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন তিনি।
বুধবার নির্বাচন উপলক্ষে দেওয়া বাণীতে সরকারপ্রধান বলেন, “এ নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে আমাদের বিশেষভাবে স্মরণ রাখতে হবে যে, দেশের বিপুলসংখ্যক তরুণ নাগরিক এবারই প্রথম তাদের সাংবিধানিক ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাচ্ছেন। একই সঙ্গে পূর্ণবয়স্ক অনেক নাগরিকও দীর্ঘদিন ধরে প্রকৃত অর্থে ভোট প্রদানের সুযোগ থেকে বঞ্চিত ছিলেন।
“তাই এ গণভোট ও জাতীয় সংসদ নির্বাচন যেন প্রতিটি ভোটারের কাছে একটি আনন্দময়, শঙ্কামুক্ত, বিশ্বাসযোগ্য ও উৎসবমুখর গণতান্ত্রিক অভিজ্ঞতায় পরিণত হয়-তা নিশ্চিত করা আমাদের সকলের নৈতিক ও সাংবিধানিক দায়িত্ব। এ লক্ষ্য অর্জনে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সম্পূর্ণ দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।”
তিনি এ নির্বাচনকে ‘দীর্ঘ সময় ধরে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত’ জাতির জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে যে গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষা ও আত্মমর্যাদার ঘোষণা দিয়েছিল সে ‘আকাঙ্ক্ষার চূড়ান্ত’ ও ‘প্রাতিষ্ঠানিক বহিঃপ্রকাশ’ হিসেবেও দাবি করেন।

ভোটের আগের রাতে বুধবার জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে নির্ভয়ে কেন্দ্রে গিয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দিন। আর গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় ভোটের ফল যাই হোক, তা মেনে নিতে সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
নির্বাচনে যে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা মোকাবিলায় সহযোগিতা চেয়ে সিইসি বলেছেন, “আমরা শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বাচন অনুষ্ঠান করতে চাই। যে কোনো অনভিপ্রেত ঘটনা মোকাবিলায় নির্বাচনী কর্মকর্তা, মাঠ পর্যায়ে কর্মরত বিচারিক ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে সহায়তা করুন।”
সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি সুষ্ঠু, সুন্দর, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর নির্বাচনের সাক্ষী হতে পারবেন বলেও প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন তিনি।
বিরোধীদের বর্জনের মধ্যে ২০২৪ সালে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে আওয়ামী লীগ টানা চতুর্থবারের মত সরকার গঠন করে। তবে ছয় মাস পরে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটে। মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণের প্রায় দেড় বছর পর ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন আয়োজন করল।
গেল ১১ ডিসেম্বর তফসিল ঘোষণার পর থেকে টানা দুই মাস ভোটের কাজ এগিয়ে নিয়েছে নির্বাচন কমিশন।
বিএনপির ধানের শীষ ও জামায়াতে ইসলামীর দাঁড়িপাল্লার মধ্যে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতার এই নির্বাচনে জাতীয় পার্টি, এনসিপি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশসহ ৫০টি দল অংশ নিচ্ছে। দলীয় ও স্বতন্ত্র মিলিয়ে ভোটের মাঠে নেমেছেন ২০২৮ প্রার্থী।
লন্ডনে ১৭ বছরের নির্বাসিত জীবন কাটিয়ে বিপুল সংবর্ধনায় দেশে ফিরে এবার নির্বাচনি যাত্রায় নেমেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দেশ গঠনের ‘পরিকল্পনা’ নিয়ে দেশে আসার কথা তুলে ধরে তিনি বলেছিলেন, এক্ষেত্রে দেশবাসীর সমর্থন চান তিনি।
তার দেশে ফেরার পাঁচ দিনের মাথায় মারা যান তার মা, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া; নির্বাচনি আমেজের মধ্যে তার এই বিদায়ে নির্বাচনে দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন তারেক রহমান।
ভোটের মাঠে নেমে আওয়ামী লীগ সরকারবিরোধী যুগপৎ আন্দোলনের শরিক কয়েকটি দলের সঙ্গে আসন সমঝোতা করেছে বিএনপি। তাদের আটটি আসন ছেড়েছে দলটি।

২২ জানুয়ারি সিলেটের আলীয়া মাদ্রাসা থেকে নির্বাচনি প্রচার শুরু করে সারাদেশের বিভিন্ন জায়গায় জনসভা করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান।
ভোটের প্রচারে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারী ও ধর্মের নামে রাজনীতি করা দলকে ভোট না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
তারেক রহমানের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। শরিয়াহ আইন প্রতিষ্ঠার কথা বলে এতদিন রাজনীতি করে আসা জামায়াতকে নতুন রূপে দেখানোর চেষ্টা প্রচারের সময় করেছেন তিনি।
ভোটের মাঠে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতাদের একজন অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল অলি আহমদ বীর বিক্রমের দল এলডিপির পাশাপাশি জুলাই অভ্যুত্থানে সামনের সারিতে থাকা তরুণদের দল জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপিকে সঙ্গী করেছে জামায়াত। প্রার্থী করা হয়েছে একজন হিন্দু ধর্মাবলম্বীকেও।
ক্ষমতায় গেলে নারীদের অধিকার প্রতিষ্ঠার কথা জামায়াত বললেও ভোটের প্রচারের সময় নারীদের নিয়ে জামায়াত আমিরসহ কয়েক নেতার বিভিন্ন বক্তব্য নিয়ে তৈরি হয়েছে বিতর্ক।
জামায়াতের আমিরও ভোটের প্রচারে বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্ত ঘুরে বেড়িয়েছেন; দিয়েছেন দুর্নীতি ও চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস।
দেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন তারেক রহমান, এমন ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে কয়েকটি জরিপে। তবে ফল ঘোষণা পর্যন্ত অপেক্ষার কথাও বলছেন জরিপকারীরা।
পালাবদলের জনরায়
ঘটনাবহুল অন্তর্বর্তী সময় পেরিয়ে নির্বাচিত সরকারের দিকে যাত্রায় এবারের নির্বাচন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন পর মানুষের ভোট দেওয়ার সুযোগ তৈরি হওয়াই এই নির্বাচনের প্রধান বৈশিষ্ট্য।
সেই সুযোগের পাশাপাশি রাষ্ট্র কাঠামো সংস্কারের গণভোটের কারণে এবারের জনরায় তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষক ও গবেষক অধ্যাপক আসিফ মোহাম্মদ শাহান।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের এই অধ্যাপক বলেন, “২০১৪ থেকে, মানে ২০০৮ এর পরে বেইসিকলি তো আমরা আর ভোট দিতে পারিনি। এটা গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার একটা সুযোগ।
“একটা নির্বাচনের মাধ্যমে একটা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার দিকে আমরা আবারও যাত্রাটা শুরু করতেছি। এ কারণে নিজের মতামতটা জানানো খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ আপনার প্রতিনিধি যদি আপনি নির্বাচন করতে না পারেন, তাহলে গণতন্ত্রের মূল সূত্রটা, আপনার ন্যূনতম ক্ষমতা প্রয়োগের সুযোগ বা অবাধ-নিরপেক্ষ নির্বাচন, সেটিতো আপনি বাস্তবায়ন করতে পারছেন না।”
আসিফ শাহান বলেন, “গণভোটটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ, কেননা এর মাধ্যমে নির্ধারণ হবে আমাদের ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রের কাঠামোটা কী রকম হবে।
“আমরা যে ক্ষমতার ভারসাম্যের কথা বলে আসছি, ক্ষমতা-বণ্টনের কথা বলে আসছি, এটা আমরা পেতে যাচ্ছি কি-না, এটা কতখানি সেটার পক্ষে আমরা আছি-কি নাই, সেটার একটা স্পষ্ট সংকেত দেওয়ার সুযোগ হচ্ছে এই নির্বাচন।”
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে ২০০৮ সালের নির্বাচনে বিপুল ভোটে ক্ষমতায় আসার পর ২০১১ সালে সংবিধান সংশোধন করে সেই ব্যবস্থাই বাতিল করে দেয় আওয়ামী লীগ সরকার।
২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের দশম, একাদশ ও দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচন আয়োজন করা হয় আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকা অবস্থায়।
এর মধ্যে দশম ও দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনের নির্দলীয় সরকারের দাবি পূরণ না হওয়ায় নির্বাচনে অংশ নেয়নি বিএনপিসহ বেশিরভাগ বিরোধী রাজনৈতিক দল।
তাদের বর্জনের ফলে দশম নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে ১৫৩টিতে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সংসদ সদস্য হয়ে যান। সেই সংসদকে ‘বিনা ভোটের সংসদ’ আখ্যা দেয় ভোট বর্জন করা বিএনপি।
বিএনপিসহ বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর একটি অংশ জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গড়ে ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিলেও ব্যাপক কারচুপির অভিযোগ উঠে। অধিকাংশ ভোট আগের রাতে হয়ে যাওয়ার অভিযোগের মধ্যে বিরোধীরা মাত্র সাতটি আসনে জয় পায়। সে নির্বাচনের নাম হয় ‘নিশি রাতের নির্বাচন’।
২০২৪ সালের জানুয়ারিতে বিএনপি ও সমমনাদের বর্জনে দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক দেখাতে শরিক ও বিরোধীদল জাতীয় পার্টির জন্য আসন ছেড়ে দেয় আওয়ামী লীগ। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয় ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীদের সঙ্গে দলের ‘বিদ্রোহীদের’। এ নির্বাচনের নাম হয় ‘আমি আর ডামি’ নির্বাচন।

প্রশ্নবিদ্ধ ওই তিন নির্বাচনেই আওয়ামী লীগ জয়ী হয় এবং ১৫ বছরের বেশি সময় ধরে দেশ শাসন করে যায়। শেষ পর্যন্ত ২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার সরকারের পতন ঘটে। বিলুপ্ত করা হয় দ্বাদশ সংসদ।
বিতর্কিত এই তিন ভোটের অনিয়ম তদন্তে গঠিত কমিশনের সদস্য আব্দুল আলীম বলেন, “এই নির্বাচনটার সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হবে, এটাকে বলা যেতে পারে ‘জনগণের নির্বাচন’। লক্ষ্যটা হচ্ছে পরিবর্তন, এ নির্বাচন দিয়ে তো সব পরিবর্তন হবে না। তবে পরিবর্তনের লক্ষ্যের জন্য নির্বাচন।”
এ নির্বাচন বিশ্লেষক বলছেন, গত যে তিনটা নির্বাচন হয়েছিল সেখানে কিন্তু জনগণের ভোটের অধিকার বা সুযোগ ছিল না।
এর ব্যাখ্যায় আব্দুল আলীম বলেন, ২০১৪ সালে দশম সংসদ নির্বাচনে অনেক মানুষের ভোট দেওয়ার সুযোগ ছিল না। তারপরে ২০১৮ সালে অনেকে ভোট দিতে পারেনি, ভোট কেন্দ্র থেকে ফিরে এসেছে। দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে ২০২৪ সাল-এটা প্রতিযোগিতা ছিল না, অনেক ভোটার কেন্দ্রেই যায়নি। যাওয়ার প্রয়োজন মনে করে নাই, কারণ তারা বুঝতে পেরেছিল যে ফলাফলটা কি হতে যাচ্ছে।
“এ বছর যেটা হচ্ছে-ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও গণভোট ‘জনগণের নির্বাচন’। এ নির্বাচনে ভোটাররা কেন্দ্রে যাবে, তারা নিজের ভোটটা নিজে দিবে। বিশেষ করে এই যে সাড়ে ৪ কোটি ফার্স্ট টাইম ভোটার, আমার ধারণা তাদের ৯৯% ভোটার কেন্দ্রে যাওয়ার জন্য মুখিয়ে আছে। এটা একটা নতুন জিনিস,” বলেন আব্দুল আলীম।
আওয়ামী লীগ ভোটে না থাকায় ফলাফলের গ্রহণযোগ্যতার ওপর প্রভাব পড়বে কি না, সে বিষয়ে বুধবার বিদেশি সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষকদের উদ্দেশে নির্বাচন কমিশনের ব্রিফিংয়ে জানতে চান এক সাংবাদিক।
প্রশ্নের সরাসরি কোনো উত্তর না দিয়ে নির্বাচন কমিশনার অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেছেন, নির্বাচনে আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে ভোটার উপস্থিতি কমার কোনো সম্ভাবনা দেখছেন না। আওয়ামী লীগ এই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে না পারলেও তাদের শরিক দল অংশ নিচ্ছে।
উৎসবমুখর প্রচার, তবুও কাটে না শঙ্কা
ছোটখাটো সহিংসতা হলেও ভোটের আবহাওয়া ছিল উৎসবমুখর; মিছিল-সমাবেশের সঙ্গে তুমুল কথার লড়াই বিতর্কের জন্ম দিলেও তা বেশি দূর গড়ায়নি।
তবে নির্বাচনের আগের দিন এসে টাকা দিয়ে ভোট কেনার কয়েকটি ঘটনায় ভোটের উৎসব খানিকটা ম্লান করে দিয়েছে।
বুধবার সৈয়দপুর বিমানবন্দরে ৭৪ লাখ টাকাসহ ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াতের আমিরকে আটক করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
ঢাকা-৬ আসনের একটি ভোটকেন্দ্রের সামনে ‘টাকা বিতরণের’ অভিযোগে একই দিন কারাদণ্ড হয় আরেক জামায়াত নেতার।
টাকা দিয়ে ভোট কেনার অভিযোগে জামায়াত নেতা আটক হয়েছেন কুমিল্লায়। একই জেলার চৌদ্দগ্রামে একই ধরনের অভিযোগে বিএনপির দুই কর্মীও আটক হয়েছেন।
ফলে ভোট উৎসবে যোগ দিতে যাওয়া মানুষের মধ্যে সুষ্ঠু ভোট হওয়া নিয়ে একটা শঙ্কা এখনও কিছুটা হলেও রয়ে গেছে।
তবে ভোটারদের সেই শঙ্কা ও দ্বিধা ভুলে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার ও নির্বাচন কমিশন।

এবারের ভোট নিয়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের অন্তত ২০ জনের সঙ্গে কথা বলেছে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম। তাদের মধ্যে নির্বাচন নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে।
ভোটারদের কেউ কেউ আইনশৃঙ্খলা নিয়ে আশঙ্কার কথা বললেও কেউ আবার নির্ভার রয়েছেন।
কুমিল্লার দেবিদ্বারের বাসিন্দা বেসরকারি চাকরিজীবী রবিউল আউয়াল বিজয় মনে করেন, চব্বিশ পরবর্তী এই নির্বাচন আর দশটা নির্বাচনের মতো হবে না।
“এই নির্বাচনে পূর্ণ গণতান্ত্রিক মতামতের প্রতিফলন ঘটবে, কিংবা টেকসই কোনো সংস্কার হবে বলে আমি বিশ্বাস করি না। তবুও দীর্ঘদিনের গণতান্ত্রিক শূন্যতা কাটিয়ে উঠতে এবং নতুন এক গণতান্ত্রিক যাত্রা শুরুর জন্য এই নির্বাচন একটি মাইলফলক হবে।”
কেউ কেউ আবার ভোট নিয়ে তেমন আগ্রহ পাচ্ছেন না। ঢাকার একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রাইসা তাবাসসুম এবারই প্রথম ভোটার হয়েছেন। কিন্তু ভোট নিয়ে তার মধ্যে তেমন কোনো আগ্রহ নেই।
রাইসা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বললেন, “ভোট দেব কিনা, এখনও জানি না।”
অন্যদিকে উত্তরা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নাদিয়া আক্তার মিম ভোট নিয়ে আশাবাদী।
তার ভাষ্য, “জেন-জিরা যেহেতু একটা ‘বিপ্লব’ করেছে, আমার মনে হয় এবার ভোট হবে একটু আলাদা।”
একই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ইরিনার ভাষ্য, “এবার রাতের ভোট হবে না, একটু ফেয়ার নির্বাচন হবে, এটাই আশা করি।”
এবার তফসিল ঘোষণার পর থেকে ৩১৭টি নির্বাচনি সহিংসতায় পাঁচজন নিহত এবং ৬১৩ জন আহত হওয়ার তথ্য দিয়েছে পুলিশ। তবে ভোটের সহিংসতায় ১৫ জনের প্রাণহানির তথ্য পাওয়া গেছে টিআইবির পরিসংখ্যানে।
এর মধ্যে তফসিল ঘোষণার পরদিন ঢাকায় গুলিবিদ্ধ হয়ে সপ্তাহ খানেক পরে প্রাণ হারান ঢাকা-৮ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দেওয়া শরীফ ওসমান হাদি। শেরপুরে বিএনপি-জামায়াতের সংঘর্ষে প্রাণ গেছে এক জামায়াত নেতার।

নির্বাচন সামনে রেখে ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নিশ্চিত না হওয়া, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির যথাযথ উন্নতি না হওয়া, প্রশাসনের ‘পক্ষপাত’সহ নানা ধরনের অভিযোগ নিয়ে কমিশনের সমালোচনা করেছে অনেক প্রার্থী ও দল।
ভোট ভণ্ডুলের মতো নানা শঙ্কা, গুজব মাড়িয়ে নির্বাচনের ট্রেন ভালোভাবে স্টেশনে পৌঁছানোকে নির্বাচন কমিশনের ‘সফলতা’ হিসেবে বর্ণনা করে বিশ্লেষক আব্দুল আলীম বলেন, “মানুষের মধ্যে শুরুতে একটা ধারণা ছিল যে পরিস্থিতি খারাপ হবে, নির্বাচন বন্ধ হয়ে যাবে, ভণ্ডুল হয়ে যাবে ইত্যাদি। কিন্তু বড় রকমের আর কোনো ঘটনা ঘটেনি; তারা নির্বাচনকে ভণ্ডুল করতে পারেনি। কাজেই এটা কিন্তু একটা বড় সফলতা।”
আব্দুল আলীম বলেন, “আরেকটা বড় জিনিস হচ্ছে যে, মাঠে ম্যাজিস্ট্রেসি পাওয়ার নিয়ে সেনাবাহিনী আছে, যেটা গত কয়েকটা নির্বাচনে দেখা যায়নি। তাদের উপস্থিতিও জনমনে এক ধরনের আশা।
“অর্থাৎ যদি শঙ্কার কোনো একটু থাকে, সেটা দূর করতে সাহায্য করবে। তারা তো বিভিন্ন আসনে রাস্তায়, অলিতে-গলিতে টহল দিচ্ছে।”
অতীতের সঙ্গে তুলনা করে এবার ভোটের পরিবেশ স্বাভাবিক দেখলেও শেষ মুহূর্তে ‘টাকার ছড়াছড়ি’ শুরু হয়ে যাওয়ার উদ্বেগ তৈরি হওয়ার কথা বলছেন বিশ্লেষক আসিফ শাহান।
তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “বাংলাদেশে তো সংঘাত সবসময় হয়ে আসছে। অন্যান্য নির্বাচনের সঙ্গে তুলনা করলে আমার মনে হয়, পরিস্থিতি স্বাভাবিকই আছে। যদিও আমরা দেখতেছি, টাকার বিস্তারটা শুরু হয়ে গেছে।
“প্রশাসনকে খুবই সতর্ক হতে হবে, যেন টাকা দিয়ে ভোটের সিদ্ধান্তটা নির্বাচিত না হয়। এবং আমি মানুষের উপর বিশ্বাস রাখি যে, টাকাপয়সা বিষয় না, মানুষ যাকে চাইবে, তাকেই ভোট দেবে।”
ভোট তথ্য
>> মোট ভোটার ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৯৩ জন।
>> পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ১৫৪ জন; নারী ভোটার ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ৫২৫ জন। হিজড়া ভোটার ১ হাজার ২২০ জন।
>> মোট ভোটকেন্দ্র ৪২,৭৭৯টি।
>> মোট ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা ৭ লাখ ৮৫ হাজার ২২৫ জন।
>> প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ২০২৮ জন (২৯৯ আসন)
>> দলীয় ১৭৫৫ জন, স্বতন্ত্র ২৭৩ জন।
>> নিবন্ধিত দল ৬০টি, ভোটে অংশ নিয়েছে ৫০টি।
>> এক লাখ সেনাসনদ্যসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রায় ৯ লাখ ৫৮ হাজার সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন।
>> নির্বাচন পরিচালনায় ব্যয় ধরা হয়েছে ১২০০ কোটি টাকা। আর আইনশৃঙ্খলা খাতে যাবে ১৫০০ কোটি টাকা।

কার ইশতেহারে কী
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে সরকার গঠন করলে দেশ ও দেশের মানুষের জন্য কোন দল কী করবে, তার যে তালিকা জাতির সামনে তুলে ধরেছে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী, সেখানে প্রতিশ্রুতির ফুলঝুরি আছে।
তাদের এই নির্বাচনি ইশতেহার নিয়ে বিশ্লেষকদের কাছ থেকে তিন ধরনের মত এসেছে, যার সারমর্ম হল–‘খুব একটা’ তফাৎ নেই দুই দলের প্রতিশ্রুতিতে।
বরং যেসব অগ্রাধিকার তাদের ইশতেহারে রয়েছে, সেগুলো কতদিনে বাস্তবায়ন করা হবে এবং তাতে কীভাবে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে, তা স্পষ্ট করা হয়নি বলে মনে করছেন তারা।
বিএনপি তাদের ইশতেহারে দেশের প্রতিটি পরিবারের নারী সদস্যের নামে 'ফ্যামিলি কার্ড', কৃষক কার্ড ও কৃষি বীমা, এক লাখ স্বাস্থ্য কর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা, শিক্ষাক্ষেত্রে 'মিড ডে মিল' বা দুপুরের খাবার, বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস এবং বাধ্যতামূলক তৃতীয় ভাষা শিক্ষার পাশাপাশি ২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ার লক্ষ্য ঘোষণা করেছে।
মোট ৫১টি বিষয়ে বিভিন্ন প্রতিশ্রুতির কথা উল্লেখ করে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, কোনো পরিকল্পনাই বাস্তবায়ন করা যাবে না যদি না দুর্নীতি দমন, আইনের শাসন ও জবাবদিহিতায় সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার না দেওয়া যায়।
এই ইশতেহারে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনা, উপ-রাষ্ট্রপতি পদ সৃষ্টি, প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ ১০ বছর, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, সংসদে উচ্চকক্ষ প্রবর্তন, উচ্চকক্ষে ১০ শতাংশ নারী, বিরোধীদলীয় ডেপুটি স্পিকার, ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধন, জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে প্রধান বিচারপতি নিয়োগ দেওয়া, জুলাই হত্যার বিচার এবং গণঅভ্যুত্থানকারীদের আইনি সুরক্ষাসহ আরও অনেক বিষয়কে স্থান দিয়েছে বিএনপি।

পাঁচ লাখ সরকারি শূন্য পদে কর্মচারী নিয়োগ, বেসরকারি চাকরিজীবীদের জন্য বেসরকারি সার্ভিস রুল প্রণয়ন করা, পেনশন ফান্ড গঠন ও বেকারভাতা চালু, আইটি খাতে ১০ লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টির কথাও বলেছে বিএনপি।
আগামীতে রাষ্ট্রক্ষমতায় গেলে ২৬টি বিষয়ে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলেছে জামায়াত। ইশতেহারে আলাদা করে ৪১ দফা প্রতিশ্রুতির কথাও তুলে ধরেছে দলটি।
জামায়াতের নির্বাচনি ইশতেহারের শাসনব্যবস্থার মৌলিক সংস্কারের অংশে বলা হয়েছে, “নারীদের মধ্য থেকে মন্ত্রিসভায় উল্লেখযোগ্য সংখ্যক প্রতিনিধি অন্তর্ভুক্ত করা হবে।”
যদিও ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে একজন নারীকেও মনোনয়ন দেয়নি জামায়াত।
নারী, শিশু ও পরিবারের উন্নয়নে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে দলটি, সেখানে পরিবার কাউন্সেলিং ও মোটিভেশন সেন্টার চালু করা, নিরাপদ বিদ্যালয় কর্মসূচি ও মানসিক স্বাস্থ্য কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা এবং বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের জন্য অনুদান ও সেবার পরিসর বাড়ানোর কথা রয়েছে।
ইশতেহারে দলটি বলেছে, জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় গেলে সততা, ঐক্য, ইনসাফ, দক্ষতা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করবে। আর এর বিপরীতে দুর্নীতি, ফ্যাসিবাদ, আধিপত্যবাদ, বেকারত্ব ও চাঁদাবাজিমুক্ত বাংলাদেশ গঠন করবে।
জামায়াতের ইশতেহারে বলা হয়, “সাত কোটি কর্মক্ষম যুবকের জন্য দুই ভাগে কর্মসংস্থান তৈরি করা হবে এবং সেটি দেশে ও দেশের বাইরে দুই জায়গাতেই করা হবে।”
জামায়াত জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৭ শতাংশে উন্নীত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। আর ২০৪০ সালের মধ্যে দেশের অর্থনীতিকে দুই ট্রিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার কথা বলেছে, যা বাস্তবসম্মত নয় বলে বিশ্লেষকরা বলছেন।
বিশ্লেষক ফরহাদ হোসেন তালুকদার বলছেন, জামায়াতের এই অঙ্কের অর্থনীতি কীভাবে অর্জিত হবে তার ‘ক্যালকুলেশন’ দেয়নি।
তিনি বলেছেন, যদি সাধারণ হিসাব করা হয়, তাহলে প্রথম ৫ বছরে জিডিপি বেড়ে হবে ৬৮০ বিলিয়ন ডলার। পরের ৫ বছরে ৯৯৯ বিলিয়ন বা এক ট্রিলিয়ন ডলার ধরা যায়। শেষ ৫ বছরে হয় ১ হাজার ৫৩৮ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ ২০৪০ সালে গিয়ে বাংলাদেশের অর্থনীতি দুই ট্রিলিয়ন নয়, বরং দেড় ট্রিলিয়ন ডলার হতে পারে।
পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে জামায়াতের এক নম্বর অগ্রাধিকার হলো, বাংলাদেশের পাসপোর্টের মর্যাদা বাড়ানো। পাশাপাশি ভারত, ভুটান, নেপাল, মিয়ানমারসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে পারস্পরিক সম্মান ও ন্যায্যতার ভিত্তিতে সম্পর্ক গড়ে তোলা।
গুণগত মানসম্পন্ন ও প্রযুক্তিনির্ভর বাহিনী গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ইশতেহারে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) বলেছে, ১৮ ঊর্ধ্ব তরুণদের জন্য বাধ্যতামূলক সামরিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে গণপ্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে।