০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩

ইরানকে সহায়তার অভিযোগে ভারত ও তুরস্কের ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠানে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা

মার্কিন কংগ্রেসে রিপাবলিকানদের পরাজয় ও ডেমোক্র্যাটদের বড় জয়ের ঠিক পরদিনই এই নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা এলো।

ইরানকে সহায়তার অভিযোগে ভারত ও তুরস্কের ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠানে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা

এই পদক্ষেপ ট্রাম্প প্রশাসনের ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’-এর অংশ। ফাইল ছবি: আল অ্যারাবিয়া

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 05 Nov 2026, 04:31 PM

Updated : 05 Nov 2026, 04:31 PM

তেহরানকে তেল বিক্রি এবং বিমান চলাচলে অবৈধ সহায়তা দেওয়ার অভিযোগে ভারত ও তুরস্কভিত্তিক বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়।

আল অ্যারাবিয়া লিখেছে, বুধবার ঘোষিত এই পদক্ষেপ প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’-এর অংশ।

এর মূল লক্ষ্য হলো যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধে তহবিল জোগাতে ইরান যাতে আন্তর্জাতিক বাজারে তেল বিক্রি করতে না পারে, তা নিশ্চিত করা।

মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে ইরান যুদ্ধ ও মূল্যস্ফীতি নিয়ে জনরোষের জেরে কংগ্রেসের দুই কক্ষেই রিপাবলিকানদের পরাজয় ও ডেমোক্র্যাটদের বড় জয়ের ঠিক পরদিনই এই নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা এলো।

মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তাদের কঠোর পদক্ষেপের ফলে ইরানের অর্থনীতি চরম বিপর্যয়ে পড়েছে; দেশটির মুদ্রা রিয়ালের মান তলানিতে ঠেকেছে এবং অভ্যন্তরীণ মূল্যস্ফীতি প্রায় ৯০ শতাংশে পৌঁছে গেছে।

মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট এক বিবৃতিতে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “আমরা জানি আপনারা কোথায় আছেন। স্থল, জল কিংবা আকাশপথ, যে মাধ্যমেই হোক না কেন, যারা ইরানি শাসকগোষ্ঠীকে সহায়তা অব্যাহত রাখবে, আমরা তাদের সবার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করব।”

মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ভারতের চণ্ডীগড়ভিত্তিক সুনীল কুমার শর্মা ও তার স্ত্রী জসপ্রিত প্রীতি শহীদের পরিচালিত একটি ‘বিশাল অপরাধ চক্র’ এই নিষেধাজ্ঞার মূল লক্ষ্য।

এই দম্পতি, তাদের প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ দুই ভারতীয় কর্মকর্তা এবং শর্মার সঙ্গে যুক্ত ৯টি প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, চক্রটি ইন্টারনেটে ডোমেইন কিনে একাধিক ভুয়া ওয়েবসাইট খোলে।

সেখানে তারা নিজেদের গায়ানা, এসওয়াতিনি ও লাওসের মতো দেশের প্রতিনিধি হিসেবে দাবি করত।

এই ওয়েবসাইটগুলোর মাধ্যমে দেওয়া হতো জাহাজের ভুয়া নিবন্ধন বা ফ্ল্যাগিং। একই সঙ্গে নাবিকদের প্রশিক্ষণ ও জাহাজের মান নির্ধারণের (ভেসেল ক্লাসিফিকেশন) জাল সনদও বিলি করা হতো।

এই জাল সনদের সুযোগ নিত ইরানি তেলবাহী জাহাজগুলো। এভাবে আন্তর্জাতিক সব বিধিনিষেধ ফাঁকি দিয়ে সাগরে নির্বিঘ্নে চলাচল করত তারা। এর মধ্যে খোদ ইরানি সামরিক বাহিনী ও তাদের ছায়া গোষ্ঠীগুলোর নিয়ন্ত্রণে থাকা নৌযানও ছিল।

ঝুঁকিপূর্ণ এই জাহাজগুলোর কোনো ‘ক্ষতিপূরণ বিমা’ (ইনডেমনিটি ইন্স্যুরেন্স) থাকত না। ফলে তারা আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ও পরিবেশ সংক্রান্ত নিয়মকানুনও মানত না।

যুক্তরাষ্ট্র সতর্ক করে বলেছে, এসব জাহাজ উপকূলীয় দেশগুলোর জন্য বড় হুমকি।

অবৈধ এসব জাহাজ যেসব দেশের আঞ্চলিক জলসীমায় (টেরিটোরিয়াল ওয়াটারস) চলাচল করছে, সেখানে কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে পরিবেশ ও অর্থনীতির শত শত কোটি ডলারের ক্ষতি হতে পারে।

এ ছাড়া মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের ‘অফিস অব ফরেন অ্যাসেটস কন্ট্রোল’ (ওএফএসি) সমুদ্র পরিবহন খাতের জন্য একটি নতুন প্রাতিষ্ঠানিক সতর্কবার্তাও জারি করেছে।

সেখানে ভুয়া পতাকাবাহী এসব জাহাজের সঙ্গে কোনো ধরনের ব্যবসায়িক সম্পর্ক রাখলে বা লেনদেন করলে নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, ইরানের ওপর আরোপিত আকাশপথের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করার দায়ে তুরস্কভিত্তিক ‘ফুগো গ্রাউন্ড সার্ভিসেস ইনকর্পোরেটেড’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের ওপরও নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে ওএফএসি।

প্রতিষ্ঠানটি তুরস্কে চলাচলকারী নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত চার ইরানি এয়ারলাইন্সকে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংসহ নানা পরিষেবা দিয়ে আসছিল। এয়ারলাইন্সগুলো হলো, ইরান এয়ার টুর, সাহা এয়ারলাইন্স, তাবান এয়ারলাইন্স ও আতা এয়ারলাইন্স।

যুদ্ধ বন্ধে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার একটি সমঝোতা স্মারক ভেস্তে যাওয়ার পর গত ১৪ জুলাই ইরানি বন্দরগুলোর ওপর ফের নৌ-অবরোধ জারি করে যুক্তরাষ্ট্র।

সেই ধারাবাহিকতায় ইরানি তেল বিক্রির পথ আরও সংকুচিত করতেই এবার ভারত ও তুরস্কের এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হল।