০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩

যুক্তরাজ্যে বৈধভাবে স্থায়ী হতে বেশির ভাগের ১০ বছর অপেক্ষা করতে হবে

নতুন অভিবাসন নীতি ঘোষণা করেছেন ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। নতুন নিয়মে বৈধ অভিবাসীদের আয়ের ওপর ভিত্তি করে সময় ঠিক হবে।

যুক্তরাজ্যে বৈধভাবে স্থায়ী হতে বেশির ভাগের  ১০ বছর অপেক্ষা করতে হবে

শাবানা মাহমুদ। ছবি: রয়টার্স

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 03 Nov 2026, 01:11 AM

Updated : 03 Nov 2026, 01:37 AM

ব্রিটেনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ পার্লামেন্টে অভিবাসন নিয়ে নতুন নীতি ঘোষণা করেছেন। এই নতুন নীতিতে স্থায়ী বসবাসের নিয়ম থেকে শুরু করে শরণার্থী আইন পর্যন্ত বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়েছে।

বৈধ অভিবাসীদের জন্য স্থায়ী বসবাসের অনুমতি বা 'ইনডেফিনিট লিভ টু রিমেইন' (আইএলআর) পাওয়া বা অপেক্ষার সময়সীমা ৫ বছর থেকে বাড়িয়ে ১০ বছর করা হয়েছে।

সোমবার ওয়েস্টমিনস্টারের হাউস অব কমন্সে শাবানার এই চূড়ান্ত নীতিমালা উপস্থাপন করেন।

আইএলআর পাওয়ার মাধ্যমে বিদেশি নাগরিকরা যুক্তরাজ্যে স্থায়ীভাবে বাস করা, কাজ, পড়াশোনা এবং সরকারি বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা ও ভাতা (বেনিফিট) পাওয়ার আইনি অধিকার অর্জন করে।

২০২৫ সালের নভেম্বরে ঘোষিত প্রাথমিক প্রস্তাবে আইএলআর পাওয়ার বর্তমান ৫ বছরের অপেক্ষার সময়সীমা বাড়ানোর কথা বলা হয়েছিল।

বিশেষ করে বিদেশি কেয়ার কর্মী বা সেবা কর্মীদের ক্ষেত্রে স্থায়ী বসবাসের আবেদনের মেয়াদ ১৫ বছর পর্যন্ত করার পরিকল্পনা ছিল সরকারের। তবে চূড়ান্ত নীতিমালায় যুক্তরাজ্যে ইতিমধ্যে অবস্থান করা সোশাল কেয়ার কর্মীদের এই দীর্ঘ অপেক্ষার আওতামুক্ত রেখে ছাড় দেওয়া হয়েছে।

তীব্র রাজনৈতিক ও সামাজিক বিরোধিতার মুখে চূড়ান্ত নীতিমালায় শাবানা ওই সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছেন। কেয়ার কর্মীদের জন্য ১৫ বছর অপেক্ষার নিয়ম রাখা হয়নি। এমনকি কম আয়ের অন্য কোনও বৈধ কর্মীকেও ১৫ বছর অপেক্ষা করতে হবে না।

যারা ২০২৫ সালের মে মাসের আগে কেয়ার বা সোশাল কেয়ার ভিসায় যুক্তরাজ্যে গেছেন তারা আগের নিয়মেই মাত্র ৫ বছর পূর্ণ হলে স্থায়ী বসবাসের আইএলআর আবেদন করতে পারবেন।

তবে এই ছাড় পাওয়ার জন্য দুটি শর্ত দেওয়া হয়েছে— কেয়ার কর্মীকে তার ভিসার শর্ত মেনে চলতে হবে এবং আবেদন করার আগের ১২ মাসে তার বার্ষিক আয় অন্তত ২৫,০০০ পাউন্ড হতে হবে।

মহামারীর সময়ে ও পরবর্তী সময়ে যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্য খাতে বিদেশি কেয়ার কর্মীদের অবদানের কথা বিবেচনা করেই চূড়ান্ত নীতিমালায় তাদেরকে বিশেষ ছাড় দেওয়া হয়েছে।

আগে যে কোনও বৈধ অভিবাসী নির্দিষ্ট ভিসায় টানা ৫ বছর যুক্তরাজ্যে থাকলে প্রায় স্বয়ংক্রিয়ভাবেই স্থায়ী বসবাসের আবেদন করতে পারতেন। এখন বলা হয়েছে, স্থায়ী বসবাস বা আইএলআর কোনো সাধারণ অধিকার নয়, এটি তার যোগ্যতা ও অবদান দিয়ে 'অর্জন' করতে হবে।

সাধারণ স্কিলড ওয়ার্কার বা অন্যান্য বৈধ ভিসাধারীদের ক্ষেত্রে এই নিয়ম কার্যকর হওয়ার পর, স্থায়ী বসবাসের যোগ্য হতে হলে আগের ৫ বছরের জায়গায় এখন ১০ বছর বৈধভাবে যুক্তরাজ্যে থাকা এবং কাজ করতে হবে।

নতুন নিয়মে বৈধ অভিবাসীদের আয়ের ওপর ভিত্তি করে সময় ঠিক হবে। যেমন: বছরে ১,২৫,০০০ পাউন্ডের বেশি আয় করা উচ্চ দক্ষ অভিবাসীরা ৩ বছরেই স্থায়ী হতে পারবেন।

বছরে ৫০,২৭১ পাউন্ডের বেশি আয় করা কর্মী এবং ডাক্তার, নার্স ও শিক্ষকরা ৫ বছরে স্থায়ী হতে পারবেন। কিন্তু এর চেয়ে কম আয় করা বাকি সব সাধারণ বৈধ অভিবাসীদের ১০ বছর অপেক্ষা করতে হবে।

কোনও বৈধ অভিবাসী ভিসার শর্ত ভঙ্গ করলে কিংবা নির্দিষ্ট কিছু সরকারি ভাতা দাবি করলে তার জন্য এই অপেক্ষার সময়সীমা বেড়ে ২০ বছর হবে।

আর ছোট নৌকায় করে অবৈধভাবে যুক্তরাজ্যে যাওয়া ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এই অপেক্ষার সময় ২০ থেকে ৩০ বছর পর্যন্ত হতে পারে।

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নাম গত সপ্তাহে বলেছিলেন, আইএলআর হল ‘যোগ্যতা দিয়ে অর্জন করার মতো অধিকার’।

যুক্তরাজ্যে সাবেক কনজারভেটিভ সরকারের আমলে ব্রেক্সিট-পরবর্তী রেকর্ড অভিবাসনের পর বিপুলসংখ্যক বৈধ অভিবাসী আইএলআরের যোগ্যতার কাছাকাছি পৌঁছে যাওয়ায় এই কড়াকড়ির উদ্যোগ নেওয়া হল।

মাইগ্রেশন অ্যাডভাইজরি কমিটির তথ্য উদ্ধৃত করে ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ জানান, এসব অভিবাসীদের আজীবন সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে যুক্তরাজ্যের করদাতাদের প্রায় ১ হাজার কোটি (১০ বিলিয়ন) পাউন্ড খরচ হতে পারে।

গত মার্চে এক বক্তৃতায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গত চার দশকে দেশটিতে মোট যে পরিমাণ অভিবাসন হয়েছে, ২০২১ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে একই মাত্রার জনস্রোত এসেছে।

তিনি সতর্ক করে বলেন, আগামী পাঁচ বছরে হেলথ অ্যান্ড সোশাল কেয়ার ভিসায় ঢোকা প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার নিম্ন-দক্ষ কর্মী ও তাদের ওপর নির্ভরশীল ব্যক্তিরা স্থায়ী বসবাসের যোগ্যতা অর্জন করবেন এবং বিভিন্ন সরকারি সুবিধার আওতায় আসবেন।

প্রস্তাবিত সংস্কারের ওপর সরকারের বছরব্যাপী গণপরামর্শে ২ লাখেরও বেশি মতামত জমা পড়ে। নীতি ঘোষণার আগেই লেবার পার্টির পাশাপাশি তীব্র বিরোধিতার মুখে পড়েন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

রিফর্ম ইউকে দলের নেতা নাইজেল ফারাজ বলেন, যারা নেট অভিবাসন ঋণাত্মক দেখতে চান, তাদের ক্ষুব্ধ হওয়াটাই স্বাভাবিক। তিনি আইএলআর ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বাতিল এবং অতীতে দেওয়া স্থায়ী মর্যাদাও প্রত্যাহারের দাবি জানান।

কনজারভেটিভ দলের ছায়া স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস ফিলপ অভিযোগ করেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যাঞ্জেলা রেনার এবং লেবার দলের উন্মুক্ত সীমান্তপন্থি বাম অংশের কাছে নতি স্বীকার করেছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তিনি লিখেছেন, এর মাধ্যমে লাখ লাখ স্বল্প আয়ের ও উপার্জনহীন অভিবাসীকে যুক্তরাজ্যে আজীবন থাকা এবং সরকারি ভাতা ভোগের সুযোগ করে দেওয়া হচ্ছে।