নিউ হ্যাম্পশায়ার প্রাইমারিতে মুখোমুখি ট্রাম্প, হ্যালি

গত সপ্তাহে আইওয়া রাজ্য ককাসের ভোটে সাবেক প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বিপুল জয়ের পর হ্যাম্পশায়ারে এই প্রাইমারি হচ্ছে।

নিউজ ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 23 Jan 2024, 02:19 PM
Updated : 23 Jan 2024, 02:19 PM

যুক্তরাষ্ট্রে ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থী বাছাইয়ে মঙ্গলবার নিউ হ্যাম্পশায়ার প্রাইমারির ভোটে সাবেক প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প তার একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী নিকি হ্যালির মুখোমুখি প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অবতীর্ণ হয়েছেন।

ট্রাম্প আশা করছেন তিনি সাউথ ক্যারোলাইনার সাবেক গভর্নর রিপাবলিকান নিকি হ্যালিকে পরাজিত করতে পারবেন। ওদিকে, হ্যালির আশা নিউ হ্যাম্পশায়ারের নিরপেক্ষ ভোটাররে ব্লক তাকে জয়ের পথে নিয়ে যেতে সাহায্য করবে।

গত সপ্তাহে আইওয়া রাজ্য ককাসের ভোটে ট্রাম্পের বিপুল জয়ের পর হ্যাম্পশায়ারে এই প্রাইমারি হচ্ছে।

আগামী নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকানদলের প্রার্থী কে হবেন, তা বাছাইয়ের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল আইওয়া রাজ্য থেকে। সেখানে বড় জয় পেয়েছেন ট্রাম্প।

এর মধ্য দিয়ে ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকানদের প্রার্থী হওয়ার পথে অবস্থান পাকা করে ফেলেছেন। ওদিকে, হ্যালির জন্য সময় ফুরিয়ে আসছে। নিউ হ্যাম্পশায়ারে ভাল ফল করতে না পারলে তার প্রার্থী হওয়া আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়বে।

ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট থাকার সময় জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ছিলেন নিকি হ্যালি। রিপাবলিকানদের প্রার্থী হওয়ার লড়াইয়ে ট্রাম্পের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসাবে হ্যালি ছাড়াও ছিলেন ফ্লোরিডা রাজ্যের গভর্নর রন ডি স্যান্টিস।

কিন্তু ডিস্যান্টিস গত সপ্তাহান্তে এ লড়াই থেকে সরে দাঁড়ান। একইসঙ্গে তিনি ট্রাম্পকে সমর্থন দেন। ফলে এখন ট্রাম্পের একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে মাঠে আছেন হ্যালি।

রিপাবলিকান প্রার্থিতার দৌড়ে অবশেষে যিনি জিতবেন তিনিই প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। আর সেই প্রার্থী হতে পারেন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন।

রিপাবলিকান প্রার্থিতায় ট্রাম্প উঠে এলে এবারও সেই ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের মতো বাইডেনের সঙ্গে তার মোকবেলা হবে।

নিউ হ্যাম্পশায়ারের প্রাইমারিতে ডেমোক্র্যাটরাও ভোট দিচ্ছে মঙ্গলবার। কিন্তু জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ে দলের কর্মকর্তাদের মধ্যে বিরাধ থাকার কারণে এবারই প্রথম দায়িত্বে থাকা একজন প্রেসিডেন্ট হিসাবে বাইডেন ভোটে উপস্থিত থাকছেন না।

নিউ হ্যাম্পশায়ারে রিপাবলিকান প্রার্থিতার দৌড় থেকে সান্টিস সরে যাওয়ার আগে বহু জনমত জরিপে ট্রাম্পকেই দুই অঙ্ক সমর্থন পেয়ে এগিয়ে থাকতে দেখা গেছে।

বেশির ভাগ জরিপেই দেখা যাচ্ছে, ফ্লোরিডার গভর্নর স্যান্টিসের অনেক সমর্থক ট্রাম্পকেই আগামী প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিসাবে সবচেয়ে ভাল বিকল্প বলে মনে করছে।

মঙ্গলবার সকালে সাফোক বিশ্ববিদ্যালয় এবং বোস্টন গ্লোবের নতুন জরিপের ফলে দেখা গেছে, ট্রাম্প ১৯ পয়েন্টে নিকি হ্যালির চেয়ে এগিয়ে আছেন। ট্রাম্প পাচ্ছেন ৫৭ শতাংশ সমর্থন আর নিকি হ্যালি পাচ্ছেন ৩৮ শতাংশ সমর্থন।

মনমাউথ বিশ্ববিদ্যালয় এবং ওয়াশিংটন পোস্টের দ্বিতীয় আরেকটি জরিপে দেখা গেছে, হ্যালির চেয়ে ১৮ পয়েন্টে এগিয়ে আছেন ট্রাম্প। তিনি পাচ্ছেন ৫২ শতাংশ সমর্থন আর নিকি হ্যালি ৩৪ শতাংশ।

দুইজনই ভোটারদের দলে টানতে একে অপরকে আক্রমণ করে কথা বলেন। সোমবার রাতে ল্যাকোনিয়া, নিউ হ্যাম্পশায়ারে ট্রাম্প বলেন, দেশ যে নরকে গেছে এবং আমরা গেম খেলছিনা সেই সংকেত পাঠাতে তার প্রচারশিবিরকে বড় ভোটের ব্যবধানে জিততেই হবে।

তিনি আরও বলেন, “আপনারা আমেরিকাকে সবশেষে রাখা একজন হারু প্রার্থীকে চাইলে নিকি হ্যালিকে ভোট দিন।”

ওদিকে, হ্যালি তার বক্তব্যে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ঝুলে থাকা একাধি ফৌজদারি মামলার কথা ভোটারদের স্মরণ করিয়ে দেন এবং বলেন, ট্রাম্প কেবলই অতীতের ক্ষোভ-দুঃখ ঝাড়েন এবং প্রতিশোধ নিয়ে কথা বলেন। মঙ্গলবারের ভোটে আপনারা কি একই জিনিস চান না নতুন কিছু চান? প্রশ্ন রাখেন হ্যালি।

নিউ হ্যাম্পশায়ারের বেশিরভাগ ভোটারই মঙ্গলবার দিনেই ভোট দেবেন। তবে ছোট্ট ডিক্সভির নচ এর বাসিন্দারা কয়েক দশকের পুরোনো ঐতিহ্য মেনে মধ্যরাতেই ভোট দেবেন। এই শহরটির নিবন্ধিত সব ভোটারই নিকি হ্যালিকে বেছে নিয়েছে।