Published : 02 Mar 2023, 08:03 PM
ভারতের রাজধানী দিল্লিতে বিশ্বের বৃহৎ অর্থনীতির দেশগুলোর জোট জি২০’র পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের আলোচনায় কণ্টকাকীর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে ইউক্রেইন।
ইউক্রেইন যুদ্ধ নিয়ে তীব্র মতবিরোধে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হয়েছে। যার জেরে এর আগে ব্যাঙ্গালুরুর জি-২০ অর্থমন্ত্রীদের সম্মেলনের মতো দিল্লির এই সম্মেলনেও কোনও যৌথ বিবৃতি আসছে না বলে জানিয়েছে আয়োজক দেশ ভারত।
ইউক্রেইন যুদ্ধ শুরুর একবছর পর এই সম্মেলনেই প্রথম মুখোমুখি বৈঠক করেছেন যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী। পরে একে অপরকে কটাক্ষ করে কথাও বলেছেন তারা।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিনকেন বলেছেন, ইউক্রেইনে বিনা উস্কানিতে রাশিয়ার আগ্রাসন এবং অন্যায় যুদ্ধের কারণে বৈঠকের আলোচনা পণ্ড হয়েছে।
ওদিকে, রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ পশ্চিমাদের বিরুদ্ধে ‘ব্ল্যাকমেইল এবং হুমকি’ সৃষ্টির অভিযোগ করেছেন বলে জানিয়েছে বিবিসি।
বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, পশ্চিমা দেশগুলো নিরপেক্ষ দেশগুলোর ওপর প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে, যাতে তারা ইউক্রেইনে যুদ্ধের নিন্দা জানায়। পশ্চিমারা সবকিছুতে এবং প্রত্যেককেই চাপ দেওয়ার চেষ্টা করছে।
ভারত জানায়, তারা ইউক্রেইন যুদ্ধ থেকে আলোচনা অন্যদিকে ফেরাতে উন্নয়নশীল দেশগুলোর উপর প্রভাব ফেলা বিভিন্ন বিষয়ের উপর আলোকপাত করতে চেয়েছিল। কিন্তু ইউক্রেইন নিয়ে তর্কাতর্কি স্তিমিত করা যায়নি।
ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জয়শংকর বলেছেন, “আমরা চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু বিভিন্ন দেশের মধ্যে তীব্র মতবিরোধ ছিল।”
বর্তমানে জি২০ জোটের প্রেসিডেন্টের দায়িত্বে আছে ভারত। গত সপ্তাহে দেশটিতে হয়ে গেলো জি২০ জোটের অর্থমন্ত্রীদের সম্মেলন। যেখানে রাশিয়া-ইউক্রেইন যুদ্ধ নিয়ে ঐক্যমত্যে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়েছিলেন নেতারা।
ভারতের নেতৃত্বে এবার দ্বিতীয় শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা দিল্লিতে আলোচনায় বসেছেন। সম্মেলনের ফাঁকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্লিনকেন এবং রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ল্যাভরভ প্রায় ১০ মিনিট বৈঠক করেন।
বৈঠকে যতদিন প্রয়োজন ততদিন ইউক্রেইনের পাশে থাকবেন বলে জানিয়েছেন ব্লিনকেন। নিউ স্টার্ট চুক্তিতে ফিরে আসার জন্য রাশিয়াকে আহ্বানও জানিয়েছেন তিনি।
ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে উত্তেজনার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে করা পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের এই চুক্তি থেকে রাশিয়া সরে এসেছে। রাশিয়ার কর্মকর্তারা ব্লিনকেনের সঙ্গে বৃহস্পতিবার ল্যাভরভের কোনও বৈঠক হওয়ার কথা অস্বীকার করেছেন।
বৈঠকের পর ল্যাভরভ বলেছেন, পশ্চিমা পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের আচার-আচরণ ভাল না। তারা কূটনীতি নিয়ে আর ভাবছে না। তারা কেবল এখন ব্ল্যাকমেইল করছে, আর সবাইকে হুমকি দিয়ে বেড়াচ্ছে।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সম্মেলনের আলোচনায় ইউক্রেইন যুদ্ধ নিয়ে সরাসরি কোনও কথাই বলেননি। বরং গত কয়েক বছরের অর্থনৈতিক সংকট, জলবায়ু পরিবর্তন, মহামারী, সন্ত্রাসবাদ, মানবিক সহায়তার মতো বিষয়গুলোতে আলোকপাত করে সম্মেলনের অধিবেশন শুরু করেন তিনি।
জি-২০ আলোচনা শুরুর আগে ভারতের এক কূটনীতিক বিবিসিকে বলেছিলেন, প্রতিনিধিদেরকে ইউক্রেইন যুদ্ধ নিয়ে বাকবিতন্ডা থেকে দূরে রাখতে ভারতকে বিশেষ একটা কিছু করতে হবে। ভারতের কূটনীতিকরা কম বিতর্কিত রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে মতৈক্যে পৌঁছানোর জন্য কাজও করেছিলেন।
কিন্তু বৃহস্পতিবারের আলোচনার পর ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জয়শঙ্কর চেয়ারম্যান হিসাবে বৈঠকের সারসংক্ষেপ পেশ করেন। যার মানে হচ্ছে, বৈঠকে অংশগ্রহণকারীরা যৌথ বিবৃতিতে পৌঁছতে পারেনি।
জয়শঙ্কর বলেন, “সম্মেলনে বহু বিষয় ছিল। আরও খোলাখুলি বলতে গেলে সম্মেলনের অংশগ্রহনকারীরা ইউক্রেইন যুদ্ধ নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিল। এই যুদ্ধ নিয়ে তাদের মধ্যে মতবিরোধ ছিল। কিছু দেশের মেরুপ্রবণ দৃষ্টিভঙ্গির কারণে আমরা এই সম্মেলনে সেতুবন্ধন গড়তে পারিনি।”