Published : 24 Jun 2026, 09:44 PM
জেলা ও উপজেলার হাসপাতালগুলোর টয়লেট পরিষ্কারের দায়িত্ব সাংবাদিকদের দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাসপাতাল শাখার উপপরিচালক ডা. সৈয়দ আবু আহাম্মদ শাফী।
বুধবার সকালে ফেইসবুকে এক পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন। পরে সেই পোস্ট মুছে দিয়ে আগের পোস্ট দেওয়ার ব্যাখ্যাও দেন তিনি।
সকালের পোস্টে ডা. শাফী লেখেন, “আন্তঃমন্ত্রণালয়ের উচ্চ পর্যায়ে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিয়ে তথ্য মন্ত্রণালয় ও তাদের অধিনস্থ সাংবাদিকদের বাংলাদেশের ৬০০ জেলা ও উপজেলা হাসপাতালের বাথরুম, টয়লেটসহ হাসপাতাল বিল্ডিংয়ের আভ্যন্তরীণ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার দায়িত্ব দেওয়া উচিত, অন্তত এক অর্থবছরের জন্যে।
“যদি তারা সফল হোন, তাহলে তাদেরকে স্থায়ীভাবে এই দায়িত্বটি দেওয়া যেতে পারে। রাষ্ট্রের কাজ, রাষ্ট্রের জনগণের কল্যাণের কাজ, যে ভালো পারবে, তাকেই দেওয়া উচিৎ বলে আমি মনে করি।”
তবে কোন প্রেক্ষাপটে তিনি এ পোস্ট দিলেন তা লেখেননি তিনি।
কয়েক ঘণ্টা পর এই পোস্ট ডিলিট করে ব্যাখ্যা হিসেবে আরেক পোস্টে উপ পরিচালক লেখেন, “আজ সকালে হাসপাতালের অভ্যন্তরীণ পরিচ্ছন্নতা নিয়ে একটা পোস্ট দিয়েছিলাম। লিখেছিলাম, হাসপাতালের অভ্যন্তরের সকল পরিচ্ছন্নতার দায়িত্ব এক বছরের জন্য তথ্য মন্ত্রণালয়ে এবং সাংবাদিকদের দায়িত্বে ছেড়ে দিয়ে দেখা যেতে পেরে। যদি তারা একবছরে সফল হয়, তাহলে এই অংশের দায়িত্ব স্থায়ীভাবে দিয়ে দেওয়া যেতে পারে।

“এই পোস্ট পেয়ে আমার কাছের মানুষ, আমার চেনাজানা সাংবাদিক ভাইয়েরা কষ্ট পেয়ে আমাকে ফোন দিয়েছেন যে, কেন আমি এমন একটি পোস্ট দিলাম এবং এটি দিয়ে তাদেরকে অসম্মানিত করলাম কিনা বা আমি আমার অবস্থান থেকে এমনটা লিখতে পারি কিনা। উনাদের কষ্ট জেনে আমি পোস্টটি সরিয়ে নিয়েছি। কিন্তু কেন এটি দিয়েছিলাম, সেটি তো সবাইকে জানতে হবে।
“প্রথমত, দীর্ঘদিন যাবৎ অনলাইন, অফলাইন, সর্বত্র হাসপাতালগুলোর ওয়ার্ড, বারান্দা, বাথরুম, টয়লেট ইত্যাদির পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা নিয়ে এমনভাবে নিউজ হচ্ছে প্রতিনিয়ত যে, এটা এখন একরকম প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেছে যে হাসপাতালের দায়িত্বপ্রাপ্তরা পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে ব্যার্থ।
“দ্বিতীয়ত, যেহেতু এই ব্যার্থতার বিষয়টি সাংবাদিক ভাইয়েরাই প্রমাণ করেন, সে ক্ষেত্রে তাদেরকে দায়িত্বটা দেওয়া হলে কোন কার্যকর কিছু হতে পারে, এমনটা ভাবাই স্বাভাবিক। কারণ, এই যে দিনের পর দিন এই বিষয়গুলো নিয়ে ডাক্তারদের বিরুদ্ধে নিউজ হচ্ছে এবং ডাক্তাররা জাতির চোখে শত্রুতে পরিণত হচ্ছে, কিন্তু এর টোটাল কাহিনীটা সাংবাদিক ভাইয়েরা কেউ তুলে ধরেন না। অথচ একটি সঠিক খবর প্রকাশের ক্ষেত্রে সংবাদের পুরোদিকটি তুলে ধরার নৈতিক দায় থাকা উচিৎ।“
দীর্ঘ এ পোস্টে তিনি হাসপাতাগুলোর জরাজীর্ণ অবস্থা ও বেশি রোগী থাকার কথা তুলে ধরেন।
এ পোস্ট দেওয়ার বিষয়ে জানতে ডা. শাফীকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
তবে সন্ধ্যায় নিজের ফেইসবুক প্রোফাইলে আরেকটি পোস্টে এ বিষয়ে তিনি লেখেন, “আমি বলেছি, হাসপাতালের দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক যখন পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার দায়িত্বে ব্যার্থ, সেই দায়িত্ব ডাক্তারের পরিবর্তে সাংবাদিকদের দেয়ার কথা। এর অর্থ, তারা দায়িত্বটা নিবে। এর মানে কখনই এটা বুঝানো হয়নি হয়নি যে, এটা তারা নিজে করবে। ব্যাবস্থাপনাটা তারা করবে, যেটি ডাক্তার পারছে না, এটি সুস্পষ্টভাবেই বলা হয়েছে। তারা দায়িত্ব নিয়ে সঠিক উপায়টা খুঁজে বার করবে।“
এ বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. জাহিদ রায়হান বলেন, “আমি ফেইসবুক পোস্টের বিষয়ে এখনো জানি না এবং দেখিওনি। কেন বা কী নিয়ে পোস্ট করেছে। আগামীকাল অফিস সময়ে বিষয়টি দেখব।”