Published : 21 May 2026, 11:13 PM
তাইওয়ানের কাছে অস্ত্র বিক্রির সম্ভাবনা নিয়ে দ্বীপদেশটির প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তের সঙ্গে কথা বলবেন বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। এটি ঘটলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের চার দশকেরও বেশি সময়ের কূটনৈতিক রীতি ভেঙে পড়বে এবং চীন এতে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারে।
১৯৭৯ সালে চীন সরকারকে স্বীকৃতি দিয়ে তাইওয়ানের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক সম্পর্ক ছিন্ন করার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের কোনও প্রেসিডেন্ট এ পর্যন্ত তাইওয়ানের কোনও নেতার সঙ্গে সরাসরি কথা বলেননি।
তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ড বলে দাবি করে আসা চীন প্রয়োজনে শক্তি প্রয়োগ করে হলেও দ্বীপটি দখলের সম্ভাবনা নাকচ করেনি। ওদিকে, যুক্তরাষ্ট্র স্বশাসিত দ্বীপ তাইওয়ানকে দীর্ঘদিন থেকেই সমর্থন করে আসছে এবং তাদের আত্মরক্ষায় সহায়তা করার ক্ষেত্রেও যুক্তরাষ্ট্রের আইনগত বাধ্যবাধকতা আছে।
১৯৭৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের পাস করা ‘তাইওয়ান রিলেশনস অ্যাক্ট’ আওতায় দ্বীপদেশটিকে ‘আত্মরক্ষার জন্য অস্ত্র সরবরাহ’ করতে পারে ওয়াশিংটন। সেকারণেই তাইওয়ানের কাছে তারা ক্রমাগত অস্ত্র বিক্রি করে আসছে।
তবে আইনগত এই বাধ্যবাধকতা থাকার পরও বেইজিংয়ের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখতে যুক্তরাষ্ট্রকে সবসময়ই ভারসাম্য বজায় রেখে চলতে হয়।
২০১৬ সালে ট্রাম্প তার প্রথম প্রেসিডেন্সির মেয়াদে তাইওয়ানের তৎকালীন নেতা সাই ইং-ওয়েনের সঙ্গে ফোনে কথা বলার পর চীন ক্ষুব্ধ হয়েছিল।
২০২৪ সালে তাইওয়ানের ক্ষমতায় এসেছেন বর্তমান প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দ্বীপটির প্রতিরক্ষাব্যবস্থা জোরদার করার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় উদ্যোগ নিয়েছেন তিনি।
বুধবার তাইওয়ানের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র বিক্রির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে লাই চিং-তের সঙ্গে কথা বলবেন কি না, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, “আমি তার সঙ্গে কথা বলব। আমি সবার সঙ্গেই কথা বলি...আমরা তাইওয়ান সমস্যা নিয়ে কাজ করব।”
ট্রাম্প একইসঙ্গে গত সপ্তাহে চীনে দুই দিনের দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ সম্মেলনের প্রসঙ্গ টেনে তার সঙ্গে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সম্পর্ককে ‘অসাধারণ’ বলেও উল্লেখ করেন।
তবে ট্রাম্পের ঘোষণায় চীন এরই মধ্যে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। বৃহস্পতিবার চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র ও তাইওয়ানের মধ্যে কোনও ধরনের দাপ্তরিক যোগাযোগ এবং মার্কিন অস্ত্র বিক্রির ঘোর বিরোধিতা করে চীন।” যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করে দিয়ে চীন বলেছে, তারা যেন তাইওয়ানের ‘বিচ্ছিন্নতাবাদী শক্তি’কে কোনও ভুল বার্তা না দেয়।
তাইওয়ানের কাছে ১ হাজার ৪০০ কোটি ডলারের অস্ত্র বিক্রির পরিকল্পনা রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের। তবে এ বিষয়ে ট্রাম্প এখনও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি। এই প্যাকেজে ড্রোন-বিধ্বংসী সরঞ্জাম এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা রয়েছে বলে শোনা গেছে।
‘দ্য ফিন্যান্সিয়াল টাইমস’ পত্রিকার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প এই অস্ত্র চুক্তির বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত নেন, তা না জানা পর্যন্ত পেন্টাগনের শীর্ষ নীতি নির্ধারণী কর্মকর্তা এলব্রিজ কোলবির বেইজিং সফর অনুমোদন করছে না চীন।
এর আগে গত সপ্তাহে চীন সফর শেষে ফেরার পথে এয়ার ফোর্স ওয়ানে ট্রাম্প বলেছিলেন, তাইওয়ানের কাছে অস্ত্র বিক্রির বিষয়ে তিনি খুব শিগগিরই সিদ্ধান্ত নেবেন।
তিনি তখন ইঙ্গিত দেন, তাইওয়ান যিনি চালাচ্ছেন তার সঙ্গে তাকে কথা বলতে হবে। তবে চীনে শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকের সময় তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন যে, তাইওয়ান দুই দেশের সম্পর্কের সবচেয়ে বড় সংবেদনশীল বিষয়। শি সতর্ক করেছিলেন, এটি সঠিকভাবে সামলানো না গেলে দুই পরাশক্তির মধ্যে সংঘাত বাধতে পারে।
ট্রাম্প অবশ্য তাইওয়ান নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চীনের সংঘাতের সম্ভাবনা উড়িয়ে দিয়েছেন। তবে তিনি স্বীকারও করেছেন যে, শি জিনপিং তাইওয়ান নিয়ে অত্যন্ত কঠোর অবস্থানে আছেন। এ বিষয়ে এয়ারফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেছিলেন, “আমি কোনও পক্ষকেই কোনওরকম প্রতিশ্রুতি দিইনি।”
ওদিকে, তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তে সাফ জানিয়েছেন, তাইওয়ান একটি সার্বভৌম ও স্বাধীন দেশ এবং এই অঞ্চলের শান্তির বিনিময়ে কোনো আপস করা হবে না।
বৃহস্পতিবার তাইওয়ানের পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয় থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তে বলেন, “তাইওয়ান প্রণালিতে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। চীনই মূলত এ অঞ্চলের শান্তি ও স্থিতিশীলতার মূল বিঘ্ন সৃষ্টিকারী।”
ট্রাম্পের সঙ্গে এই আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও দ্বিপক্ষীয় বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করতে পারলে লাই চিং-তে খুবই খুশি হবেন বলে বিবৃতিতে জানানো হয়।